২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

কুমিল্লায় হারিয়ে যাচ্ছে ধোপার আদি পেশা!

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ১৫ ২০১৬, ১৬:০৪ | 681 বার পঠিত

আজিম উল্যাহ হানিফ:
ধোপা আভিধানিক র্অথ যে কাপড় কাচে। বাংলা পিডিয়া অনুসারে ধোপা কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি করার কাজে নিয়োজিত পেশাজীবী সম্প্রদায়। রজক নামে অভিহিত হিন্দু সম্প্রদায়ের নির্বন জাত ধোপারা আগের দিনে সমাজের সম্ভ্রান্ত শ্রেনী ও জমিদারদের কাপড় চোপড় পরিষ্কার করতেন। বর্তমানে তারা সোডা এবং ব্লিসিং পাউডার ব্যবহার করেন। অধিকাংশ নিবর্নের ধোপারা বৈষ্মব ধর্মালম্বী। তাদের মধ্যে গুটিকয়েক শাক্ত র্ধমের অনুসারী। অতীতে কদাচ দুয়েক জন মুসলমানকে এ পেশায় দেখা যেত। এখন অনেকেই এ পেশায় ঝুঁকছেন।
কুমিল্লা সনাতনী ধোপাদের আগমন ১৯২৮ সালে বা কারো মতে ১৯৩৩ সালে। ভারতের কুচবিহার বা বিহার অঞ্চল থেকে কুমিল্লা মুরাদনগর জমিদার বাড়িতে কয়েকজন আসেন। ১৯৩৬ সালে তাদের কয়েকজন কুমিল্লা শহর মুখী হন। কুমিল্লার মোগলটুলী, কান্দিরপাড়, চর্থা, বাদুরতলা, পুরাতন চৌধুরী পাড়ার কালীর বাড়ির পিছনের অংশে জমি ক্রয় করে থাকা শুরু করে। কুমিল্লা আশেপাশে বাগমারা, লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, কসবা, আখাউড়া,চাদঁপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করেন। স্বাধীনতার র্পূবে কুমিল্লা শহরের দীপিকা হল সংলগ্ন খালি মাঠে তারা পূজা করতেন। বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছি বাদুরতলার বিপুল স্যার, যার দাদা মুখলাল ছিলেন তৎকালীন সময়ের সিনেমার গানের বাদ্যযন্ত্রী, মোগলটুলীর মদন চন্দ্র দাশ, পুরাতন চৌধুরীপাড়ার শ্যামলা রানী, পলাশ, মুকেশ, শিবু কুমার দাশ, বাদুরতলার অর্জুন, চর্থার দিলীপ দাসহ প্রমুখের সাথে। তারা নয়া আলোকে জানান- কুমিল্লা অঞ্চলের অধিকাংশই বেলোয়ার সম্প্রদায়ের অর্ন্তগত বেলোয়ার সমাজের অর্ন্তভূক্ত,পাশাপাশি কেউ বা সভা সুন্দর সমাজেও আছেন।
সান্ধ্যা ব্রাহ্মন নিজস্ব সংস্কারে আবদ্ধ থেকে তাদের র্ধমীয় রীতি নীতি পালন করা হতো। তারা সূর্য পূজা করেন। প্রতিটি গুষ্টির আলাদা আলাদা দেবতা আছে।
কুমিল্লা অঞ্চলে এক সময় তাজিয়া মিছিলে অসাম্প্রদায়িক মনোভাবে এ গুষ্টি অংশগ্রহন করতেন। পূর্বে তাদের পঞ্চায়েত ছিল,আচার বিচার নিজেরাই করতেন। নিয়মের বাইরে গেলে জাত থেকে বের করে দেয়া হতো। অন্য সমাজে বিয়ে করতে গেলে অনুমতি লাগতো। তাদের মূল সর্দারের নাম ছিল মানচান। নতুন সমাজের দাবীতে পুরনো নিয়মের সংস্কারের বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে বেলোয়ার সমাজ উন্নয়ন সংস্থা গঠন করা হয়। সুনীল দাশকে সভাপতি দীলিপ কুমার দাশকে সহ সভাপতি,কার্তিক চন্দ্র দাশকে সাধারণ সম্পাদক করে এই সংস্থা গঠন করা হয়। লেখাপড়া, বাড়ি ঘর, বিয়ে, সৎকারে সহযোগিতা করা ছিল এই সংস্থার কাজ। বর্তমানে সংস্থাটির দায়িত্বে আছেন দীলিপ কুমার দাস। কথা হয়েছে তার সাথে। তিনি জানান- আমাদের সামাজিক অবস্থার উন্নত হয়েছে। র্বনকথা লোপ পেয়েছে। বাড়িতে এখনো নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করি। তবে প্রজন্মাতরে ভাষা সংকট তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি আরেকটি সংস্থা রয়েছে। যার নাম সভা সুন্দর সমাজ। চৌদ্দগ্রামের বিনোদ সর্দার এর প্রধান। মদন চন্দ্র দাশ এর দ্বিতীয় প্রধান। তারাও নিজস্ব রীতিনীতি আলাদা ভাবে পালন করে থাকেন। মদন চন্দ্র দাশ বলেন-আমাদের উর্পাজন বেড়েছে। তারপরও শিক্ষায় দীক্ষায় আমাদের ছেলে মেয়েরা উন্নতি করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
বেলোয়ার সম্প্রদায় নিজস্ব ভাষা সর্ম্পকে মতভেদ রয়েছে। তারমধ্যে একটি নাগরিক ভাষা,আরেকটি দেশাওয়াল ভাষা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারতীয় সংস্কৃত এবং বাংলার সমন্বয়ে এই ভাষা তৈরি হয়। আসাম হয়ে সিলেট এবং বিহার হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ভাষা প্রচলন শুরু হয়।
হযরত শাহজালাল (র) সিলেট আগমনের পর তৎকালীন হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে ভাব আদান প্রদানের জন্য একটি যুক্ত ভাষাটির বহুল ব্যবহার শুরু হয়। ধোপারা নিজস্ব পরিমন্ডলে এ ভাষা ব্যবহার করতেন এবং এখনো কুমিল্লা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে করেন। কালের বির্বতনে এই ভাষা হারিয়ে যেতে চলেছে। এই ভাষার বর্ণমালার কথা অনেকেই জানেন না তাদের মধ্যে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই ভাষা সংরক্ষনের দাবী আছে। সাংবাদিক সৈয়দ সাফিউল হাসান চিশতী বলেন এই ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4393823আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 0এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET