১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • কেশবপুর এসিল্যান্ড অফিসের নাজির ফরিদের সীমাহীন দুর্নীতি অনুমতি ছাড়াই পুরাতন ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করা হচ্ছে মালামাল

কেশবপুর এসিল্যান্ড অফিসের নাজির ফরিদের সীমাহীন দুর্নীতি অনুমতি ছাড়াই পুরাতন ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করা হচ্ছে মালামাল

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১৭ ২০১৬, ২২:০১ | 646 বার পঠিত

3এস আর সাঈদ কেশবপুর (যশোর) ॥ কেশবপুর এসিল্যান্ড অফিসের নাজির ফরিদুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশিরা। পূজা ও মহররমের ছুটির মধ্যে সরকারের অনুমতি ছাড়াই ওই অফিসের পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের ছাদের লোহার বিম (রেলের পাটি) ও শাল কাঠের পাটাতন খুলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ফরিদুল ইসলামের কর্মস্থল বাঘারপাড়া ইউএনও অফিসের সার্টিফিকেট সহকারি পদে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ডেপুটেশনে কেশবপুরে যোগদান করেন। এরপর নিজেকে পরিচয় দেন অফিসের নাজির হিসাবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন ভিপি সহকারি ও নামজারি সহকারি হিসাবে। ফলে যোগদানের পর থেকে তিনি সীমাহীন দুর্নীতি শুরু করেন। বাধ্যতামূলক ভাবে জমির নাম জারি, অর্পীত সম্পত্তির বন্দোবস্তোর নামে সরকারি ফির চেয়ে কয়েক গুন টাকা আদায় করে থাকেন। বর্তমান এসিল্যান্ড লিটন আলী সম্প্রতি যোগদানের পর সেবা সংক্রান্ত একটি পোষ্টার প্রকাশ করেন। পোষ্টারে ভূমি উন্নয়ন কর ও নামজারির সরকারি ফি সহ বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কথিত নাজির ফরিদুল ইসলাম পূর্বের এসিল্যান্ডের সময়ে অফিসের মোটর সাইকেল মেরামত খরচের কথা বলে নামজারির কেস প্রতি ২শ’ ৫০ টাকা বা কোন কোন কেসে তারও বেশী আদায় করছে। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তি কেসে মোটা অংকের টাকা ছাড়া কেউ রেহায় পায়নি। অর্পিত সম্পত্তি কেসে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন এ উপজেলা থেকে। মহাদেবপুর গ্রামের ইমারত হোসেনের নিকট থেকে ভিপি সম্পত্তির কেসে তিনি প্রায় এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু কাজটি করে দিতে না পারায় টাকা ফেরত দিলেও এখনো কিছু টাকা তিনি পাবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তার বাড়ি যশোরের লেবুতলা নামক এলাকায়। দাপটের সাথে চলেন প্রশাসনের সর্বত্র। তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রায় সময় দম্ভের সাথে বলে থাকেন কথিত এক নেতার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইউএনও অফিস থেকে এসিল্যান্ড অফিসে পোষ্টিং নিয়েছেন। তাই তাকে ধরার কেউ নেই।
ভূমি অফিসের সামনে কেশবপুর আওয়ামীলীগ অফিসের তত্ত্ববধায়ক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে ওই অফিসের পুরাতন ভবনের ছাদ ভাঙ্গা হতো। সকালেই তারা চলে যেত। অফিস এলাকার দোকানদার আব্দুল আহাদ বলেন, ভূমি অফিসের কথিত নাজির টাকা ছাড়া কারও সাথে কথাও বলে না। পুরাতন ভবন ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের বাবলু জানান, এ অফিসের বড় বাবু তাদের ভবন ভাঙ্গতে শ্রমিকের কাজ দিয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সারা দিন অফিস করলেও সন্ধ্যা থেকে অধিক রাত পর্যন্ত তিনি তার আসল অফিস করেন। কেশবপুরে যোগদানের পর তিনি উপজেলার ডরমেটরিতে কক্ষ বরাদ্ধ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি সহকারি কমিশনার ভূমি অফিসের চিলেকোঠায় একটি চকি, স্ট্যান্ডফ্যান ও বিছানাপত্র পেতে নিয়েছেন। অধিকাংশ সময়ে তিনি অফিসের চিলেকোঠায় রাত যাপন করেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নামজারি বা অর্পীত সম্পত্তির দাবিদাররা অবৈধ টাকার চুক্তি ও লেনদেন করতে আসেন।
দূর্নীতির কথা অস্বীকার করে ফরিদুল ইসলাম বলেন, উপরি মহল থেকে ভবন ভাঙ্গার কোন অনুমোদন নেয়া হয়নি। ভবনে মাদক সেবীদের অখড়ায় পরিনত হয়। নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছিল রাতে। তাই ভবনের ছাদ ভাঙ্গা হয়েছে। লোহার বিম অফিসে আছে। শাল কাঠের পাটাতন কোথায় বলতে পারেন না। অফিস সিমানার নীরাপত্তা নিয়ে থানায় মৌখিক বা লিখিত জানানো হয়নি বলে জানান।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিটন আলি বলেন, অফিসের পাশে পুরাতন ভবনে মাদকসেবীরা আশ্রয় নিত রাতে। ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষনা বা ভেঙ্গে ফেলার কোন লিখিত অনুমতি নেই। কেশবপুরের বন্যায় অফিস এলাকায় জলাব্ধতার সৃষ্টি হয়। পুরাতন ভবন কিছুটা ফাটল ধরে। যে কারণে মৌখিক ভাবে জেলা প্রশাসককে বলে ছাদ ভাঙ্গা হয়েছে। #

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4487879আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET