২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • অযত্ন অবহেলায় খসে পড়ছে নড়াইলের জনপ্রিয় উপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক ভবন, বাড়িটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় নড়াইলবাসী

অযত্ন অবহেলায় খসে পড়ছে নড়াইলের জনপ্রিয় উপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক ভবন, বাড়িটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় নড়াইলবাসী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : নভেম্বর ০৯ ২০১৬, ১৬:১৬ | 647 বার পঠিত

nihar-ranjan-house-01উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি ঃ অবহেলায় খসে পড়ছে জনপ্রিয় উপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক ভবনটি । ১৯১১ সালের ৬ জুন পিতা সত্যরঞ্জন গুপ্তের কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান কলকাতায় হলেও তাঁর পৈত্রিক নিবাস নড়াইলের ইত্না গ্রামে। চরম অবহেলায় নিমজ্জিত প্রখ্যাত এই বাঙ্গালী সাহিত্যিকের পৈত্রিক বাড়িটি এখনও অরক্ষিত। । আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে জানা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর ২০০৯ সালে তৎকালিন সংসদ সদস্যের (ব্রিঃ জেঃ (অবঃ)এস, কে, আবু বাকের) সীমানা প্রাচীর উদ্বোধনের ভিত্তি প্রস্তের ফলকটি যেন প্রহসনের হাঁসি হাসছে। ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু পরিনত হয়েছে মাদকসেবিদের আখড়া হিসেবে, আর অবৈধ দখলদার ও ভূমিদস্যুদের কবলে। দাড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ ভবনটি নীরবে কেঁদে কেবল তারই স্বাক্ষ্য দিচ্ছে। ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্ত চাকরিজীবী পিতার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকালেই গাইবান্ধা হাইস্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুলে তিনি পড়াশুনা করেন। অবশেষে ১৯৩০ সালে তিনি কোন্ননগর হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই তিনি আই. এস. সি পাস করে ডাক্তারি পড়ার জন্যে কারমাইকেল মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন। ডাক্তারী পাস করে বেশ কিছুদিন নিজেস্বভাবে প্রাক্টিস করেন। অতঃপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর ডাক্তার হিসেবে তিনি যুদ্ধে যোগ দেন। চাকরি জীবনের বাধ্যবাধকতা তাঁর কাছে বিরক্তিকর মনে হওয়ায় তিনি এ চাকরি ত্যাগ করে কলকাতায় ব্যক্তিগতভাবে আবার ডাক্তারী শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কলকাতায় বিশেষ পরিচিত হয়ে ওঠেন। নীহাররঞ্জন গুপ্তের সাহিত্যে হাতে খড়ি হয়ে ছিল সুদূর শৈশবেই। ষোল বছর বয়সেই তাঁর প্রথম লেখা উপন্যাস ‘রাজকুমারী’ ছাপা হয়। ডাক্তার নীহাররঞ্জন গুপ্ত পেশায় চিকিৎসক হলেও মানব মানবীর হৃদয়ের ঘাত-প্রতিঘাত ও মানবিক সূক্ষ্ণে দ্বন্দের একজন সুচারু রূপকার। রহস্য উপন্যাস লেখায় তিনি সিদ্ধহস্ত। কেবলমাত্র রহস্য উপন্যাস নয়, তাঁর সামাজিক উপন্যাসগুলি সুখপাঠ্য যা – পাঠককুলের হৃদয় আকৃষ্ট করে। তাঁর লিখিত উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও অধিক। তাঁর প্রকাশিত উপন্যাসগুলির মধ্যে ‘মঙ্গলসূত্র’, ‘উর্বশী সন্ধ্যা’, ‘উল্কা’, ‘বহ্নিশিখা’, ‘অজ্ঞাতবাস’, ‘অমৃত পাত্রখানি’, ‘ইস্কাবনের টেক্কা’, ‘অশান্ত ঘূর্ণি’, ‘মধুমতি থেকে ভাগীরতী’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘অহল্যাঘুম’, ‘ঝড়’, ‘সেই মরু প্রান্তে’, ‘অপারেশন’, ‘ধূসর গোধূলী’, ‘উত্তর ফাল্গুনী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, ‘কা লোভ্রমর’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘কালোহাত’, ‘ঘুম নেই’, ‘পদাবলী কীর্তন’, ‘লালু ভুলু’, ‘কলঙ্ককথা’, ‘হাসপাতাল’, ‘কজললতা’, ‘অস্থি ভাগীরথী তীরে’, ‘কন্যাকুমারী’, ‘সূর্য তপস্যা’, ‘মায়ামৃগ’, ‘ময়ূর মহল’, ‘বাদশা’, ‘রত্রি নিশীথে’, ‘কনকপ্রদীপ’, ‘মেঘকালো’, ‘কাগজের ফুল’, ‘নিরালাপ্রহর’, ‘রাতের গাড়ী’, ‘কন্যাকেশবতী’, ‘নীলতারা’, ‘নূপুর’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘মধুমিতা’, ‘মুখোশ’, ‘রাতের রজনী গন্ধা’ ও কিশোর সাহিত্য সমগ্র উল্যেখযোগ্য। নীহার রঞ্জনের চলি¬শের অধিক উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। এগুলির মধ্যে উলে¬খযোগ্য ‘উল্কা’, ‘বহ্নিশিখা’, ‘উত্তর ফাল্গুনী’, ‘লালুভুলু’, ‘হাসপাতাল’, ‘মেঘ কালো’, ‘রাতের রজনীগন্ধা’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘নূপুর’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘বাদশা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘মায়ামৃগ’, ‘কাজললতা’, ‘কন্যাকুমারী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’ প্রভৃতি। তাঁর এই চলচ্চিত্রায়িত উপন্যাসগুলি আমাদের চলচ্চিত্র জগৎকে সুসমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘লালুভুলু’ পাঁচটি ভাষায় চিত্রায়িত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি বাংলাদেশেও চিত্রায়িত হয় এবং দর্শককুলের প্রশংসা অর্জন করে। নীহার রঞ্জনের অনেক উপন্যাস থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস উল্কা দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটারের দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। চিকিৎসক হিসেবে অতি কর্মচঞ্চল জীবনযাপনের মধ্যেও নীহার রঞ্জন রেখে গেছেন অসংখ্য সাহিত্যধর্মী সৃষ্টি যা আপন সত্তায় ভাস্কর হয়ে থাকবে। নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ জানুয়ারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই গুণী মানুষটির পৈত্রিক শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু এখনই রক্ষা না করলে অচিরেই কালের গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী দাবী জানিয়ে বলেন, বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহন করেও তাঁরা আমাদের কবি। তাঁদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য ভাবে পালিত হচ্ছে। অথচ এই গুণী উপন্যাসিক আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে এতটা সমুজ্জল থেকেও আমরা তাকে ভুলতে বসেছি। আমাদের প্রজন্ম জানেই না নীহার রঞ্জন গুপ্ত কে এবং তিনি কি ছিলেন। তাই অবিলম্বে তাঁর পৈত্রিক বাড়িটি রক্ষা করে অন্তত পক্ষে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় সরকারি ভাবে পালন করা হোক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি নিজে ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের বাড়িটি পরিদর্শন করেছি এবং তার বর্তমান অবস্থা দেখেছি। অতি দ্রুত বাড়িটি সংরক্ষণ করে সংস্কার কাজ করার পদক্ষেপ নিব। এবং যাতে প্রতি বছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী সরকারি ভাবে পালন করা হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায় ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যা প্রতœতত্ত্ব জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক নীহাররঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক ভবনটি প্রতœতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগের মাধ্যমে এর জৌলুস ধরে রাখা। সেই সাথে এলাকাবাসীও বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ো তোলার দাবি জানিয়েছেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4728506আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET