২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • অনিয়ম-দুর্নীতির শিকড়ে বাধাঁ পাটগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা অন্ধকারে প্রায় ৪০হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষৎ, হতাশায় অভিভাবকগণ

অনিয়ম-দুর্নীতির শিকড়ে বাধাঁ পাটগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা অন্ধকারে প্রায় ৪০হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষৎ, হতাশায় অভিভাবকগণ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৫ ২০১৬, ১৯:৪১ | 675 বার পঠিত

জিয়াউর রহমান মানিক, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি – ২০১৩ সালের সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার ফলাফলে লালমনিরহাট জেলাটি প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতার আলোকে এ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা। পাটগ্রাম উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ের উপর তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় অত্র উপজেলার শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম দুর্নীতি সবার শীর্ষে। এঅবস্থার সৃষ্টির পিছনে রয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বে থাকা জামায়াতপন্থী দুর্নীতিবাজ অর্থ লোভী অফিসার ভারপ্রাপ্ত টিও ফিরাজুল আলম ও এটিও ফারুক হোসেন।
পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকে সু-কৌশলে শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রায় ২০লক্ষাধিক টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। রক্স প্রকল্পের মাধ্যমে উপকরন ক্রয়, শিক্ষক প্রশিক্ষন, পোষাক ক্রয়, উপবৃত্তি বিতরন, শিক্ষকদের মাসিক বেতন প্রদান, ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র ও নিম্নমানের খাতা সরবরাহ, প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিজিটালাইজড করন, ছিলিপের টাকা, রুটিন মেরামতের টাকাসহ ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট সংস্কারে বরাদ্দকৃত টাকার অধিকাংশ আত্মসাৎসহ আফতাব নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জমগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ বরাদ্দের ৬ লক্ষ টাকার অংশ লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে।
ভারপ্রাপ্ত টিও ফিরোজুল আলম ও এটিও ফারুক হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলমের নিজ জেলা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বাসীন্দা হওয়ায় তারা জুটিবদ্ধ হয়ে ইউএনও সাহেবের অজান্তে প্রভাব বিস্তার ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আতাত করে শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তাদের কুটনৈতিক ষড়যন্ত্রে এ শিক্ষা অফিসে কর্তব্যপালন করতে আসা টি ও, এটিওরা এখানে চাকুরি করতে নিরুসাহীত হওয়ায় এ শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট ঘটনাটি স্পষ্ট । তাদের চাওয়া পাওয়ার অপূর্নতা থাকায় শিক্ষকদের গত জুলাই মাসের বেতন উত্তোলনে বিলম্ব ঘটে। তাদের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ শিক্ষকগনের সাথে যে কোন মহুর্তেই ঘটতে পারে আশংকাজনক ঘটনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, আমরা হলাম খেলার পুতুল, কার কথা কে শোনে এমন অযোগ্য টিও, এটিও’র পাল্লায় পড়লে সব কিছুই প্রশ্নবৃদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে তাদের দ্রুত অপসারনেই হতে পারে কর্তৃপক্ষের জন্য আর্শিবাদ। পার্শ্ববর্তী জেলার জলঢাকা উপজেলায় গ্রামের বাড়ী হওয়ায় তাদের মাঝে অফিস ফাঁকির প্রবনতাও লক্ষনীয়। চলমান পেক্ষাপটে অত্র উপজেলার প্রায় ৪০হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষৎ অন্ধকারে হতাশায় ভুগছেন অবিভাবকগণ। চলমান শিক্ষা পরিস্থিতি কথা ভেবে অভিভাবক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ব্যাঙ্গের ছাতার মত স্কুল জাতীয়করন, অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা অব্যহৃত থাকায় প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষৎ হতাশাজনক। তাই সরকারের উচিত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি না করে শিক্ষকদের দায়িত্বপালনে বাধ্য করা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত টিও ফিরাজুল আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ব্যস্ততার অজুহাতে পালিয়ে যান।
এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা ইউআরসি ইন্সেক্টেটর লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। মোটা অংকের টাকার বিনিময় একই শিক্ষককে একাধিক প্রশিক্ষনে অন্তভুক্ত করে শিক্ষকদের মাঝে সমালোচিত হয়েছেন তিনি এবং প্রশিক্ষনের উপকরন ক্রয় এর টাকা ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সব ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেনকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুলকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এঘটনায় শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, স্বজন প্রীতির আওতায় স্কুল গুলোতে রয়েছে শিক্ষক বৈষম্য। শিক্ষার্থী অনুপাতে পৌর-এলাকার স্কুল গুলোতে শিক্ষক চাহিদার চার গুন বেশি অথচ গ্রামীন স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক চাহিদার উপস্থিতি হতাশাজনক। ফলে হুমকীর মুখে গ্রামীন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। অথচ প্রাথমিক শিক্ষার অভাবনীয় সফলতার কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনিত হন। এখন সেই অর্জিত গর্ব এখন শুন্যের কোঠায়। তাই অত্র উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে পূর্ণরুপে ফিরে আনতে স্থানীয় সাংসদ মোতাহার হোসেন, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান রুহল আমীন বাবুলকে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সু-দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান। অরক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জনবল সংকট এর কারণে এঅবস্থার সৃষ্টি তবে অভিযোগ গুলোর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন। এদিকে নাজুক শিক্ষা পরিস্থিতির ঘোর বিরোধীতা করে সচেতন সমাজের অনেকেই কমল শিশুদের ভবিষতের কথা চিন্তা করে অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্তাবৃন্দকে শিক্ষার মানউন্নয়নে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4662502আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 17এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET