২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

আবেগাপ্লুত ফখরুল

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৪ ২০১৬, ০৩:২০ | 652 বার পঠিত

28588_b33নয়া আলো ডেস্ক- নির্যাতনে দলীয় নেতাকর্মীদের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার এ কান্না উপস্থিত নেতাকর্মীদেরও আবেগাক্রান্ত করে। ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এ্যাবের সহযোগিতায় ‘আমার দেশ অনলাইনসহ ৩০টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের প্রতিবাদ ও আমার দেশ পড়তে চাই, মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চাই’ শীর্ষক এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে দৈনিক আমার দেশ পরিবার। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজধানীতে চলাচলের সময় যানজটে গাড়ির সিগন্যালে বসে থাকতে হয়। এ সময় হকার ছেলেপেলে, ইয়াং ছেলেপেলে সব আসে। একদিন এক কর্মী আমাকে দেখে বলল- ‘স্যার আমি বিএনপি করতাম লক্ষ্মীপুরে। এত মামলা, পালিয়ে চলে এসেছি, এখন হকারি করছি।’ এভাবেই মামলা-হামলার অত্যাচারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ঢাকায় এসে কেউ হকারি করছেন, কেউ রিকশা চালাচ্ছেন। এখন রিকশা চালাচ্ছেন আমাদের ছেলেপেলেরা। এই পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে মির্জা আলমগীর বলেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমরা আছি। বিরোধী মতকে দমন করতে রাতের আঁধারে সাদা পোশাকধারীরা ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে মানুষ। গুম করে দেয়, খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রতিনিয়ত খালি হচ্ছে মায়ের বুক, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না সুবিচার। আমি দুঃখিত। দেখতে দেখতে আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে গেছি। গুম হওয়া পরিবারের বাচ্চাগুলো সেদিন এখানে দাঁড়িয়ে বলল, বাবার সঙ্গে ঈদ করতে চাই। সেই দেশ এখন। এর জন্য যুদ্ধ করেছিলাম? মির্জা আলমগীর বলেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক পরিসর অনুপস্থিত। কারণ বাইরে গিয়ে কেউ কোনো কথা ও প্রতিবাদ করতে পারবে না। আর যে কথা বলবে তাকেই জেলে যেতে হবে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা ধরে নিয়েছি, শেষ জীবনে হয়তো জেলে কাটবে। যে মামলা আছে, সেই মামলায় যদি পাঁচ বছর-দশ বছর করে জেল হয়, হিসাব করেছি দুইশ’ পঞ্চাশ কি ষাট বছর হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকার মানুষের কণ্ঠরোধ করতে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে। এখন আপনাদের (গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের) কি ভূমিকা হবে তা আপনাদের নির্ধারণ করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে কোনো গুম-খুন কিংবা হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হচ্ছে না। যতজনকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, একটা লোক বেঁচে আছে? সবাইকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করে তদন্তের আগেই ক্রসফায়ার, গান ব্যাটলের অদ্ভুত সব গল্প, অলীক গল্প তৈরি করে তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে। কাউকে কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার জঙ্গিবাদের কথা বলছে আর বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে শায়েস্তা করছে। সামপ্রতিক সময়ে দেশে গুপ্তহত্যায় জড়িত সন্দেহে যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে তাদের সবাইকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। তাহলে কোথায় তদন্ত, কোথায় জঙ্গিবাদের মূল উৎসের তথ্য? তিনি বলেন, প্রতিদিন একটা, দু’টো, তিনটা, চারটা ক্রসফায়ার চলছে। আর প্রতিদিনই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরা হচ্ছে। কারণ এ প্রক্রিয়ায় ভয়ভীতির পাশাপাশি বাণিজ্য ভালো হয়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতাসীনরা পল্টন ময়দান দখল করে নিয়েছে। পল্টন ময়দান আগে যেমন ছিল এখন আর তেমন নেই। পল্টন ময়দানকে স্টেডিয়ামে পরিণত করার কাজ এরশাদ শুরু করেছিলেন, শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। মুক্তাঙ্গনে সভা-সমাবেশ করতাম, সেটাও আর নেই। একই অবস্থা মানিক মিয়া এভিনিউর। তিনি বলেন, সরকার আগস্ট মাসে আমাদের কোনো কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। আমাদের পার্টি অফিসগুলো প্রায়ই বন্ধ থাকে। তারা অফিসগুলোও খুলতে দিচ্ছে না। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স তো বিএনপি’র জন্য নিষিদ্ধ করেই দেয়া হয়েছে। আর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিএনপিকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া সঠিক হবে না। বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করা জন্য এখন কোনো জায়গা দেয়া হয় না। জেলাগুলোর কার্যালয় খুললে পুলিশ অফিসের বাইরে কিংবা ভেতরে গিয়ে বসে থাকে। তাই বলতে হয়, দেশে গণতন্ত্র চর্চার কোনো সুযোগ নেই। মির্জা আলমগীর আক্ষেপ করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে গেলেই তারা বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেয়। কিন্তু তাদের বলছি, কোন দল কি করলো সেটা দেখার বিষয় এখন নয়। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে আমাদের সকল দ্বন্দ্ব ভুলে একমত হতে হবে। আমাদের একমতের ভিত্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আওয়াজ তুলতে হবে। অধিকার আদায়ে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলছি। আপনারা যদি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও হারানো অধিকার ফিরে পেতে চান তাহলে কালবিলম্ব না করে অন্তত একবার সোচ্চার আওয়াজ তুলুন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আপনাদেরই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জোর করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে। কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস করে কেন এ রামপাল কেন্দ্র? কি লাভ আছে জনগণের? জনগণের লাভ না থাকলেও এখানে সরকারের স্বার্থ আছে। রামপালে পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করছেন, আনু মুহাম্মদের মতো একজন পণ্ডিত মানুষকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে মারতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। কারণ সেখানে তাদের স্বার্থের ব্যাপার আছে, সেটা তারা করবে। তিনি বলেন, অবিলম্বে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, সরকার আজকে প্রায় ৩০টির বেশি অনলাইন পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জেলে ঢুকিয়ে রেখেছে। মাহমুদুর রহমান রাজনীতি করেন না। তার অপরাধ তিনি দেশকে ভালোবাসেন, দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও বন্ধ অনলাইনগুলো খুলে দেয়ার দাবি জানান। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় কবি ফরহাদ মাযহার, সাংবাদিক নেতা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বক্তব্য দেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4662389আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 22এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET