১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

কিশোর হামলাকারীর গুলিতে রক্তাক্ত মিউনিখ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২৪ ২০১৬, ০২:১৪ | 637 বার পঠিত

23978_f2নয়া আলো ডেস্ক- শুক্রবার মিউনিখে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ৯ জনকে হত্যা করা তরুণ ছিল মানসিক সমস্যাযুক্ত। আইসিসের সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র নেই। জার্মান পুলিশ গতকাল এ কথা জানিয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরো জানায়, হামলাকারীর বাড়ি থেকে গণহত্যা সংক্রান্ত নানা লেখা উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল বলে ইঙ্গিত মিলছে। পুলিশ শুক্রবারের হামলাকে ‘গতানুগতিক উন্মত্ত হত্যাযজ্ঞ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও সিএনএন। ইতিমধ্যে হামলাকারীর পরিচয় উঠে এসেছে। তার বয়স মাত্র ১৮। নাম আলী ডেভিড সোনবোলি। সে ইরানি বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। শুক্রবার মিউনিখের অলিম্পিয়া শপিং মলে ম্যাকডোনাল্ডসের একটি দোকানে হামলা চালিয়ে সে ৯ জনকে হত্যা করে। হামলায় আহত হয় ২৭ জন।
মিউনিখের পুলিশ প্রধান হুবের্টাস আন্দ্রে সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাদের তল্লাশি অভিযানে আইএসের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগসূত্রের ইঙ্গিত মেলেনি। তল্লাশি অভিযানে পুলিশ গণহত্যা সংক্রান্ত নানা লেখা উদ্ধার করে। হুবের্টাস বলেন, স্পষ্টত সে এ বিষয় নিয়ে আচ্ছন্ন ছিল। তদন্তকারীরা আরো জানিয়েছেন, আলী ডেভিডের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিউনিখে। তার মানসিক সমস্যা ছিল। হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে চিকিৎসা নিচ্ছিল সে।
পুলিশ আরো বলেছে, হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তার বাড়িতে ধর্মীয় উগ্রপন্থার প্রতি ইঙ্গিত দেয় এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। বরং মিলেছে গণহত্যা চালানো নিয়ে লেখা বই। পুলিশ এও সন্দেহ করছে হামলার দিনটি বেছে নেয়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে। ৫ বছর আগে ওদিনই অ্যান্ডার্স  বেহরিং ব্রেইভিং নরওয়েতে হামলা চালিয়ে ৭৭ জনকে হত্যা করেছিল। হুবের্টাস বলেন, দুটো হামলাতেই প্রধানত তরুণদের টার্গেট করা হয়েছে। মিউনিখ হামলায় নিহত ও আহতদের বেশির ভাগ তরুণ। নিহতদের তিন জনের বয়স ছিল ১৪, দুজন ১৫, একজন ১৭ এবং অপর একজন ১৯। বাকি দুজনের বয়স ২০ ও ৪৫। নিহতদের মধ্যে ৩ জন নারী। প্রত্যেকেই মিউনিখ এলাকায় থাকতেন।
তথ্যপ্রমাণে ইঙ্গিত মিলছে, হামলা চালানোর আগে ম্যাকডোনাল্ডসের ওই আউটলেটে যেতে মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি চেষ্টা করে আলী ডেভিড। পুলিশের তদন্তকারী রবার্ট হেউমবার্গার বলছেন, মনে হচ্ছে হামলাকারী একটি ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে বিনামূল্যে খাবারের প্রস্তাব দিয়ে ওই শপিং মলে যেতে মানুষদের আকৃষ্ট করেছিল। এক তরুণীর ফেসবুক একাউন্ট থেকে ওই পোস্টটি করা হয়। এতে ৪টার সময় শপিং মলে যেতে বলা হয়। তবে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তাদের সঙ্গে হামলাকারীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত থেকে পরে জানা যায়, নিজের অস্ত্রের গুলিতেই মারা যায় হামলাকারী। তার কাছে ৯ মি.মি গ্লক ১৭ মডেলের পিস্তল ছিল। ধারণা করা হচ্ছে পিস্তলটি অবৈধভাবে যোগাড় করেছিল সে। কেননা পিস্তলের গায়ে সিরিয়াল নম্বর ঘষে তোলা ছিল। তার কাছে থাকা ব্যাগে ৩০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা: লুয়ান জেকুইরি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি ম্যাকডোনাল্ডের কাছেই ছিলেন। হামলাকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করতে থাকে। একই সঙ্গে গুলি ছোড়ে। ভেতর থেকে তীব্র আর্তনাদের শব্দ ভেসে আসে। তিনি বলেন, আমি সিঁড়ির ওপর দুজনকে গুলি করে হত্যা করতে দেখেছি। এরপরই একটি দোকানে আত্মগোপন করি। পরে দৌড়ে বেরিয়ে আসি। হত্যাযজ্ঞ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রক্তের মাঝে পড়ে আছে লাশ। আহতরা মেঝেতে পড়ে আর্তচিৎকার করছেন।
লরেটা নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি অ্যালার্মের মতো একটা শব্দ শুনলাম। এরপর বুম, বুম, বুম… সে শিশুদের হত্যা করছিল। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী হুসেয়িন বায়রি বলেন, রেস্তরাঁর বাইরে দিয়ে বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হামলাকারীকে চিৎকার করতে শোনেন। বিদেশিদের উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করছিল সে। এরপরই গুলি করা শুরু করে। আনুমানিক ১৪ বা ১৭ বছরের একটি ছেলে মেঝেয় লুটিয়ে পড়ে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4523430আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET