২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

কুষ্টিয়ায় কোরবানীর পশু বিক্রিতে লাভবান হচ্ছে কৃষক ও খামারীরা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৪ ২০১৬, ০২:০১ | 650 বার পঠিত

14138405_1778603329092103_38376687_nমো.নাজমুল হাসান নাহিদ, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।। কোরবানী আসন্ন তাই কুষ্টিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকার পশু ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাটে এমনকি বাড়িতে ঘুরে ঘুরে ব্যবসায়ীরা গরু ও ছাগল কিনে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়ার গো-খামারী এবং কৃষকেরা ভাল দামে গরু বিক্রি করতে পারায় বেজায় খুশি। এলাকার গো-খামারী ও কৃষকদের এই হাসি শেষ পর্যন্ত থাকবে কি-না এ নিয়ে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার গরু প্রবেশের অপোয় থাকায় খামারীদের মাঝে এক অজানা আতংক সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে এবার এলাকায় ২লাখেরও বেশি কোরবানীর পশু রয়েছে যা স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমান কোরবানীর পশু যাবে। গতবছর কুষ্টিয়ার গো-খামারী ও কৃষকেরা গরুর ভাল মুল্য পাওয়ায় এবারো জোরে শোরে পশুর প্রতি যতœ নিতে শুরু করেছে। আশায় বুক বেধে আছে। এলাকার গ্রামেগঞ্জে এমন কোন বাড়ি নেই যেখানে ২/৪টি কোরবানীর গরু পাওয়া যাবে না। শুধু কি তাই কোরবানীকে কেন্দ্র করেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার গো-খামার গড়ে উঠেছে। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই কোরবানীর গরু লালন পালন এবং কেনা বিক্রির কারনে এখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আমুল পরিবর্তন এসেছে। তার পরেও ধারাবাহিকভাবে পর পর কয়েকবার ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের কারনে এখানকার খামারী ও ব্যবসায়ীরা মারাত্বক তির মধ্যে পড়েছিল কিন্ত তারপরেও তারা হাল ছাড়েনি। গতবার ভাল লাভবান হওয়ায় এবার আরো উজ্জীবিত হয়ে সকলেই কোরবানীর পশুর জন্য নিবিড়ভাবে সময় ব্যয় করছেন। কুষ্টিয়া জেলা পশু সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে-এবার জেলার ৬টি উপজেলায় ১৭হাজার ৮১০টি খামার রয়েছে। এরমধ্য গরু প্রায় নব্বই হাজার, ছাগল ৫০ হাজার এবং ভেড়া ৩ হাজারের মত। সবেচেয়ে বেশি খামার এবং পশু বেশি কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়। সদর উপজেলায় সরকারী মতে ৪৪০০টি খামার যার গরুর পরিমান ২২হাজারের বেশি। তবে সরেজমিনে জেলার খামারী এবং কোরবানীর পশুর সংখ্যা অনেক গুন বেশি। সদর উপজেলা, কুমারখালী, খোকসা, দৌলতপুরে সবচেয়ে বেশি কোরবানীর পশু রয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোর পরিমান একেবারেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশালাকার গরু পালনের খবরটি সকলের জানা রয়েছে। এলাকায় ঘুরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সকলের মাঝেই বিক্রির প্রস্ততি চলছে। এলাকার গরুর হাটগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। রোজার পর থেকেই দেশের বড় বড় ব্যাপারীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সদর উপজেলার হররার মোজাম্মেল গোÑখামারের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানান-আমার খামারে ২৮টি মত গরু ইতিমধ্যে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর নিকট আশানুরূপ দামে বিক্রি করেছি। এর মধ্যে আরো কয়েকটি গরু, মহিষ এবং ভেড়া কোরবানীর জন্য রেখেছি। আশা করছি ভাল দামে বিক্রি করতে পারবো। তিনি জানান-এবার আগে ভাগে গরু বিক্রি করে ভাল দাম পেয়ে টেনশনমুক্ত হয়েছি। তিনি আরো জানান-এবার জেলার কৃষক এবং খামারীরা ভাল দামে গরু বিক্রি শুরু করেছে। প্রতি দিনই গরুর হাটে প্রচুর গরু বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্যাপারীরা বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে বড় এবং বিভিন্ন আকারের পছন্দসহি গরু কিনছে। এখন পর্যন্ত চাষীরা টেনশন মুক্ত রয়েছে। তাছাড়া সামনের দিন গুলোতে স্থানীয় ক্রেতারা কোরবানীর পশু কেনা শুরু করবে তাতেও ভাল দাম পাওয়ার আশা করছে সকলে। এখানকার সবচেয়ে বড় খামারী “কাজী ফার্ম” এর মালিক কাজী শওকত জানান-এবার তার খামারে ১৮০টির মত পশু রয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৪০টি ঢাকার হেমায়েতপুর জালালাবাদে নেয়া হয়েছে। বাকীগুলো ঈদের আগেই ঢাকায় নেয়া হবে আর কিছু পশু আগামী বছরের জন্য থাকবে। তিনি জানান-এর মধ্যে ১৪টি সাদা মহিষ এবং ২০টির মত ছোট ভুটানি গরু রয়েছে। তিনি জানান-পুরোদমে কোরবানীর পশু কেনা শুরু হয়েছে। ভালদামে কৃষক এবং খামারীরা পশু বিক্রি করছে। তবে আমাদের কাছে খবর আছে যে, ভারতীয় সীমান্তে (বর্ডারে) কয়েক লাখ গরু, মহিষ রাখা হয়েছে। বর্ডার খুলে দিলেই এবারো কোরবানীর পশুর বাজারে ধ্বস নামবে। তিনি, সরকারের নিকট করো জোরে দাবী জানান- দেশের কৃষক এবং গো-খামারীদের বাঁচাতে সরকার বর্ডার কড়কাড়ি নজর রাখবে বলে আশা রাখি। কুষ্টিয়া জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশাদুল হক জানান-এবারো জেলায় পচুর কোরবানীর পশু রয়েছে। কৃষক এবং খামারীরা যতœ নিয়ে পশু তৈরী করেছে। আমরা শুনেছি কৃষক এবং খামারীরা এবার কোরবানীর পশু বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়ায় সকলেই খুশি। প্রতি উপজেলায় কোরবানীর পশুর জন্য আমাদের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। পশুর রোগ প্রতিশোধক ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত রয়েছে। খামারী এবং কৃষকদের মাঝে চাহিদামত তা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চাষীদের উদ্বুদ্ধকরনে প্রশিন দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান-আমরা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েছি কোথাও এখন পর্যন্ত গরু মোটাকরনের জন্য ট্যাবলেট সেবনের অভিযোগ পাইনি। এলাকাবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লে বিভিন্ন প্রচার প্রচারনা ও লিফলেট বিলি করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক ও খামারীরা এই ধরনের কোন কাজে যুক্ত নন বরং এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কোরবানীর আগ মুহুর্তে এ ধরনের কাজ করে থাকে তবে তাদের ব্যাপারেও আমরা সজাগ রয়েছি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4643818আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 17এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET