১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

কেশবপুরের এনামুল রিকসা চালিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাষ্টার্স পড়ছে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১৯ ২০১৬, ২৩:৩০ | 664 বার পঠিত

মেহেদী হাসান,বিশেষ প্রতিনিধিঃ-

গ্রামের ছেলে এনামুল হক। খুলনা সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শেষ বর্ষের ছাত্র। জীবন সংগ্রামে লড়াকু এক যোদ্ধা। অভাব অনাটন এর মধ্যে তার জন্ম। শত প্রতিকুলতা মাঝেও শিক্ষা সংগ্রামে সে এখন সাহসী সৈনিক। তার বয়স তখন ৭ বছর। ১৯৯৮ সালে সে কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট শহীদ খালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। তখন থেকেই তার জীবন যুদ্ধ শুরু। কখনো বাদাম কখনো আখ বিক্রি করে টাকা আয়করে নিজের পড়াশুনার খরচ বহন করতো। সেই শিশুটি এখন খুলনা শহরে রিকসা চালিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস শেষ করে মার্ষ্টাসে পড়াশুনা করে। নিজেরও ছোট ভাইয়ের পড়াশুনা, জটিল রোগে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে।
জীবন সংগ্রামী এনামুল হকের রিকসায় উঠে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয়। শোনায় তার সংগ্রামী জীবন কাহিনী। এরপর আবেগ-আপ¬ত্ব হয়ে তার কষ্টে গাথা ঘটনা বলেন।
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের দিনমজুর মো. ফজলুল রহমানের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের মধ্যে এনামুল বড়। স্ত্রী ও তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে দরিদ্র ফজলুল হকের সংসার চালানোই ছিল দায়। তার পরে পড়াশুনার খরচ বহন করাতো দুর্সাধ্য। কিন্ত শিশু এনামুল হক লেখাপড়ার প্রতি ছিল খুবই মনোযোগী। অভাবের কাছে হার না মেনে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র থাকাস্থায় পড়াশুনার ফাকে সে বাদাম বিক্রি করে যে টাকা আয় হতো তা দিয়ে স্কুলের খাতা কলম কিনতো। এই ভাবে নিজের পড়াশুনার খরচ নিজেই বহন করতো।
২০০৫ সালে অষ্টম শ্রেণী পড়া অবস্থায় গ্রাম্য রাস্তায় মাটির কাজ করে যে টাকা আয় করতো তা দিয়েই নিজের বই খাতা ও স্কুলের খরচ বহন করতো। তখন তার পিতা বলেন- এভাবে শুধু পড়াশুনা করলেই চলবেনা সংসারের ও খরচ চালাতে হবে। তখন সে অভিমান করে গ্রাম থেকে খুলনায় এসে রিকসা চালিয়ে নিজের খরচ বহন করে। এভাবেই তার জীবন চলতে থাকে। ২০০৮ সালে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১০ সালে কেশবপুর শহীদ লেফটেন্যান্ট মাসুদ কলেজ থেকে এইচ এস সি পাস করে। রিকসা চালিয়ে নিজের খরচ বহন করলেও মনোবল হারায়নি এনামুল। ২০১১ সালে খুলনা সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাসে ভর্তি হয়। তখন পরিচয় হয় ব্যাংক কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন, স্কুল শিক্ষিকা শাহনাজ বেগম সাথে। তাদের সহযোগীতায় রিকসা কেনে এনামুল। এসময় তাকে মঙ্গলকোট ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেনও সহযোগীতা করেন। ২০১৫ সালে অর্নাস শেষ করে সে এখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাষ্টার্সের ছাত্র। তার কলেজ রোল-১৪৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের-৯৭৪৩৮৫৬। শুধু নিজের পড়াশুনার খরচ নয়; তার ছোট ভাই আশরাফুল আলমের ও পড়াশুনার খরচ ও তার বহন করতে হয়। আশরাফুলকেও সরকারি বিএল কলেজে বিবিএ প্রথম বর্ষে ভর্তি করেছে। ইতিমধ্যে তার মা শিউলী বেগম ডায়বেটিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত তিন বছরে তিনদফা খুলনা শেখ আবু নাসের বিষেসায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিডনি রোগ বিষেজ্ঞ প্রফেসার ডা. এনামুল করিমের অধিনে সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জটিল রোগে আক্রান্ত মায়ের ওষুধের জন্য প্রতিমাসে এখন পাঁচ হাজার টাকার মতো লাগে। লেখাপড়ার শেষ প্রান্তে এসে নিজের এবং ভাইয়ের পড়াশুনার খরচ এবং মায়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে দরিদ্র এই মেধাবী ছাত্র এনামুল হিমশিম খাচ্ছে। মায়ের চিকিৎসা নিয়ে মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে সে। মেধারী ছাত্রের পরিবারে সহযোগীতার জন্য সমাজের বিত্তবান দের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। এনামুল হকের মোবাইল নং-০১৯৯৩-৫০৪৫১৬।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4719108আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 0এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET