২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

কেশবপুরে আতাউর হত্যার ৪ সপ্তাহ অতিবাহিত মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : অক্টোবর ৩০ ২০১৬, ১৯:৪২ | 657 বার পঠিত

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥
কেশবপুরে ঘের কর্মচারী আতাউর রহমান হত্যার ৪ সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও তার মৃত্যুর রহস্য আজও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। প্রাথমিক ময়না তদন্তে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় আটক দু‘ব্যক্তিকে পুলিশ রিমান্ডে আনলেও তাদের কাছ থেকে হত্যার কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি। তবে তার হত্যা নিয়ে এলাকায় নানামুখি গুঞ্জন চলছে।
উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মনোহরনগর গ্রামের বাবুর আলী সরদারের ছেলে আতাউর রহমানের লাশ গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪ টায় পার্শ্ববর্তী একই গ্রামের মানিক সরদারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক সরদারের মৎস্য ঘের থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহরাব হোসেন সিন্টু বাদি হয়ে কারো নাম উল্লে¬খ ছাড়াই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার নং-৪। পুলিশ দায় এড়াতে ঘের মালিক আব্দুর রাজ্জাক সরদার (৩৫) ও একই গ্রামের নওশের আলীর ছেলে হাফিজুর রহমানকে (৪৫) আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
জানাগেছে, গত ৩ মাস ধরে নিহত আতাউর রহমান বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছের খাদ্য হিসেবে শেওলা সংগ্রহ করে প্রতি নৌকা ১‘শ টাকা দরে ঘের মালিক আব্দুর রাজ্জাক সরদারের কাছে বিক্রি করতো। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৩ অক্টোবর সকালে আতাউর রহমান শেওলা সংগ্রহসহ বাড়ির পোষা ছাগলের জন্যে ঘাস কাটতে বের হয়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে থাকে। অবশেষে বিকেল সাড়ে ৪টার সময় তার লাশ আব্দুর রাজ্জাক সরদারের মৎস্য ঘেরের পূর্বপাশের ভেড়ির পানিতে উপুড় করা অবস্থায় উদ্ধর করে বাড়ি আনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্যে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে।
সরেজমিন আতাউর রহমানের পিতা বাবর আলী, মা সালেহা বেগম জানান, আমার ছেলের সাথে গ্রামে কারও শত্রুতা ছিল না। কে বা কারা কি কারণে তাকে খুন করে তার একমাত্র সন্তানকে এতিম করল তাও আমরা জানি না। যার জন্যে আমরা মামলা করতে রাজি হয়নি। তাছাড়া আমরা রাজ্জাককে কখনও সন্দেহ করেনি। এরপরও পুলিশ লাশ নিয়ে যায় এবং রাজ্জাক ও হাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।
এ ব্যাপারে পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল জানান, আব্দুর রাজ্জাক তার পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত ছিল। ঘটনার দিন সে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত পরিষদে কর্মরত ছিল। এরপর সে কোথায় গেল তা আমার জানা নেই। আতাউরের মৃত্যু নিয়ে একেক জন একেক রকম মন্তব্য করছে। কেউ বলছে সে স্ট্রোটকে, কেউ বলছে সাপের কামড়ে, আবার কেউ বলছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কেবা কারা হত্যা করেছে তা কেউ বলছে না।
ঘের মালিক আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী জেসমিন নাহার বলেন, আতাউর হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন হোক তা আমরাও চাই। কিন্তু যে সময় হত্যার ঘটনা ঘটেছে সেময় তার স্বামী ইউনিয়ন পরিষদেই ছিল। এলাকার একটি মহল উদ্দ্যেশ্যেমূলকভাবে তার স্বামীকে ফাসানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি এর প্রতিকার চেয়ে তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফেরদৌস বলেন, প্রাথমিক ময়না তদন্ত রিপোর্টে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক ও হাফিজুরকে ২ দিনের রিমান্ডে আনা হলেও তাদের কাছ থেকে হত্যার কোনো রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজ্জাকের ঘেরে তার লাশ পাওয়া গেছে এ জন্যে তাকে আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত চলছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4722864আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET