২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

‘আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট আমার কাছে তথ্য আছে’ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুন ০৯ ২০১৬, ০৭:০৫ | 663 বার পঠিত

17648_f1নয়া আলো ডেস্ক- সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত গুপ্তহত্যা ও পুলিশ সুপারের স্ত্রী হত্যার ঘটনায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুপ্তহত্যা করে কেউ পার পাবে না। তাদের হিসাব পাই পাই করে নেবো। সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রমের তথ্য আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট। আমার কাছে নিশ্চয়ই সব তথ্য আছে।’ গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর এবং পৃথক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকালে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর-পর্বে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তরপর্বেও একই বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বুলগেরিয়া, জাপান এবং সৌদি আরব সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও গুপ্তহত্যা ও রাজনৈতিক বিষয়ে বেশি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। একজন সিনিয়র সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন করার আগে বলেন, বাইরে আলোচনা হয় এমন তথ্য প্রধানমন্ত্রীকে জানানো উচিত, ‘পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ মেরেছে, তারাই গুপ্তহত্যা করছে’ বলে যে সরকারি তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রশ্ন আসছে। এমন বক্তব্যের কারণে যে কোনো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কী? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তদন্তের স্বার্থে সব কথা হয়তো প্রচার করা যাবে না, বলা যাবে না, প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু সূত্রটা জানা যায়। আমরা সূত্র ধরেই কথা বলি। যারা সরকারের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ মনে করেন, তারা যদি জানেন যে সন্ত্রাসী আসলে কারা, তাহলে সেই তথ্যটি তারা দিক। আমরা যখন একজন আসামি ধরি, তখন সমস্ত ক্লু ধরে, টেলিফোন নম্বর থেকে মিলিয়ে, সবকিছু মিলিয়ে একজনকে ধরি… তার পরিচয়ের সূত্রটা ধরে আমরা যোগসূত্রটা পেতে পারি। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা মনে করেন, শুধুমাত্র রাজনীতিক হিসাবে বলছি, রাজনৈতিক কারণে বলছি, এতে জঙ্গিরা পার পেয়ে যাচ্ছে, সেই পার পেয়ে যাওয়া জঙ্গিরা কারা? তাদের নাম-ঠিকানা, তাদের পরিচয়টা যদি জেনে থাকেন, তাহলে দয়া করে আমাদের জানান। তাহলে দেখবেন, জঙ্গি জঙ্গিই। সে যে দলেরই হোক, আমাদের কাছ থেকে রেহাই পাবে না। বিএনপি-জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারাই এ ধরনের জঙ্গি ঘটনা বাংলাদেশে ঘটিয়েছে, কোনো না কোনোভাবে তাদের সঙ্গে এদের যোগসূত্র রয়েছে। অন্তত এই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তো যোগসূত্র আছে। যারা বিএনপি-জামায়াতকে ‘বাঁচাতে বা রক্ষা করতে’ চায়, বা তাদের অপকর্ম ‘ঢাকতে’ চায়, তারাই জঙ্গি দমন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক দলের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন নাম নিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করলেও এদের হত্যার প্রক্রিয়া একই রকম। ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে, তাদের সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক দলের যোগসূত্র রয়েছে। আবার অনেকে ওই দলগুলোকে বাঁচাতে চায়। এর মধ্যে ‘লাল গোলাপে শুভেচ্ছা জানিয়ে বেড়ান’ এক ব্যক্তি সজীব ওয়াজেদ জয়ের হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত। সব জেনেও অনেকে ওই ব্যক্তির গ্রেপ্তার হওয়ায় ব্যাকুলতা প্রকাশ করেন। প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করলে তারা মানুষের রুদ্ররোষের শিকার হয়। এ জন্য তারা গুপ্তহত্যায় নেমেছে। তারা এমন মানুষকে হত্যা করছে যাতে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব করে পার পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের জন্মের শুরু থেকে নানা ঘটনার যোগসূত্র উল্লেখ করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গেও স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পৃক্ততা আছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভেবে দেখুন কারা একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। কারা একুশে আগস্ট বোমা হামলা করেছে। কারা টুঙ্গিপাড়ায় হামলা করেছে। আমার ছেলে জয় কী অপরাধ করেছে? তাকে অপহরণ করার জন্য কত টাকা ব্যয় করেছে। এর সঙ্গে কারা জড়িত। কারা টাকা দিয়েছে। এই টাকা কোথায় পেলো। এর সঙ্গে কারা জড়িত তা আমেরিকার আদালতের রায়েই প্রকাশ পেয়েছে। এখানে আপনাদের দুজন সাংবাদিকও জড়িত। একজন নিজে সব কাগজ বের করে দিয়েছেন। গুপ্তহত্যাকারীদের ঠেকাতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সত্যিকারের ধর্মে বিশ্বাসী, সবাইকে আহ্বান জানাবো, তাদের পরিবারের কোনো সদস্য জঙ্গিবাদের পথে যাচ্ছে কিনা, সেটা দেখাও তাদের কর্তব্য। মানুষের মধ্যে এই চেতনাটা জাগ্রত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য, অগ্রগতি ব্যাহত করার জন্যই একের পর এক গুপ্তহত্যা ঘটানো হচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, যারা চায়নি, তাদেরই একটা নীল নকশা এটা। সেই নীল নকশা তারা কায়েম করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই গুপ্তহত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা নতুন নয়
এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সহিংস ও প্রাণঘাতী নির্বাচন ছিল-এ নির্বাচনের পর সরকারের অবস্থান কি গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, সবচেয়ে বেশি সহিংস নির্বাচন- এটা তিনি মনে করেন না। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘর্ষ ও সহিংসতা হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং এর আগের নির্বাচনগুলো কোনোভাবেই এবারের চেয়ে কম সহিংস ছিল না। আর এবারের নির্বাচনগুলোর সহিংসতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওয়ার্ড মেম্বার পদপ্রার্থীদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে। ’৮৬ সালের নির্বাচনেও একই অবস্থা ছিল। ’৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কথা কি আপনারা ভুলে গেছেন? ২০০১ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। এখন সমস্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে। তারাই সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের এমপি’র বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন মামলা করছে। আমরা তো এ নিয়ে কিছু বলছি না।
তিনি বলেন, যেসব ঘটনা ঘটেছে তার কোনোটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী নির্বাচনে যেন এসব ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা দৃষ্টি রাখবো।
দলীয়ভাবে এ নির্বাচন হওয়ায় এতে সহিংসতা বেশি হয়েছে তা মানতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে আমি মোটেও একমত নই। দলীয় নির্বাচন করার মাধ্যমে আমরা চাইছি তৃণমূল থেকে গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু হোক।
শ্রমিক পাঠানোর মানসিকতা থেকে দূরে সরে আসতে হবে
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রশংসা পাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন যেকোনো দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক অবস্থান নিতে পারে। সৌদি আরবকে আমি আহ্বান জানিয়েছি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য। তারা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। বাংলাদেশকে এখন শুধু শ্রমিক পাঠানোর মানসিকতা থেকে সরে আসতে হবে। সৌদি আরবে শ্রমিক রপ্তানির বিষয়ে তার সফরে সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে দেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের দক্ষ মানবসম্পদ পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। আমরা সেভাবে কাজ করছি। এখন শুধু শ্রমিক পাঠানোর মানসিকতা থেকে সরে আসতে হবে। দেশের অগ্রগতি হচ্ছে। ধানকাটার মওসুমে কাজের লোক পাওয়া যায় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদেরই অনেক শ্রমিক প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও যেতে পারবে। সেই সুযোগটিও আমরা নিশ্চিত করে এসেছি।
সৌদি আরবে সামরিক জোট-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে দেশে পবিত্র কাবা শরিফ, নবীজির রওজাসহ অনেক পবিত্র স্থাপনা রয়েছে। এগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছি। সৌদি আরব এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা চাইলে আমরা তা করতে প্রস্তুত। এমনকি সামরিক সহিযোগিতা চাইলেও আমরা তা দেব। ইতিমধ্যে আমাদের সেনাপ্রধান সৌদি আরব ঘুরে এসেছেন। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক অবস্থান নিতে পারে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবাই বিস্মিত হয়েছে
জাপান, সৌদি আরব ও বুলগেরিয়া সফরে দেশগুলোর নেতাসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর পর তিনটি সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি সফরে বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে। এই তিনটি সফরে যেসব নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, সেই বিশ্বনেতাদের সবাই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের অবাক করেছে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে থাকাটা। তিনি বলেন, সৌদি আরব সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। সফরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনায় সৌদি সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ-অদক্ষ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রমিক নেবে বলে জানিয়েছে। সৌদি ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বুলগেরিয়া সফরে দেশটির সোফিয়ায় ‘গ্লোবাল উইমেন লিডার্স ফোরামে’ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। ফোরামে বাংলাদেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়নে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেসব পদক্ষেপ তুমুল প্রশংসিত হয়েছে ফে?ারামে।
জাপান সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে জি-৭ অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সাতটি দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন।
হিসাব পাই পাই করে নেবো:
এদিকে সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য অ্যাডভোকেট ফজিলাতুননেসা বাপ্পীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে যারা গুপ্তহত্যা করে তারা দেশের ক্ষতি করছে। মানুষের ক্ষতি করছে। শেখ হাসিনা বলেন, গুপ্তহত্যাকারীরা মসজিদের ইমাম, গির্জা, প্যাগোডার ধর্মযাজকদের হত্যা করছে। এমনকি শিক্ষককেও হত্যা করেছে। সমপ্রতি একজন পুলিশ অফিসারের স্ত্রীকে হত্যা করেছে, যা আগে কখনো দেখিনি। যে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এবং তাদের হত্যাকাণ্ডের প্যাটার্নটা (ধরন) একই রকম। তারা ঠিক একই জায়গায় কোপ দেয়। একই জায়গায় গুলি করে। একই জায়গায় মারে। তারা একই কায়দায় এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। ইতিমধ্যে এধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা অনেকগুলো ঘটনার আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এবারও যারা ঘটনা ঘটিয়েছে অবশ্যই তারা গ্রেপ্তার হবে এতে কোনো সন্দেহ নাই। হত্যাকারীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে তারা পরিবারের উপর হাত দিতে শুরু করেছে। তারা কি ভুলে যায় তাদেরও পরিবার আছে। তাদের বাবা-মা আছে। তাদেরও ভাইবোন, স্ত্রী আছে। একদিকে যদি আঘাত আসে তাহলে তো অন্যদিকেও তো একই আঘাত আসতে পারে। এটা কি তারা ভুলে যাচ্ছে! যারা এই ধরনের গুপ্তহত্যা এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর থেকে যেন তারা তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের বিরত থাকতে বলে। আজকে যদি তারা এভাবে অন্য পরিবারগুলোর ওপর হাত দিতে শুরু করে তাহলে কিন্তু কারও হাতই থেমে থাকবে না এবং জনগণকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। আর বাংলাদেশে গুপ্তহত্যা করে তারা যদি মনে করে দেশ একেবারে উল্টে দেবে তা কিন্তু তারা পারবে না। হত্যাকারীরা ঠিকই ধরা পড়বে। হত্যাকারীর ঠিকই সাজা হবে এবং সর্বোচ্চ সাজা এই হত্যাকারীরা ভোগ করবে। তিনি তাদের উদ্দেশে আরো বলেন, আমি তাদের এটাও বলতে চাই, ১৯৭১ সালে এদেশে যারা গণহত্যা চালিয়েছিল। আমরা কিন্তু ৪৪ বছর পরে এসেও তাদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের ফাঁসি হয়েছে। কারণ খুনের মামলা তামাদি হয় না কখনো। সেই যুদ্ধাপরাধীদের কিন্তু বিচার হয়েছে। জাতির পিতাকে যারা হত্যা করেছিল। যাদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিল। যারা গর্ব করে বলতো তাদের বিচার কে করবে। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই খুনিদেরও বিচার করেছি এবং রায়ও কার্যকর হয়েছে। কাজেই আজকে যারা গুপ্তহত্যায় লিপ্ত। তারা যদি মনে করে গুপ্তহত্যা করে তারা পার পেয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ তারা পার পেয়ে যাবে না। তারা পার পাবে না। তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই হবে। তাদের প্রভু যারাই হোক। তাদেরকেও আমরা রেহাই দেবো না। বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতে আগুন সন্ত্রাস ও পেট্রল বোমার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, এদের মানুষ পুড়িয়ে মারাটা জনগণ গ্রহণ করেনি। তারা এর প্রতিরোধ শুরু করে। জনগণের মধ্য থেকেই প্রতিরোধ আসে। ২০১৫ সালে সেই জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাস এদেশে মানুষ পোড়ানোর এক হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আন্দোলনের নাম করে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়। যখন এটা আমরা এবং দেশবাসী প্রতিবাদ করি যখন গণরোষ সৃষ্টি হয়। তখন এরা ক্ষান্ত দিয়ে বিরত হয়। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, গুপ্তহত্যার পথ বেঁচে নেয়া হয়েছে। পুলিশের কাজই হচ্ছে, আইনশৃংখলা রক্ষা করা অপরাধীদের ধরা। বাংলাদেশে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যারা ঘটাতে চেয়েছে এই পুলিশ অফিসার তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। বোমা বানানোর সরঞ্জামসহ বহু কিছু উদ্ধার করেছে। এরা তার পরিবারের উপর হাত দিয়েছে।
বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় ২৫ লাখ গণস্বাক্ষর দিয়ে যারা গণতন্ত্র আনতে সহায়তা করেছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ওইসময় অনির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে আমার কাছে বারবার আপোষের প্রস্তাব আসে। আমি প্রতিবারই প্রত্যাখ্যান করেছি এবং বলেছি একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে আমি আলোচনা করতে রাজি নয়। ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমানুষের তীব্র আন্দোলন সংগ্রামের ফলে তত্বাবধায়ক সরকার লেজ গোটাতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ১১ই জুন আমি মুক্ত হই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ওয়ান ইলেভেনের মতো দুর্যোগ বাংলাদেশে আর আসবে না বলে আশা করি। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকবে। যারা আমাকে ওইসময় মাইনাস করতে চেয়েছিলেন তারা নিজেরাই মাইনাস হয়েছে। আর মাইনাসে মাইনাসে প্লাস হয়ে গিয়েছে। তাই এ নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4497822আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET