১৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে আরব দেশগুলোর

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৯ ২০১৬, ১৭:২৪ | 693 বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিশর কর্তৃক লোহিত সাগরের দুটি দ্বীপ তিরান ও সানাফিরের মালিকানা সৌদি আরবের নিকট হস্তান্তরের ঘোষণায় বেশ আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটি যতটা শোরগোলের জন্ম দিয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্ববহ ঘটনা এটি। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করেছে।
midleeast
সৌদি ও মিশরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বীপ দুটি আদতে সৌদি আরবের। ১৯৫০ সালে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ আল সৌদ ইসারইলি দখলদারিত্ব থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে মিশরকে দ্বীপ দুটি দেখে রাখতে বলেছিলেন বলে এ দুটো মিশরীয় নিয়ন্ত্রণে আছে। গত সপ্তাহে সৌদি বাদশা সালমানের মিশর সফরে দ্বীপ দুটোর মালিকানা সৌদিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

তবে সিসি সরকারের এই ঘোষণায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির নাগরিকেরা। আইনিভাবেও সরকারের এ পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

বিগত কয়েক বছর যাবৎ শোনা যাচ্ছে ইসরাইলের সাথে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। উভয়পক্ষের অভিন্ন শত্রু ইরান ও আইএসের মোকাবেলায় ইহুদি দেশটির সাথে সম্পর্কোন্নয়ন করছে সৌদি নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট।

এছাড়াও উভয় পক্ষের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমেরিকার ওই অঞ্চলে কর্তৃত্ব কমিয়ে আনাটাও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে তাদেরকে। আর গত সপ্তাহের দ্বীপ হস্তান্তরের ঘটনাটি উভয় পক্ষের উন্নত সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সম্পর্কের উন্নতির প্রমাণস্বরূপ ১৯৭৯ সালের মিশর-ইসরাইল শান্তি চুক্তির প্রতি স্পষ্টত সমর্থন দিয়েছে সৌদি আরব। ১৯৭৯ সালে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হলে সৌদি মিশরের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয় এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে নীতিরও পরিবর্তন ঘটেছে।

ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ‘তিরানা জলপ্রণালী ও আকাবা উপসাগরের জলপথ ও আকাশসীমা সব পক্ষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কোনো পক্ষই পরস্পরের নিরাপত্তা হানি ঘটাবে না’।

আকাবা উপসাগরের জলসীমা দ্বারা ইসরাইলের সমুদ্র বন্দর এইলাতে সহজেই প্রবেশ করা যায়। ১৯৭৯ সালের ওই শান্তি চুক্তিতে সমর্থন করে আকাবা উপসাগরে সৌদি আরব পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ইসরাইলিদের কোনো ক্ষতির কারণ হবে না এই নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।

উপরন্তু, আকাবা উপসাগরের ওপর দিয়ে মিশরের সিনাই থেকে সৌদি পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণের আলোচনা চলছে এবং ইসরাইল, মিশর ও সৌদি এমন আচরণ করছে যেন তারা পরস্পরের প্রতিবেশি। সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে দৃশ্যত কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তারা দীর্ঘদিন থেকে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে।

অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, একসময়ের চরম শত্রু ইসরাইল ক্রমেই সৌদি নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠছে। আর ইসরাইল-আরব মিত্রতায় মধ্যস্ততা করছে মিশর। এখন দেখার বিষয় তাদের এই মিত্রতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কি ফলাফল বয়ে আনে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4531083আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 0এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET