কুষ্টিয়ায় ববরাদ্দকৃত সার কালোবাজারে ট্রাকভর্তি ডিএপি সার ক্রয় করেছেন গাংনীর বামন্দি বাজারের গোল্ডেন টেডার্স। মঙ্গলবার দুপুরে ওই সারের দোকানে কুষ্টিয়া থেকে পাচার করা প্রায় ৪শ’ বস্তা ডিএপি সার নামানো হয়। তবে দোকানের ম্যানেজার রেজাউল দাবি করেন, তাদের নিজেদের নামে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে নিয়ে এসেছেন। ম্যানেজার এমন দাবি করলেও বিএডিসি অফিস থেকে জানা যায় মঙ্গলবার গোল্ডেন টেডার্সের নামে কোন সার উত্তোলন করা হয়নি।
এরআগে ১৬ নভেম্বর একই দোকানে ট্রাকভর্তি প্রায় ২০টন ইউরিয়া সার নামানোর সময় আটক করেছিল স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে গাংনী থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রতিনিধি বামন্দির উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আখের আলী ঘটনাস্থলে যেয়ে ট্রাকসহ সার আটক করে। পরে মোটা অংকের দফারফায় ওই সার ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে আবারো মঙ্গলবার ওই সারের দোকানে কুষ্টিয়া থেকে পাচার করা প্রায় ২০টন ডিএপি সার নামানো হয়। অভিযোগ উঠেছে গাংনীর কৃষি অফিসকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে কালোবাজারে সার ক্রয় করে নিজ দোকানে বিক্রয় করছেন গোলেন্ড টেডার্সের মালিক জেনিজ ফারজানা তানিয়া। মাসোহারা চুক্তিতে প্রতিমাসে শত শত টন সার কালোবাজারে বিক্রয় হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কালোবাজারের সাথে জড়িত রয়েছেন কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার কয়েকজন বিসিআইসির সার ডিলাররা।
সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া বিএডিসির চৌঁড়হাস সারগুদাম থেকে নিজ নামে বরাদ্দকৃত ৪০০ বস্তা ডিএপি সার উত্তোলন করে ট্রাক লোড করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিসিআইসির সার ডিলার আলতাফ হোসেন। উক্ত ট্রাকভর্তি সার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় নিজ দোকানে না নামিয়ে গাংনীর বামন্দি বাজারে গোলেন্ড টেডার্সের কাছে বিক্রয় করে দেন আলতাফ হোসেন। তার নামে মেমো করা (যশোর-ট-১১-০৫৪৮) নম্বার ট্রাকে করে ওই সার পাঠিয়ে দেয়া হয়। জানা যায় বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজের নামে বরাদ্দকৃত সার দোকানে বিক্রয় না করে কালোবাজারে অন্য জেলায় বিক্রয় করে আসছে। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
কুষ্টিয়া বিএডিসি অফিস সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিসিআইসির সার ডিলার আলতাফ হোসেন নিজ নামে বরাদ্দকৃত ৪০০ বস্তা ডিএপি সার উত্তোলন করেছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজ নামে পমো কেটে তিনি উক্ত সার উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।
সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ সালের আইনে স্পর্টভাবে বলা আছে এক স্থানের সার অন্য স্থানে নেয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, নীতিমালার ৯.৭ ধারায় বলা হয়েছে ডিলারদের উত্তোলন করা সার স্ব-স্ব এলাকায় পৌছালে ডিলারগণ সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে বা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মনোনিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিকট সারের আগমনী বার্তা প্রদান করবেন। এর একটি অনুলিপি ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার বরাবরে প্রেরণ করবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার-অতিরিক্ত কৃষি অফিসার অথবা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার গুদাম পরিদর্শন পূর্বক ডিলার রেজিষ্ট্রারে স্বাক্ষরসহ বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করবেন। ট্যাগ অফিসার সার বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং কৃষি কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
কুষ্টিয়া সদর কৃষি কর্মকর্তা বিঞ্চুপদ সাহা বলেন, এক স্থানের কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার অন্য স্থানে বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। সদর উপজেলার সার অন্য জেলায় কালোবাজারে বিক্রয় হচ্ছে এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এধরণের কর্মকান্ডের সাথে কোন ডিলার জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত ডিলার আলতাফ হোসেন বলেন, আমি সার উত্তোলনের পে-অর্ডার বিএডিসি অফিসে জমা দিয়েছি। কিন্তু আমার নামে সার উত্তোলন হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারব।
সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ সালের আইনে স্পর্টভাবে বলা আছে এক স্থানের সার অন্য স্থানে নেয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, নীতিমালার ৯.৭ ধারায় বলা হয়েছে ডিলারদের উত্তোলন করা সার স্ব-স্ব এলাকায় পৌছালে ডিলারগণ সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে বা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মনোনিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিকট সারের আগমনী বার্তা প্রদান করবেন। এর একটি অনুলিপি ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার বরাবরে প্রেরণ করবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার-অতিরিক্ত কৃষি অফিসার অথবা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার গুদাম পরিদর্শন পূর্বক ডিলার রেজিষ্ট্রারে স্বাক্ষরসহ বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করবেন। ট্যাগ অফিসার সার বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং কৃষি কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
কুষ্টিয়া সদর কৃষি কর্মকর্তা বিঞ্চুপদ সাহা বলেন, এক স্থানের কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার অন্য স্থানে বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। সদর উপজেলার সার অন্য জেলায় কালোবাজারে বিক্রয় হচ্ছে এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এধরণের কর্মকান্ডের সাথে কোন ডিলার জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত ডিলার আলতাফ হোসেন বলেন, আমি সার উত্তোলনের পে-অর্ডার বিএডিসি অফিসে জমা দিয়েছি। কিন্তু আমার নামে সার উত্তোলন হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারব।








