১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

কর্মসূচি বানচালে হামলার অভিযোগ বিএনপির

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২৪ ২০১৬, ০২:০২ | 645 বার পঠিত

23970_b6নয়া আলো ডেস্ক- দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচাল করতে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ গতকাল নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তারেক রহমানকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে গতকাল সারা দেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। কিছু জেলায় বিক্ষোভ মিছিল করার সুযোগ পেলেও বেশিরভাগ জেলায় বাধার মুখে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সভা করবে ঢাকা মহানগর বিএনপি। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপির কর্মসূচি বানচাল করতে শুক্রবার রাত থেকে দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গিদের মতো হামলা চালিয়েছে। বাড়িঘরে লুটতরাজ, ভাঙচুর ও ধরপাকড়ের এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, জঙ্গিদের টিকিয়ে রেখে সরকার অরাজকতার পরাক্রম থেকে দেশবাসীকে নিস্তার দিতে ইচ্ছুক নন। সরকার জঙ্গি তৎপরতা টিকিয়ে রাখতে চায়। কারণ, এই পরিস্থিতি একটি অবৈধ সরকারের জন্য ‘পরম প্রাপ্তি’। সরকার দৃঢ়ভাবে মনে করে, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলেই জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবহমান থাকবে। জঙ্গিবাদ টিকে থাকলে বিরোধী দলের ওপর ক্রমাগত দায় চাপিয়ে যাওয়া যাবে। তাই জঙ্গি দমনে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না। তারা নিজেদের ব্যর্থতাও কখনো স্বীকার করেনি। তাদের এই নির্লিপ্ততায় উগ্রবাদীরা আরো বলশালী হয়েছে এবং শিকড় আরো গভীরে গেছে। রিজভী বলেন, সরকারের সকল অপকৌশল অকার্যকর হয়ে জঙ্গি পরিস্থিতির দরুণ দেশ-বিদেশে এই বেআইনি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। দেশ-বিদেশের মানুষ মনে করেন, বাংলাদেশের সরকার ও সরকার প্রধানের কোনো বক্তব্যেরই তল-অতল পাওয়া ভার। এটি বিভ্রান্তি তৈরির এক অভিনব কৌশল। উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী নিয়ে সরকারের রহস্যজনক আচরণে মানুষের মনে তীব্র সন্দেহ এবং প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। সেটিকে ঢেকে দিতেই তারেক রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুদ্রা পাচারের মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। এটা সরকারের অন্ধহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে পরকালে পাঠিয়ে একদলীয় দুুঃশাসন বজায় রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে সরকার নিজেদের লোকজন বসিয়ে গায়ের জোরে দেশের জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। জনগণের ওপর সরকারের কোনো প্রভাব নেই বলেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন আওয়ামী লীগের মাধ্যমে পরিচালিত। ফলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী কারাগারে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয়। আর প্রকাশ্য দিবালোকে তারা ক্রসফায়ারে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করার পরও শুধুমাত্র শাসকদলের ক্যাডার হওয়ার কারণে অনেকে নিঃশর্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়ে যায়। সুতরাং কারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেটি এখন দেশ-বিদেশের সকলেই জেনে গেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের প্রতি কারো কোনো সমর্থন নেই। দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এই সরকার সারা বিশ্বের সমর্থন থেকেও বঞ্চিত। এই সরকার একেবারেই একা হয়ে গেছে। ভারতের সহায়তা ছাড়া এই সরকারের আর কোনো অবলম্বন নেই। ফলে পরনির্ভরশীল এই সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আসুক সেটি কখনোই চাইবে না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বক্তব্যের সূত্র ধরে রিজভী আহমেদ বলেন, ভারতের সঙ্গে তাদের নাকি আত্মার সম্পর্ক। হানিফ ঠিকই বলেছেন। কারণ, যাদের দেশের মানুষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই তারা তো একটি বিশেষ শক্তির অনুগ্রহভাজন হয়েই থাকবেন। আত্মাকে বিক্রি করে দেবেন। কারণ, দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে তারা বাংলাদেশের বনাঞ্চল ধ্বংস করতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছেন।  ট্রানজিটের নামে করিডোর দেয়া হলেও তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা পাওয়া যায়নি। সমুদ্রসীমা নির্ণয় করতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্ভাগ দখল করা হয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের ব্যাপারে শুল্ক-অশুল্ক বাধা বজায় আছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজার ভারতীয় পণ্যে সয়লাব। এসব বিষয়ে সরকার একটুও টুঁ-শব্দ করে না। নতজানু শাসকগোষ্ঠীর এসব কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় দেশের মানুষ লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ। রিজভী বলেন, সরকার ঐক্যের কথা শুনবে না, দেশে শান্তি ও স্বস্তি আসুক সেটি চাইবে না। সেজন্য মানুষের নাগরিক স্বাধীনতাকে রক্তাক্ত পন্থায় পিষ্ট করে নিজেরা টিকে থাকার আয়োজন করে চলেছে। এদের ভ্রান্তনীতির কারণে রাজনৈতিক সঠিকতা অন্ধকারে দিক হারিয়ে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ না ঘটলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী, পিরোজপুর, মঠবাড়ীয়া, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে প্রশাসন ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বাধা দেয়ার তথ্য তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা তানজিদ হাসান শাওন, রিয়াদ মাতুব্বরসহ আটজনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঠবাড়িয়া উপজেলার ছাত্রনেতা আরিফ ও ফয়সলকে কুপিয়ে জখম করেছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা। রাজশাহীতে বিশাল মিছিল বের হলে ঘেরাও করে রাখে পুলিশ-বিজিবি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনীর হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে পিরোজপুরে মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল। তিনি বলেছেন, বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলের পর যখন পার্টি অফিসে ফিরেছিল, তখনই তাদের ওপর আকস্মিকভাবে হামলা করে পুলিশ। নেতাকর্মীদের অমানবিকভাবে মারধরের পর ৮ জনকে গ্রেপ্তার ও পার্টি অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। পুলিশের এমন নৃশংস আচরণই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদী মানসিকতা উসকে দেয়। রাজনীতিতে চারু মজুমদারদের জন্ম হয়। আমি পুলিশের এমন বাড়াবাড়ির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4524536আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET