২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • অপরাধ দূনীর্তি
  • কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ কনস্টেবল ও সোর্স

কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ কনস্টেবল ও সোর্স

অর্পণ মাহমুদ, জেলা করেসপন্ডেন্ট ,কুষ্টিয়া।

আপডেট টাইম : মার্চ ০৩ ২০২১, ০১:৪৪ | 981 বার পঠিত

 মঙ্গলবার দুপুরে হেরোইন দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ সদস্য ও তার সোর্স।

জানা যায়, কুষ্টিয়া পৌরসভার হাউজিং কদমতলা মোড় এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে হাতকড়া পরিয়ে জোর পূর্বক হেরোইন পকেটে হেরোইন দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ কনস্টেবল জিনারুল ও সোর্স খেত মাদকসেবী রবিন। এঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ কনস্টেবল ও সোর্স খেত মাদকসেবী কে আটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর পিয়ার আলী জুমারত জানান, আমার দোকানের পাশে হট্টগোল হওয়া দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে হাতকড়া পরিয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করছে।

তিনি আরো বলেন, জাহাঙ্গীর নামক ঐ ব্যাক্তিকে মারধর করার পাশাপাশি ওর পিছনের পকেটে ছোট ছোট বেশ কিছু পুরিয়া হেরোইন ঢোকানোর চেষ্টা করছিল। আমি মারছেন কেন জানতে চাইলে? পুলিশ সদস্য বলেন, আমরা পুলিশ আর এর কাছে মাদকদ্রব্য আছে। তিনি বলেন ওর কাছে মাদকদ্রব্য থাকলে বের করেন আমি সাক্ষী হব। সেসময় ওখানে অনেক সাধারন মানুষ ভিড় জমায় এবং তাদের সামনে কথার সত্যতা দেখাতে ব্যার্থ হওয়ায় পুলিশ সদস্য ও তার সোর্সকে গণধোলাই দেয় উপস্থিত জনতা।

তিনি আরো বলেন, এভাবে প্রতিনিয়ত কিছু অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের কারণে অপরাধ না করেও সাজা ভোগ করছে অনেকেই। এই কারণে নিরপরাধী মানুষগুলো পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেনস্থার শিকারও হচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি জানান, এভাবে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারন মানুষকে ফাঁসিয়ে জোর করে অর্থ আদায় করে চলেছেন এই পুলিশ সদস্য ও তার সোর্স।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, পুলিশের সোর্স হিসাবে পরিচিতি রবিন নিজেই মাদকদ্রব্য বিক্রেতা ও মাদকসেবী। সে নিয়মিত মাদকসেবন ও মাদক বিক্রয় করে থাকেন। সাধারন মানুষকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় করা রবিনের কাছে নতুন কিছু না। এর আগেও সে এধরনের কাজ করেছে।

সোর্স রবিনের মা এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার ছেলে পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। আজ বেলা ১২টার দিকে তার ছেলেকে এক পুলিশ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে শুনি আমার ছেলেকে থানায় আটকে রাখা হয়েছে। থানায় গিয়ে ছেলের সাথে কথা বলেছি। আমার ছেলে আমাকে বলেছে পুলিশ তাকে ফাঁসিয়েছে। তবে শুনেছি আমার ছেলে ও পুলিশ গণপিটুনির স্বীকার হয়েছেন।

ঘটনার শিকার জাহাঙ্গীর এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। জাহাঙ্গীর এর ছোট ভাই আলমগীর এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আজকে আমার ভাইকে পুলিশ ও তার সোর্স মিলে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। থানায় গিয়ে ওসি সাহেবের সাথে সরাসরি কথা হয়েছে। তিনি আমার সামনেই ঐ পুলিশকে বকাবকি করেছে এবং তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এঘটনার পর ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে আর সোর্সকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এবিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খায়রুল আলম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সুনেছি। দেখছি বিষয়টা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4494335আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 13এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET