১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

অনলাইনে ইফতার বাজার

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুন ০৭ ২০১৬, ০৭:১৫ | 661 বার পঠিত

17325_f3নয়া আলো- দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন ইফতার বাজার। ঘরে বসেই পাওয়া যাবে পছন্দের ইফতার। রাজধানীর তিনটি
প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ইফতারের অর্ডার নিয়ে বাসায় পৌঁছে দিবে।  হাঙ্গরিনাকি, ফুডপান্ডা ও ফুডমার্ট নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অর্ডার নেয়া শুরু করেছে। রমজানের প্রথম দিন থেকেই তারা গ্রাহকদের কাছে তুলে দেবে চাহিদা অনুযায়ী ইফতার। রাজধানীর যে কোনো এলাকার জন্য এ সুবিধা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকরা যে এলাকায় বসবাস করেন সে এলাকার নামকরা রেস্টুরেন্টের খাবার সরবরাহ করবে। অনলাইন ছাড়াও মোবাইল অ্যাপস কিংবা মুঠোফোনে অর্ডার দিয়েও খাবার পাওয়া যাবে। প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, দিন দিনই অনলাইনে খাবারের চাহিদা বাড়ছে। আর রমজানে রেস্টুরেন্টগুলোর খাবার তালিকায় থাকে বাড়তি চমক।
ক’বছর আগে থেকেই বেশকিছু চেইন রেস্তরাঁ হোম ডেলিভারি সেবা দিচ্ছে। প্রথমদিকে ডোমিনাস পিৎজা, পিৎজা ইন, পিৎজা হাট হোম ডেলিভারি সুবিধা দিয়ে আসছিল। এর সঙ্গে বর্তমানে বিএফসি, শর্মা হাউস, কেএফসি, নান্দুসের মতো চেইন রেস্তরাঁও হোম ডেলিভারি সুবিধা চালু করেছে। তবে তাদের গ্রাহকসেবা নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই হোম  ডেলিভারি সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলো কিছু প্রতিষ্ঠান, যারা গ্রাহকদের পছন্দের রেস্তরাঁ থেকে নগরীর যেকোনো এলাকায় খাবার  পৌঁছে দেয়। শুধু খাবারের অর্ডার সংগ্রহ করাই তাদের কাজ। অর্ডারকারীর পছন্দের খাবার, পছন্দের জায়গা থেকে ঘরে  পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে খাবার অর্ডার করতে পারেন যে কেউ। ওয়েবসাইটে বা ফোন করে অর্ডার করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে  ক্রেতার কাছে খাবার পৌঁছে দেয়া হয়। কিছু নিয়মকানুন মেনে এ  সেবার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকে।
হাঙ্গরিনাকির বিপণন ব্যবস্থাপক সাইফুল ইমাম বলেন, অনলাইনে অর্ডার নিয়ে বাসাবাড়িতে খাবার  পৌঁছে দেয়ার কাজটি তারাই প্রথম শুরু করেছিলেন। রমজান উপলক্ষে রেস্তরাঁগুলোতে থাকে বাড়তি আয়োজন। বিকাল ৪টার মধ্যে ইফতারের জন্য অর্ডার দিলেই ঘরে বসে পাওয়া যায় পছন্দের রেস্টুরেন্টের ইফতার।  প্রায় এক হাজারেরও বেশি রেস্তরাঁর সঙ্গে বর্তমানে কাজ করছেন তারা। তিনি বলেন, তারা ঢাকাকে আটটি ভাগে ভাগ করেছেন। যেকোনো জায়গায় ওই এলাকার রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার  পৌঁছাতে তাদের সময় লাগে এক ঘণ্টা। কেবল ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেটে কাজ করছেন তারা। তিনি জানান, বিশেষভাবে খাবার  পৌঁছে দেয়া হয়, যাতে খাবার গরম থাকে; আবার ঠাণ্ডা খাবার থাকে ঠাণ্ডা। ২০১৩ সালের অক্টোবরে মাত্র পাঁচটা বাইসাইকেল আর ১০টা  মোটরসাইকেল নিয়ে তারা কাজ শুরু করেন। এখন তাদের ৮০টি  মোটরসাইকেল রয়েছে। তাদের ওয়েবসাইড হলো-িি.িযঁহমৎুহধশর.পড়স.নফ.
ফুডমার্টের খাবার সরবরাহ এখনও শুধু ঢাকা মহানগরেই সীমাবদ্ধ বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের  জ্যেষ্ঠ নির্বাহী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রমজানে রেস্তরাঁগুলো যে ধরনের ইফতারের ব্যবস্থা রাখবে ঠিক সে খাবারগুলোই বাসায় বসে অর্ডার করতে পারবেন। তবে ইফতারের জন্য বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যে অর্ডার দিতে হবে। শহিদুল বলেন, গত বছর রমজানে ইফতারের জন্য বেশ সাড়া পেয়েছি আমরা। আশা করছি এবারও কাস্টমারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাবো। ষাট টাকা সার্ভিস চার্জ নিয়ে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সময় নেই খাবার পৌঁছাতে। শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলো থেকেই অর্ডার পাই বেশি। গুলশান, বনানী, উত্তরা, বসুন্ধরা, বারিধারা, ধানমন্ডি, খিলক্ষেত, শান্তিনগর, বেইলি রোড, মালিবাগ, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় খাবার সরবরাহ করেন তারা। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। ঢাকার প্রায় সাত শ’  রেস্তরাঁর খাবার আমরা সরবরাহ করি। অনলাইন পেমেন্ট ও ক্যাশ অন ডেলিভারি দুইভাবেই খাবার সরবরাহ করেন তারা। তাদের ওয়েবসাইড হলো-  িি.িভড়ড়ফসধৎঃ.পড়স.নফ.
ফুডপান্ডা বাংলাদেশের কাস্টমার সার্ভিসের মিথিলা জানান, ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে তারা কাজ শুরু করেছেন। এক হাজারেরও বেশি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে তাদের চুক্তি আছে। গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, মতিঝিল, মিরপুরসহ সব জায়গায় তারা খাবার পৌঁছে দেন। রমজানের সময় ইফতারের জন্য দুপুর থেকেই অর্ডার নেয়া শুরু করে চলে বিকাল চারটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত। ইফতারের আগেই বাসায় পৌঁছে যায় অর্ডার করা খবার। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটে সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। খাবার পৌঁছাতে খুব বেশি সময় ব্যয় হয় না। নগরীর যেকোনো এলাকায় খাবার পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৭০ মিনিট নেয়া হয়। যদিও তার আগেই খাবার গ্রাহকের হাতে  পৌঁছে যায়। তাদের ওয়েবসাইড হলো- িি.িভড়ড়ফঢ়ধহফধ.পড়স.ন.
প্রথমেই ভিজিট করতে হয় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে শহরের জনপ্রিয়  রেস্তরাঁর নাম এবং সেসব  রেস্তরাঁর খাবারের তালিকা দেয়া আছে। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।  রেজিস্ট্রেশন শেষে ক্রেতার শহর এবং যেখানে খাবার সরবরাহ করা হবে সে এলাকা নির্দিষ্ট করতে হবে। এরপর ওই এলাকার বিভিন্ন  রেস্তরাঁর নাম ও খাবারের তালিকা আসবে। সেখান থেকে পছন্দের খাবার সিলেক্ট করতে হবে। তারপর অর্ডারে ক্লিক করলেই হলো। এরপর খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকেই ফিরতি ফোন দিয়ে খাবারের মেন্যু ও বাড়ির ঠিকানা বুঝে নেয়া হয়। প্রথমবার রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে এরপর থেকে খাবারের অর্ডার  ফোনের মাধ্যমেই করা যায়।
তিনটি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, ঢাকায় কাজ করার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা যানজট। যানজট না থাকলে আরো দ্রুত খাবার  পৌঁছানো যেত। প্রথমদিকে অনেকের ধারণা ছিল অনলাইনে খাবার অর্ডার করতে খরচ বেশি পড়বে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এ ধারণা পরিবর্তন হয়েছে।  রেস্টুরেন্টে যে দাম, অনলাইনেও তাই। বাড়তি কোনো টাকা লাগে না। আর এখন খাবার পৌঁছে  দেয়ার জন্য ৫০ থেকে ৬০ টাকা ফি থাকলেও বেশির ভাগ সময়েই তা নেয়া হচ্ছে না।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4491970আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET