কুষ্টিয়ায় শহরতলীর জুগিয়া গ্রামে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে উডল্যান্ড প্লাইউড কোম্পানী। এক দিকে গাছ কেটে প্লাইউড ও পার্টেক্স তৈরী করে পরিবেশ উজাড় করছে। অপরদিকে শ্রমিকের নেই কোন নিরাপত্তা। অল্প বেতনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য করা হচ্ছে শ্রমিকদের। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করালেও শ্রমিকদের নেই কোন ইন্স্যুরেন্স। ফায়ার ফাইটিংয়ের কোন জোরালো ব্যবস্থাও নেই এই কোম্পানীতে। নেই কোন শ্রমিকের কাজের ক্ষেত্রে সেফটি জুতা বা পোষাক, ঝুকিপূর্ণ কেমিকেল ব্যবহার করা হলেও হাতে শ্রমিকরা ব্যবহার করছে না কোন গ্লোবস্। ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরী। এই মজুরী দিয়ে চলছে কারখানা।
পরিবেশ দূষন এতোটাই বেড়েছে যে আশে পাশের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছে। কমমূল্যে আশে পাশের জমিগুলো গ্রাস করেছে উউল্যান্ড প্লাইউড কোম্পানী। গত ২২ নভেম্বর ভোরে রাতে শিফটে কাজ হচ্ছিলো কোম্পানীতে। এসময় অগ্নিকান্ডের ঘঁনা ঘটে। ৪ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একের পর এক শ্রমিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিহত শ্রমিকরা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া বারখাদা এলাকার মতিয়ারের ছেলে সাজেদুল ইসলাম (২২), একই এলাকার আব্বাস আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৭), জুগিয়া উত্তরপাড়া এলাকার উমর আলীর ছেলে চান্নু মিয়া (১৮) ও লাহিনীপাড়া এলাকার রায়হান আলী (১৮)।
অগ্নিকান্ডের পর ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার দু’দিন পর ২৪ নভেম্বর মারা যান শ্রমিক চান্নু মিয়া, ২৬ নভেম্বর মারা যান মেহেদী হাসান, ২৭ নভেম্বর মারা যান রায়হান আলী, সর্বশেষ ১ ডিসেম্বর রাতে মারা যান সাজেদুল ইসলাম।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ জানিয়েছিলেন, ডাস্ট কালেক্টর সেকশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় তা নেভাতে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে। শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত বলে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছিল কোম্পানিটির পক্ষ থেকে। তবে শর্ট সার্কিট থেকে নয় আগুন লাগে শ্রমিকরা সিগারেট সেবনের জন্য লাইটার ব্যবহার করতো সেই লাইটার থেকে এমন দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অফ এ্যাডমিন তুহিন জোয়ার্দার।
তবে এডমিন তুহিনুল জোয়ার্দারের এমন বক্তব্যকে উপেক্ষিত করে শ্রমিকরা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে মেশিন (বয়লার) ত্রুটি থাকার কারনে কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিলো। কিন্তু পুরোপুরি মেরামত না করেই আবার শ্রমিকদের কাজ করতে নির্দেশ দেয় কতৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে শুক্রবার ছুটি থাকা স্বত্বেও কাজে আসতে বাধ্য করে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ায় কর্মরত উপ মহাপরিদর্শক হাসিবুজ্জামানের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসব বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে জানান ।









