২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল : তুরস্ক, কিউবা পারছে আমরাও পারব

একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল : তুরস্ক, কিউবা পারছে আমরাও পারব

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০১ ২০১৬, ০১:৫৪ | 641 বার পঠিত

images (2)নয়া আলো ডেস্ক- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সদা হাস্যোজ্জল, সজ্জন ব্যক্তি। চলনে, বলনে অত্যন্ত মার্জিত। তারপরও কারাগার তাঁর দ্বিতীয় ঠিকানা। ৮৬টি মামলার আসামী। ৩৬টিতে চার্জ গঠন হয়েছে। মামলার বহর দেখলে মনে হয় কারাগার যেন সব সময় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কারাগারের বাইরে অবস্থান করলেও নিশ্চিত নন কতক্ষন মুক্ত থাকবেন। ফাঁকে বাড়তি বোনাস রিমান্ডে নির্যাতন।
কোন রাজনৈতিক দলের মহাসচিবকে তাঁর মত দীর্ঘ রিমান্ডে কাটাতে হয়নি কখনো। এমনকি পাকিস্তান সামরিক শাসন আমলেও রাজনৈতিক নেতাদের এরকম দীর্ঘ রিমান্ডে নেয়ার নজির নেই। তাই রিমান্ড এবং কারাগারে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হয় সারাক্ষণ। ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর টানা ২৯ দিনের বেশি রিমান্ডে রাখা হয় তাঁকে। সব সময় গাড়িতেই থাকে জামা-কাপড় আর ওষুধপত্র।
কঠিন কিছু রোগেও ভুগছেন তিনি। ঘাড়ের দু’টি রক্তনালীতে ব্লক রয়েছে। যে গুলোতে অস্ত্রোপচারও ঝুকিপূর্ণ। এনিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁকে। গ্রেফতার, রিমান্ড, কারাগার, অসুখ-বিসুখ নিত্যসঙ্গী। তারপরও কোন কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি তাঁকে। এই অবস্থায় রাজনীেিত ডুবে থাকা মানেই দেশ ও জাতির জন্য জীবনকে উৎসর্গ করা। আর এটাই করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনীতি হচ্ছে এখন তাঁর জীবনের ব্রত। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মহাসচিব। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত ছিলেন। হালে তিনি ভারমুক্ত হয়েছেন।
চার দলীয় জোট সরকারের অনেক মন্ত্রীর কপালে দুর্নীতির তকমা রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগের ডামাঢোলেও মির্জা ফখরুল একেবারেই ব্যতিক্রম। ৫ বছর মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু কোন দুর্নাম তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। শুধু সরকারের নয়, বিএনপি’র অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও পদ বিক্রি আর সরকারের সাথে আপসের অভিযোগ রয়েছে। মির্জা ফখরুল তাঁর সততা এবং নিষ্ঠার সাক্ষর রাখছেন সরকারে এবং বিরোধী রাজনীতিতে।
ভারমুক্ত হওয়ার পর লন্ডন সফর করে গেছেন তিনি। গত ১৬ জুলাই লন্ডনে এসেছিলেন। ফিরে গেছেন ২২ জুলাই। এই সময়ের মধ্যেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। একদিন কাটাতে হয়েছে হাসপাতালে। তাতে কি থেমে ছিলেন মির্জা ফখরুল? দেখা গেছে হাসপাতাল থেকে ফিরেই রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সাথে স্বভাবসুলব হাস্যোজ্জল। তাঁর হোটেল স্যূটে এসে কথা বলে গেছেন অ্যামনেষ্ট্রি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক এবং বর্তমান কর্তা ব্যক্তিরা। সময় দিয়েছেন বিবিসি বাংলা রেডিওকে। যোগ দিয়েছেন রাজনৈতিক সমাবেশে।
লন্ডন সফরে ব্যস্ততার ফাঁকেই কথা বলেন, আরবিএন২৪ এবং দৈনিক আমার দেশ-এর সাথে। কথা হয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে। এসময় সঙ্গে ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মাহবুবুর রহমান ।
প্রশ্ন: বড় রাজনৈতিক দলের মহাসচিব হিসাবে বাংলাদেশের রাজনীতির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বাংলাদেশে এখন রাজনীতি নাই। এক ব্যক্তির ইচ্ছার শাসন-ই হচ্ছে বর্তমানে বড় ক্রাইসিস। এক ব্যক্তির দাম্ভিকতা এবং প্রতিহিংসা পরায়ন মনোভাবই হচ্ছে রাজনীতির সড় সমস্যা। বলা যায়, বর্তমান রাজনীতি এমন জায়গায় পৌছেছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলো বিপর্যস্ত হয়ে ভেঙ্গে পড়েছে। সব প্রতিষ্ঠান দলীয় করণ করা হয়েছে। মানুষ কোথায়ও ইনসাফ পাচ্ছে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের মূল ৩টি উপাদান-সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার তথা ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদা ভুলুন্ঠিত করেছে বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা। এই অবস্থায় রাজনীতি আছে দেশে এটা বলা যায় না। এই ৩টি উপাদান প্রতিষ্ঠার জন্যই মানুষ পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা এগুলোকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন: এই অবস্থায় বিরোধী দল হিসাবে আপনাদের ভুমিকা কি?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিরোধী দল হিসাবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সরকারের মনোভাব আপনারা দেখছেন। তারা বিরোধী দলকে সহ্য করতে চায় না। রাজপথে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে আমাদের দলের চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে দন্ড দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। আমাদের দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে একটি মামলায় নি¤œ আদালত পরিস্কার বলে দিয়েছে তিনি বেকসুর খালাস। অর্থাৎ নির্দোষ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত নয়। তারপরও ওই মামলায় আপিলের নামে তাঁকে দন্ড দেয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধেও ৮৬টি মামলা। আমাদের চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৫০টির মত। তেমনি প্রত্যেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক নেতাকে ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভুত হত্যা করা হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ আলী, চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকে গুম করা হয়েছে। তারপরও দেশ ও জাতীয় স্বার্থে বিরোধী দল হিসাবে আমরা বসে নেই। কারাগারে আসা-যাওয়ার মধ্যেই জাতীয় স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা।
প্রশ্ন: ইদানিং গুলশানে বড় একটি জঙ্গি আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্নভাবে আরো কিছু ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। যে গুলোর সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এবিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : সন্ত্রাসবাদ এখন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সন্ত্রাসী হামলা শুধু বাংলাদেশে নয়, দুনিয়ার অনেক উন্নত দেশেও ঘটছে। কিন্তু এমন উদাহরণও রয়েছে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ থাকায় ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়া তাদের সার্বভৌতম্ব হারিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিও একটি মহলের আগ্রহ রয়েছে। সরকারের অব্যাহত ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে তারা আসতে চায়। আমাদের দেশে পরিকল্পিতভাবে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সব গুলোই একটার সাথে আরেকটার যোগসূত্র রয়েছে।
প্রশ্ন: জঙ্গিবাদ নিয়ে আপনি পরিকল্পিত প্রচারের কথা বলছেন। বিষয়টি একটু পরিস্কার করবেন কি?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : কয়েকটি পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জঙ্গিবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই পরিকল্পিত প্রচারনায় লিপ্ত। শাহরিয়ার কবীরদের মত ব্যক্তিরা এবং সরকারের একাধিক মন্ত্রী কথায় কথায় জঙ্গিবাদের ধোয়া তুলতেন। তারা কথায় কথায় বলেন, এখানে ইসলামিজম, ফান্ডামেন্টালিজন রয়েছে। বাংলাদেশের ধর্মভিরু মানুষকে তারা জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। এছাড়া রাজনীতির সকল দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়াটাও কিন্তু আজকের এই পরিস্থিতির জন্য কম দায়ী নয়। স্টেট সাপোর্ট ছাড়া কিন্তু টেররিজম মাথাছাড়া দিতে পারে না। দেখবেন কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তা ব্যক্তিরা পর্যন্ত বিরোধী দলকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। এতে কিন্তু প্রকৃত সন্ত্রাসীরা আস্কারা পেয়েছে। ঘটনা ঘটার সাথে সাথে বিরোধী দলকে দায়ী করে বরং সরকার পরোক্ষভাবে টেররিজমকে সাপোর্ট দিয়েছে। এতে টেররিজমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রটেক্ট দিচ্ছে। ঘটনার মূল জায়গায় তারা আসতে চাচ্ছে না।
প্রশ্ন: গুলশানের ঘটনার সাথে জড়িতরা ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। তারা প্রায় সকলেই তরুণ এবং মেধাবী ছাত্র। মেধাবী তরুণরা কেন এই সন্ত্রাসের দিকে ঝুকছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে আপনার মূল্যায়ন কি?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: এখানে রাজনৈতিক দর্শনের চিন্তা জড়িত। তরুণরা সব সময় অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। আমাদের দেশে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন দেখেন, সেখানে তরুণরাই ছিলেন সামনের কাতারে। পাকিস্তান আমলে স্বৈরশান বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণরা। স্বাধীনতা সংগ্রামে তরুণরাই অস্ত্রহাতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন। বর্তমান ইয়াং জেনারেশন যখন দেখে, চলমান রাজনীতির কোন আদর্শ নেই, তাদের সামনে যখন দাড়ি, টুপির কারনে মানুষকে নির্যাতন করতে দেখে, সমাজের প্রতিটি স্তরে যখন অন্যায় অবিচার দেখে, অন্যায় অবিচারকে রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় দিতে দেখে, তখন তারা প্রতিবাদ করতে চায়। তরুণরা তখন দর্শন খোজে।
প্রশ্ন: আপনি কি তাহলে বলতে চাচ্ছেন রাজনৈতিক দর্শনের অনুপস্থিতি তরুণদের বিপথে চলে যেতে সহায়তা করছে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : রাজনীতিতে দর্শন একটি বড় বিষয়। তরুণরা যখন রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন দেখে, ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে য়ে সমাজে অন্যায় অবিচার দেখে তখন তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠতে চায়। এই চিন্তা থেকেই তারা তখন একটি রাজনৈতিক দর্শন খোজে। ইন্ডিয়ার এক সময়ে নকশালবাদী আন্দোলনের দিকে থাকান। তরুণরাই নকশালবাদী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। নকশালবাদী আন্দোলনের একটি রাজনৈতিক দর্শন ছিল। যদিও এই দর্শন সন্ত্রাসের পথ চালিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর আমাদের দেশের অবস্থার দিকে থাকান। একদল তরুন দেখল ক্ষমতাসীনরা সব লুটেপুটে খাচ্ছে। তখন আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকেই কিন্তু একটি রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে জাসদ তৈরি হয়েছিল তখন। তারাও গণবাহিনী তৈরি করে সন্ত্রাসের পথ বেঁছে নিয়েছিল।
প্রশ্ন: বর্তমানে যেই জঙ্গিবাদের প্রচারণা চলছে সেটার সাথে তো ইসলামকে জড়ানো হচ্ছে। ইসলামতো আমরা জানি শান্তির ধর্ম। তাহলে ইসলামিজমের সাথে জঙ্গিবাদকে জড়ানো হচ্ছে কেন? আপনার মূল্যায়ন কি?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: আমি আগেই বলছি তরুণরা চলমান পরিস্থিতিতে হতাশ। তারা দেখছে দেশে কোন রাজনীতি করতে দিচ্ছেনা একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী। এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সব চলছে। সমাজে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাবে অন্যায়, অবিচার, জুলুম নির্যাতন দেখছে তরুনরা। তারা এই অবস্থার পরিবর্তন চায়, এর প্রতিবাদ করতে চায়। রাজপথে বিরোধী দলকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন এবং প্রতিবাদ করতে দেয়া হচ্ছে না। সুতরাং মেধাবী তরুন যারা প্রতিবাদ করতে চায়, তারা দর্শন খোঁজে। এই সুযোগটি নিচ্ছে একটি মহল। প্রথমে ইসলামের সাম্য, ইনসাফ এবং মানবিক মূল্যবোধের দর্শনে মেধাবী তরুণদের আকৃষ্ট করা হয় । তরুনরা যখন দেখে ইসলামের সাম্য, সততা, ইনসাফ এবং ন্যায়ের কথা বলা রয়েছে তখন তারা আকৃষ্ট হয়। পরবর্তীতে এই তরুণদেরকেই বিপথে ঠেলে দেয়। অথচ ইসলাম কিন্তু মানুষ হত্যাকে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। ইসলামের সাম্য, ন্যায় ও ইনসাফের বাণীতে আকৃষ্ঠ করে তরুণদের মানুষ হত্যায় যারা উদ্বুদ্ধ করছে তারা হলেন ইসলামের শত্রু। শান্তির ধর্ম হিসাবে পরিচিত ইসলামকে বিতর্কিত করার একটি নীল নকশার অংশ হিসাবেই চক্রটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে। আমাদের দেশে এই সুযোগটাই নিচ্ছে কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী ও একটি মহল। এই সুযোগ নেয়ার একটি যৌক্তিক কারনও রয়েছে। সেটা হচ্ছে ইয়াং মেধাবীদের আকর্ষণ করার মত রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দর্শনের অনুপস্থিতি।
প্রশ্ন: তাহলে আপনি যে দলের মহাসচিব সেই দল তরুণদের আকৃষ্ট করার মত কর্মসূচি নিচ্ছে না কেন?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপি হচ্ছে আধুনিক মডারেট ডেমক্রেটিক পার্টি। এই আদর্শেই পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত রয়েছে। তরুণদের মধ্যে আদর্শিক রাজনৈতিক চিন্তার যে শূণ্যতা রয়েছে সেটা পূরনের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে ছাত্র সংগঠন। আমাদের ছাত্র সংগঠনকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যেতেই দিচ্ছে না সরকার। সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো পলিউটেড। এছাড়া তরুণদের শক্তিশালী যুব সংগঠনেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি শক্তিশালী যুব সংগঠন তৈরি করতে। এজন্য একটা টোটাল টিমওয়ার্ক দরকার। সেই চেষ্টা আমাদের রয়েছে।
প্রশ্ন: বর্তমান জঙ্গিবাদ নিয়ে আপনি একটি মহল ও একটি শক্তির কথা বলছেন। বিষয়টা আরেকটু পরিস্কার করবেন কি?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দেখেন, আমি আগেই বলেছি বাংলাদেশের বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসন ও সরকারের ব্যর্থতাকে পুজি করে একটি শক্তি ও মহল বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্ঠি করতে চায়। তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করতে যেই ট্রেনিং ও রসদ প্রয়োজন সেগুলো সরবরাহ করে তারাই। কোন না কোন একটা উৎস থেকেই রসদ আসে। ট্রেনিং দেয়া হয়। তারা বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রহিসাবে চিহ্নিত করতে চায়। তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় আমাদের সকল রিসোর্স। শুরুতে আমি বলেছি ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়া ইতোমধ্যে সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে। তবে এপ্রসঙ্গে একটি কথা আপনাকে বলে রাখতে চাই, বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা অতীতে হয়েছে। স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। কেউ সফল হয়নি। মানুষ মুক্তিসংগ্রাম করে ইংরেজ শাসন ও পাকিস্তানি শাসনের কবর রচনা করেছে। যে জাতি মুক্তিসংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করতে জানে, সেই জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। অপশাসন ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠবে। কিউবা ও তুরস্ক যদি বৃহৎ শক্তির পাশে মাথা উঁচু করে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে দাড়িয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশও পারবে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইন্ডিয়ান আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটা চেষ্টা সব সময়ই ছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে ইন্ডিয়ার স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক চুক্তি হয়েছে। যেমন ধরুন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সমূদ্রবন্দর ব্যবহার ও ট্রানজিট ইস্যু। এই বিষয় গুলো নিয়ে বিএনপি’র অবস্থান এখনো পরিস্কার নয়। মানুষ জানে না বিএনপি’র অবস্থান কি এ বিষয় গুলোতে। আপনারা কি এই চুক্তি গুলো তাহলে সমর্থন করেন?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিস্কার। জাতীয় সম্পদ আমাদের স্বার্থের বাইরে অন্য কারো স্বার্থে ব্যবহার বিএনপি কখনো সমর্থন করে না। যে কোন দেশের সাথে ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ চুক্তি হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্য দেশের স্বার্থে জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের পক্ষে বিএনপি’র সমর্থন কখনো ছিল না, এখনো নেই। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে আমাদের চেয়ারপার্সন বহু আগেই পরিস্কার বক্তব্য দিয়েছেন। বিদ্যুৎ আমাদের অবশ্যই দরকার। তাই বলে জাতীয় সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য বিনষ্ট করতে পারে এমন কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে পারে না। ট্রানজিটের বিষয়েও আমাদের বক্তব্য হচ্ছে আধুনিক বিশ্বে আমরা অন্ধকারে বসে থাকতে চাই না। তবে এক দেশের সাথে অন্য দেশের যোগাযোগের ক্ষেত্র হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। আমাদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ট্রানজিট হতে পারে না। সবকিছু হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। এক কথায় আমাদের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোন কিছুই বিএনপি সমর্থন করে না।
আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। আবার দেখা হবে ইনশাল্লাহ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4654435আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET