২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • খাদ্যে-স্বাস্থ্য উন্নয়নের একাল- সেকাল: স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও রোগ-প্রতিরোধের স্বাস্থ্যকর্মী দাবিয়ে রাখার পরিণতিতে অসুস্থ হচ্ছে জাতি

খাদ্যে-স্বাস্থ্য উন্নয়নের একাল- সেকাল: স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও রোগ-প্রতিরোধের স্বাস্থ্যকর্মী দাবিয়ে রাখার পরিণতিতে অসুস্থ হচ্ছে জাতি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ১৪ ২০১৬, ০২:১৯ | 720 বার পঠিত

সোনাগাজী প্রতিনিধিঃ জহিরুল হক খাঁন (সজীব)- খাদ্যে-স্বাস্থ্য উন্নয়নের একাল-
সেকাল: স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও
রোগ-প্রতিরোধের স্বাস্থ্যকর্মী দাবিয়ে রাখার পরিণতিতে অসুস্থ হচ্ছে জাতি !
বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য-স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও খাদ্য-দ্রব্যের ভেজাল
নিয়ে সচেতন মহলের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
চুড়ান্ত পর্যায়ে। বিগত তিন দশক
সময়কালব্যাপী দেশের সর্বত্র খাদ্য-
ভেজালের মাত্রাতিরিক্ত বিস্তৃতি
নন-কমিউনিক্যাবল রোগের (বিশেষত:
হার্ট, কিডনি ও ক্যান্সার ডিজিস)
রোগের পরিমাণ ও মৃত্যুর সংখ্যা
আশংকা জনক হারে বাড়ছে। ২০১৩
সালে প্রণীত হয়েছে নিরাপদ খাদ্য
আইন। পরিস্থিতির কোন উন্নতি নাই।
ভেজালের কমতি নাই ! ভেজাল
নিয়ন্ত্রণে; সভা-সেমিনার ও সংবাদ
মাধ্যমে নানামুনীর নানা মত। কেউ
বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দশ বছরে এদেশের ঘরে-ঘরে ক্যান্সার ও কিডনী রোগী পাওয়া যাবে। কেউ বলছেন, আরও কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আর আমাদের এই প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। কী সেই ভিন্নতা? এই অঞ্চলে সরকারী বা রাজকীয় উদ্যোগে জন-স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে মহুকুমা ভিত্তিক প্রথম কর্মী নিয়োগ করা হয় ১৮৬৪ সালে। যাদের নাম ছিল ‘স্যানিটারি কমিশনার’। প্রধান কাজ ছিল, খাদ্যের ভেজাল প্রতিরোধের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীতে খাদ্য-স্বাস্থ্য উন্নয়ন, স্বাস্থ্য-শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে আধুনিক ও উন্নত স্যানিটেশন
সম্পর্কিত ধ্যাণ-জ্ঞানের বিতরণ এবং
সর্বোপরি সংক্রামক-অসংক্রামক
মারাত্বক রোগসমূহের প্রতিরোধকরণ।
উপযোগিতা ও জনগুরুত্ব বিবেচনায়
নিয়ে তৎকালীন বৃটিশ গভঃ ১৯২৭
সালে স্যানিটারি কমিশনার পদের
থানা ভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ করেন।
নাম হয় ‘স্যানিটারি ইন্সপেক্টর’।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টরেরা হাট-
বাজার ও পাবলিক প্যালেস পরিদর্শনে
যেয়ে খাদ্যের ভেজালকারী
চিহ্নিত করে তৎক্ষণাৎ শাস্তি ও
জরিমাণার বিধান করতে সক্ষম
ছিলেন। অন্যদিকে তখন, সমগ্র ইউরোপ জুড়ে গোটি-বসন্তের আতংক! আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই মারা পড়ছে। এমন এক সময়ে, ১৭৯৬ সালে বৃটিশ পিজিশিয়ান ডাঃ এডওয়ার্ড জেনার
রোগের প্রতিরোধে টিকাদানের
আধুনকি রূপ আবিস্কারে সমর্থ হন এবং মিঃ জেনারের এই আবিস্কার জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। ১৮০৩ সালের মধ্যেই পদ্ধতিটি ইউরোপে, পরে আমেরকিায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ১৮২১ সালে বৃটেনে বাধ্যতামূলক টিকাদান আইন পাশ হয়। এই অঞ্চল বৃটিশদের অধীনে থাকায় বৃটিশরা বাধ্য হয়ে (নিজেরা বেঁচে থাকার তাগিদে) বাংলার জনগণের জন্য ‘ভ্যাকসিনেশন এক্ট, ১৮৮০’ প্রণয়ন করেন। উল্লেখিত আইন বাস্তবায়নের নিমিত্তে রোগ-প্রতিরোধের
স্বাস্থ্যকর্মীর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ
‘স্বাস্থ্য পরিদর্শক’ পদ সৃজন করা হয়। এই স্বাস্থ্য পরিদর্শকেরাই বাংলার
জনগণের স্বাস্থ্য-সুরক্ষায়
মর্যাদাসহকারে ভ্যাকশিনেটর
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই
স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্যসেবায়
নিয়োজিত অন্যান্য কর্মীরা থানা
পর্যায়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের
অধীনে থেকে কাজ করতেন। জেলা
পর্যায়ের তদারককারী কর্মকতা ছিলেন
চিফ-মেডিকেল অফিসার অব হেলথ
(সিএমওএইচ)। নানা ধরণের
স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে খাদ্যের ভেজাল ও
রোগ-প্রতিরোদের স্বাস্থ্যকর্মীরাই
বাংলার আদি ও বুনিয়াদি স্বাস্থ্য
জনবল। থানা পর্যায়ে কিউরেটিভ
ধারার ( যেটিকে আমরা চিকিৎসা
বাণিজ্যের ধারা হিসেবেও জানি )
মেডিকেল অফিসার ও নার্সেসদের
সরকারী পদ তখনও সৃজিত হয়নি। অন্যন্যদের সকলেই স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নেতৃত্তে¡ প্রধানত: রোগ-প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়েই জনস্বাস্থ্য-সুরক্ষায় কাজ করতেন। স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের খাদ্য-ভেজাল নিয়ন্ত্রণ ও পাবলিকভ্যাকসিনেটরদের ভ্যাকসিনেশন কাজে অধিক গতি
বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৪৪সালে সরকার ‘দি পাবলিক হেলথ আইন প্রণয়ন করে
ইহার অধীনে ‘স্বাস্থ্য সহকারী’ পদে
উল্লেখ যোগ্য সংখ্যায় স্বাস্থ্য-জনবল
নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এসকল স্বাস্থ্য
সহকারীদের মৌলিক দায়িত্ব ছিল
হেলথ ইন্সপেক্টর (=টিকাদান) ও
স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের (=খাদ্যের
ভেজাল নিয়ন্ত্রণ) কাজে সহযোগিতা
দান। বৃটিশদের কলোনিয়াল পদ্ধতির
সরকার পরিচালনায় শোষণের লক্ষ্য
নিধারিত থাকলেও অস্বীকার করার
উপায় নেই যে, উপমহাদেশে আধুনিক
চিকিৎসা পদ্ধতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্
থাপনাগত অবকাঠামোর গোড়াপত্তন
তাদের হাতেই শুরু। এবং গ্রাম-শহরের
সর্বত্র জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন তথা
স্বাস্থ্যসেবা বিতরণে উপরোক্ত
প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন
সরকারের একমাত্র ভরসা।
বৃটিশদের শাসনের শেষদিকে
কলিকাতা ও ঢাকা মেক্যিাল
কলেজের হাত ধরে এদেশের
কিউরেটিভ (স্থাপনার ভেতরে
রোগীর আরোগ্যমূলক চিকিৎসা-সেবা
দান) স্বাস্থ্য-সেবা প্রদানের কার্যক্রম
ও মেডিক্যাল বা চিকিৎসা শিক্ষার
সম্প্রসারণ শুরু করা হয়। চিকিৎসা
শিক্ষার উন্নয়ন ও তদারকী কাজের
প্রয়োজনে ১৯১৪ সালে পূর্ববাংলার
ঢাকাতে ‘দি স্ট্যাইট মেডিক্যাল
ফেকাল্টি’ নামে (বর্তমানের টুটো-
জগন্নাথ) একটি প্রতিষ্টান স্থাপিত হয়।
বৃটিশদের আদলে প্যারামেডিক্স
শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে
প্রতিষ্টানটি প্রথমেই স্যানিটারি
ইন্সপেক্টরদের জন্য ‘স্যানিটারি
ইন্সপেক্টরশিপ’ ডিপ্লোমা কোর্স চালু
করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর গঠিত হয়। পাকিস্তানী
শাসক-শোষকেরা জনস্বাস্থ্যের
উন্নয়নে গণ-মুখীন নীতির বিপরীতে
অবস্থান নেয়। রাস্ট্র পরিচালনায়
জনগণের মতামত উপেক্ষা করে গা’য়ের জোর প্রাধান্য দেয়।
ভাল-মন্দের ভবিষ্যৎ বিচার-বিশ্লেষণ
না-করে, গোঁজামিলের প্রশাসন
পরিচালনায় রোগ-প্রতিরোধের
স্বাস্থ্যকর্মী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও
হেলথ ইন্সপেক্টরদের নিয়োগদানকারী
কর্তৃপক্ষের হঠাৎ করেই পরিবর্তন ঘটায়। সিএমওএইচ পদ বিলুপ্তির মাধ্যমে উপরোক্ত প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মীদের সিভিল সার্জনের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়। জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের
প্রিভেন্টিভ ও কিউরেটিভ ধারার
কর্মীগণকে একিভ‚ত করা হয়।
কিউরেটিভ অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্তে¡ চলে যায় জনস্বাস্থ্যের প্রিভেন্টিভ সার্ভিসের নিয়োজিত কর্মীগণ। জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের প্রধান আইন দ্বয় (বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ- ১৯৫৯, পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি প্রভিসন এক্ট- ১৯৪৪)ও ইহার প্রয়োগ-বিধিমালা (বিশুদ্ধ
খাদ্য-বিধি – ১৯৬৭) সংযোজন-
বিয়োজনের ক্ষমতা থেকে যায়
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। আইন
বাস্তবায়নের বৃহদাংশ জনবল স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের কিন্তু আইনটি রয়েগেল
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হাতে Ñ
এ-এক অদ্ভ‚ত অপকৌশল প্রয়োগের
মধ্যদিয়ে জনস্বাস্থ্যের ব্যবস্থাপনা
পদ্ধতি বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। বস্তুত:
তখনই রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে চিকিৎসা
বাণিজ্যের বীজ বপন করা হয় এবং
চিকিৎসা বণিকদের হাতে মানুষের
শরীর চুরি হয়ে যায়! খাদ্যে-ভেজাল
নিয়ন্ত্রণকারী স্যানিটারি
ইন্সপেক্টরদের কাজে-কর্মে ছেদ ঘটে।
সকল পদের প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মীদ
ের পেশাগত মর্যাদার অবনমন শুরু হয়!
বৈষম্য, নিস্পেষণ ¯পষ্টতা পায়!
হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালী
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে কোটি
জনতা বৈষম্য-শোষণের বিরুদ্ধে রুখে
দাঁডায়, শোষণ মুক্তির আকাঙ্খা নিয়ে
ঐক্যবদ্ধ হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী
সংগ্রামে ত্রিশ লক্ষ প্রাণের
বিনিময়ে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয়
আমাদের মহান স্বাধীনতা, স্বাধীন
বাংলাদেশ! স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর
নেতৃত্বে বাংলার জনগণের স্বাস্থ্য
সেবা গণমুখীন নীতিতে পরিচালনা
করার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করা হয়। খাদ্যে
ভেজাল কারীদের মৃত্যুদন্ডের বিধান
রেখে আইন প্রণীত হয় ১৯৭৩ সালে।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের খাদ্যের
ভেজাল নিয়ন্ত্রণ কাজে গতি ফিরে
আসে। মর্যাদা পূণরুদ্ধার করা হয় (১৯৭৩
সালের পে-স্কেল ইহার প্রমাণ)। কিন্তু
হতভাগা জাতির সাথে স্যানিটারি
ইন্সপেক্টরদেরও দূর্ভাগ্য পিছু ছাড়েনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট তারিখে নির্মম
পাশবিকতায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়
স্ব-পরিবারে। প্রশাসন যন্ত্রে জেঁকে
বসে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
বিরোধী লোকজন। স্বাস্থ্য-প্রশাসনের
সংস্কারের নামে স্বাধীনতা ও
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের
নেতৃত্বে, বাংলার মানুষের জনস্বাস্থ্য
বিপদগ্রস্থ ও বিপথগামী করার সুদূর লক্ষ্য
নিয়ে রাষ্ট্র যন্ত্রের উপর মহলে শুরু হয়
গভীর ষড়যন্ত্র। প্রশাসনিক সংস্কারের
নামে গঠন করা হয় কূখ্যাত এনাম কমিটি।
এনাম কমিটির রিপোর্টে জনস্বাস্থ্য
রক্ষার ভাইটাল কাজের সাথে সম্পৃক্ত
থাকা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ সকল
প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মীকে নন-
মেডিকেল-ষ্টাফ হিসেবে ঘোষণা
করা হয়। ডিজি-হেলথ সার্ভিসের
অধীনে কর্মরত সকল নন-মেডিকেল
কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এক অদ্ভ‚ত
ধরণের নতুন নিয়োগ-বিধি প্রণয়ন করা
হয়। যে বিধির আওতাধীন হয়ে
বাংলার মৌলিক প্রিভেন্টিভ
(রোগের প্রতিরোধের) স্বাস্থ্যকর্মীর
া মেডিকেল রিলেটেড ওয়ার্ক করেও
হয়ে গেলেন নন-মেডিকেল। এই গণ-
বিরোধী ও প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মী
বিদ্বেষী বিধিমালাটি নারীমাংস
লোভী স্বৈরাচারী এরশাদকে দিয়ে
গেজেট করানো হয় ১৯৮৫ সালের ১৫
আগষ্ট (জাতির শোকের দিনে)।
দুনিয়ার অন্যকোন দেশে এরকম দ্বিতীয়
নজির রয়েছে বলে আমাদের জানা
নেই। স্বাস্থ্য-প্রশাসনের সকল কর্তৃত্ব তখন
থেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে
ব্যবসায়িক চিকিৎসক ও চিকিৎসা-
বণিকদের হাতে চলে যায়। যিনি বা
যাদের কায়মনো প্রার্থনা থাকে
(চেম্বার নামক স্বাস্থ্যসেবার
দোকানে) রোগ ও রোগীর সংখ্যা
বাড়–ক, তাদেরকে দিয়েই আবার
জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন-কর্মসূচি
বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দান! স্যালুকাস
নীতি বটে ! এ যেন ডাইনি বুড়ির
গল্পের গোলক ধাঁ-ধাঁ, “গাছের গোড়ায়
কাটিয়া আগায় ঢালো জল!” এই ৮৫’র
নিয়োগ-বিধি কার্যকরের মাধ্যমে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন রোগ-
প্রতিরোধের (প্রিভেন্টিভ) বুনিয়াদী
স্বাস্থ্যকর্মীদের সকল পদবী-ধারীগণ
নানাভাবে কথিত ব্যবসায়িক
মানসিকতার চিকিৎসক-প্রশাসনিক
কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের নীতি
নির্ধারক-মন্ত্রী, গণবিরোধী
আমলাদের হাতে ধীরে ধীরে
পেশাগত মর্যাদার অবনমন, অবহেলা-
অপদস্ত ও নাজেহাল হবার দৃষ্টান্ত দেখা
যায়। প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মীদের
পদগুলো রাজস্ব-খাত ভ‚ক্ত এবং
প্রিভেন্টিভদের প্রাণান্ত সেবায়
কমিউনিকেবল রোগ-সমূহ সম্পূর্ণরূপে
নিয়ন্ত্রিত থাকায় দেশের চিকিৎসা-
বণিকেরা স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে এই
পদগুলো অবলুপ্ত না-করতে পারার একটি
ক্ষোভ আছে। ফলে, প্রশাসনের ভেতরের
চিকিৎসক-কর্মকর্তাগণ ‘যারে মারতে
পারিনা হাতে তারে মারব ভাতে’
নীতিতে প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মীদ
ের কাজ-কর্ম পরিচালনার নীতি
অবলম্বন করেন। যার দরুন দেশে নিরাপদ
খাদ্য আইনের মত যুগোপযোগি আইন ও
খাদ্য-ভেজাল নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত
সরকারী দক্ষ-জনবল থাকা সত্তে¡ও
দেশের মানুষের খাদ্য-স্বাস্থ্যের
উন্নয়ন করা যাচ্ছেনা। দিনে দিনে
আরো ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি। শুধু তাই
নয়, স্বাস্থ্যসেবার আরও অনেক সূচকে
নিশ্চিত উন্নতির সুযোগ থাকার পরও
শুধুমাত্র চিকিৎসা-বাণিজ্যের
লোকসানের ভয়ে সেগুলো করা হয় না।
পেশার আধুনিকায়ন, পদ ও মর্যাদাবৃদ্ধি
দূরের থাক; রোগ-প্রতিরোধের
(প্রিভেন্টিভ) স্বাস্থ্য-জনবল বৃটিশ ও
পাকিস্তান আমলে যা ছিল বর্তমানেও
তাই আছে। উপরন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এই
সংখ্যা ডিক্রিজ করা হয়েছে,
প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মীর মর্যাদার
অবনমন করার নজিরও দেখা যায়।
স্বাস্থ্যের নীতি নির্ধারণ পর্যায়
থেকে (মন্ত্রণালয়) খাদ্য-স্বাস্থ্য
উন্নয়নের প্রকৃত দক্ষ-জনবলের পরিমাণ
বার বার গোপন করে রাখা হচ্ছে এবং
স্বল্প সংখ্যার প্রদর্শন করা হচ্ছে Ñ
যাতে করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও
দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে খাদ্য-
ভেজাল নিয়ন্ত্রণের কাজ প্রলম্বিত
করা যায়। কার্যত: এই লুকোচুরির
ষ্ট্র্যাটেজিতেই চলছে জনস্বাস্থ্যের
উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা। এখানে
স্বাস্থ্যসেবায়, এফএও/ডবিøউএইচও’র
গাইড-লাইন্স ও জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি
ব্যাপক মাত্রায় উপেক্ষিত।
“চিকিৎসার চেয়ে রোগ-প্রতিরোধ
উত্তম” চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অমোঘ
বাণী কর্তৃপক্ষের মুখের শোভন বাক্য,
হৃদয়ের কর্তব্য নয়। দেশের জনস্বাস্থ্য বা
খাদ্যের ভেজাল নিয়ে যারা
ভাবেন, সভা-সেমিনার ও সংবাদ
মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মতামত রাখেন,
তাঁদের অনেকেই বিষয়টি ভাসা-
ভাসা দৃষ্টিতে দেখেন, প্রশাসনিক
কাঠামোর গভীরে প্রবেশ করেন না।
এটা ঠিক যে, আধুনিক চিকিৎসা
সেবার প্রয়োগে বৃটিশ বা পাকিস্তান
আমলের চেয়ে দেশের মানুষের গড় আয়ূ
অনেক বেড়েছে। তবে, ঐ আমলের
দাদার বয়সী যে সকল প্রবীনেরা
বেঁচে আছেন তাঁদেরকে জিজ্ঞেস
করলে একটি বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা
আসবে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4727928আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET