১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

খুঁজে পাবে নাকো তুমি! মোঃ সাইফুল আনোয়ার স্বপন

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৮ ২০১৬, ০১:৪৪ | 853 বার পঠিত

খুঁজে পাবে নাকো তুমি!
মোঃ সাইফুল আনোয়ার স্বপন
যখন দেশে বন্যা, খরা, ভূমিকম্প হয় তখন ছোটবেলায় রেডিও বা টিভিতে পড়া হতো হামদ্ নাত বা ইসলামী গজল। মিডিয়ায় শুনতাম ‘এই শাহজালাল (রঃ) এর বাংলাদেশ, এই শাহ পরাণ (রঃ) এর বাংলাদেশকে রহম করুন আল্লাহ- রহম করুন।’ মনটা তখন নিজ অজান্তেই ধর্মীয় আবেশে পুলকিত হতো। আজ জীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে বোধ হয়- যে ঠেকায় বা ফাঁন্দে পড়লে বাপজান- সারলে আমারে পায় কে?
তবুও আমার দেশ। প্রাণ কান্দে, মন কান্দে- ছাতিতে যেন ধরে আছি পুরো বাংলাদেশের মানচিত্র। যে একবার বিদেশ যাবেন সেই বুঝবেন দেশের মায়া কেমনÑ দেশের জন্য মন কেমন করে।
সুজলাÑসুফলা শস্যÑশ্যামলা নদী বিধৌত পলি দ্বারা আবৃত এই আমারÑআপনার স্বদেশ। কৃষাণের হাসিমাখা মুখ, মাঝির ভাটিয়ালি গান, গাড়িয়ালের উদাসী ভাওয়াইয়া যে কাউকে শিহরিত করে। জীবনানন্দ তো বড্ড বেশি এই দেশের প্রেমে পড়েছিলেনÑ আর লিখেছিলেন ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ি নদীটির তীরেÑ কখনো শঙ্খচিল শালিকের বেশে। এই দেশের প্রতি ভালবাসাÑ এই জন্মভূমির প্রতি টান কেউ অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু এত স্বদেশ প্রেম থাকা স্বত্বেও মানুষ দলে দলে শুধু বিদেশ যায়। শহরে, বন্দরে, গ্রামেÑগঞ্জে যাকেই জিজ্ঞাসা করি ভাই কি করেন? প্রায় সিংহভাগই জবাব দেয় বিদেশ যাচ্ছি বা বিদেশ যাবার প্রস্তুতিতে আছি। দেশে থাকুন, বিদেশে কেন যাবেন- একথা আমি বললেই তারা নাতিদীর্ঘ বক্তব্য শুরু করে দেয় আর এমনভাবে রাগতস্বরে বলে যে পারলে পাখি হয়ে পাড়ি দিবে এখনই অন্য দেশে। পথে প্রান্তরে দেখা পাওয়া এসব ক্ষ্যাপাটে রাগী মানুষদের স্বদেশ ত্যাগের মূল কারনটা নিয়েই আমার আজকের এ লেখার অবতারনা। কিন্তু একটু অন্য ভাবেই লিখছি- আশা করি, সুপ্রিয় পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হবে না। কাউকে লজ্জা দেওয়া, গীবত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। মানুষকে সংশোধনের পথ খোঁজার মানসিকতায় ভাবিত করা আমার উদ্দেশ্য।
কি নেই আমাদের এ দেশে। সবইতো আছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু প্রাচুর্য্য আর প্রাপ্তির সম্ভার। প্রাচুর্য আর প্রাপ্তির এমন জোয়ার যে, মায়ের দুধের পর প্রথম প্রাকৃতিক খাবার যদি বাচ্চা বা নবজাতককে দেই তবে হবে ভেজাল দুধ। মেয়াদোত্তীর্ণ দুধের সম্ভারও আমাদের চারপাশে আছে। কি নেই আমাদের বলুন? এসব ভেজাল দুধ খেয়ে যদি বা দু-একটা আদমের বাচ্চা মরে তবে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার টনক নড়ে। মন্ত্রি, এমপি এসি রুমে থাকা ইজি চেয়ারে থেকে বিজি বিজি মুডে সরাসরি দোকানে-দোকানে, গোডাউনে তদন্তে নেমে যান। চারদিকে তখন হৈ হৈ রৈ রৈ কান্ড। সব মন্ত্রি এমপির তখন এই তদন্তকালে মিডিয়া ও টিভি ক্যামেরা সাথে নিতে ভোলেন না। এই নতুন দুলার পোঁজপাঁজ দেখাতে হবে তো! ভাবটা এই আর কি! এবং এইসব হৈ হুল্লার পর যথারীতি তিন বা দুএক বা গন্ডা কয়েক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয় যারা শেষ পর্যন্ত তদন্তের প্রতিবেদন হয় দিতে পারে বা কভুও দেয় না বা মাল খেয়ে দিতে পারে না।

আজ পর্যন্ত কত সহস্র তদন্ত প্রতিবেদন এদেশে ,,,,,,,,,, মাল খেয়ে টাল হয়ে ড্রেনে পড়ে থাকার মত, বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় খোঁজার আশায় অনন্তকাল হিমাগারে পড়ে থাকার মত ঝিম মেরে পড়ে থাকে বা পড়ে আছে তার খবর কেউ রাখে না। দু-চার ছয় মাস পর ঐসব ব্যবসায়ীরা একটা নবজাতকের জীবনঘাতী ব্যবসায় মেতে ওঠে। বলুনতো পাঠক কি নেই আমাদের! নির্ভেজাল চলতে, নির্ভেজাল হতে বা রাখতে যত না সৎ চিন্তা, সৎ সাহস দরকার তার চেয়ে তার উল্টোটা আমাদের শতগুণ আছে। মাছে ফরমালিন, ফলে কার্বাইড চাউলে পাথর, হলুদের গুড়া-মরিচের গুড়ায় ইটের গুড়া, সরিষার তেলে ঝাঁঝ বাড়ানোর জন্য ক্যামিকেল মিশ্রণ, বাচ্চাদের খাওয়া চিপ্সে আলুর পরিবর্তে বার্লি মিশ্রণ, জুসে কুমড়া ও ক্যামিকেলের বাসর ঘর- সবই হয় আমাদের এ দেশে। কি নেই আমাদের বলুন তো! খাবেন কি- সবখানে ভেজাল, সব খাবারে ভেজাল। এই সব ভেজালে ভেজালে যদি অসুস্থ্য হন তবে ভেজাল ডাক্তারও ভালোর পাশাপাশি অজস্র আছে। ভালোর পাশাপাশি অজস্র ভেজাল- মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধও পাওয়া যায়। বেশির ভাগ কলিকাতা থেকে আমদানি করা এবং এম.বি.বি.এস এর সাথে এ.এম (অল্টারনেটিভ মেডিসিন) লেখা। শুধু এটা নয়- আজকাল কলিকাতা থেকে দাঁতের ডাক্তারি সনদও আমদানি হয়ে আসে যাতে লেখা থাকে এভিএক্সভিএনকিউ নামক ডিগ্রী।

যার মানে ঐ ডাক্তারের বাপ-দাদাও বোঝে কিনা সন্দেহ! এসব ডাক্তাররা আসলে কারো সাথে সহকারি ছিল যেমনটা, গাইতে গাইতে গায়েন এর ছায়ার মত। এরা অনেকটা ছায়া ডাক্তার যারা হাইস্কুলের গন্ডিও পাড়ি দিতে পারেনি বিদ্যার উথাল পাতাল লোনা সমুদ্রে ডুবে যাবার ভয়ে। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এরা কিন্তু সাইনবোর্ড নামানো থেকে শুরু করে গাট্টি বোচকা গুটিয়ে লেজ তুলে রাতের আঁধারে দিয়েছিল ইয়া হু উ উ ভোঁ-দৌড়। কারণ সেনাবাহিনীর মাইরকে ভয় কে না পায় বলুন! তবে এমন জোড়ে তারা দৌড় দিয়েছিল যে জ্যামাইকান ¯িপ্রন্টার তথা দৌড়বিদ আসাকা পাওয়েল বা উসাইন বোল্টও এসব ভন্ড ডাক্তারের দৌড় দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যেতো। বলুনতো এমন ক্ষীপ্রগতির দৌড়বিদ খুঁজে পাবেন? কি আমাদের নেই? এমন দেশটা খুঁজে পাবেন যেখানে মানুষের রক্ষার উছিলায় নকল পর্যন্ত পাওয়া যায় তাও থানা পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগার সামনে দিয়ে। এদেশে যে কোন চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন লাগে এবং লোকাল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারও এতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হয় যা সরকারি বিধি-বিধানেও আছে। সব বিধির বিধানে আছে- দুনিয়ার তথা এমন সোনার দেশের বিধানে আছে কি নেই তাও কেউ জানেনা।

কাজীর গুরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই এমন দশা আর কি! আসলে মানুষ যাচাই করে না, শুধু এবিএক্সকিউ ডিগ্রী দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লোকালী এসব যাচাই করবেন- আপনি কি জানেন উনার এই ইচ্ছা ও সুবিধামত স্থানে অনেক সময় সচিব থেকে শুরু করে চাকরানিকে পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে পোস্টিং নিতে হয়েছে। কোথায় খুঁজে পাবেন এমন ঘুষের মহোৎসব! প্রায় সকল প্রশাসনিক কার্যালয়, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক, থানা, জেলা বা উপজেলা দপ্তর সর্বত্র অনেকটা ঘুষ-ঘুষ-ঘুষের খেলা চলে। কোথায় খুঁজে পাবেন এমন দেশ? খোদ পুলিশ বিভাগেই আপনি আপনার পছন্দমত জায়গায় পোস্টিং নিতে চাইলে অনেক সময় প্রায় আপনার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নামক বোয়াল মাছকে তার হা করা মুখে ঘুষের ফিরনি দিতে হয়। আপনার চাকরি হয়েছে-রিটেন পরীক্ষায় টিকেছেন এখন ভাইভা দিয়েও টিকলেন কিন্তু চাকুরি হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে দেখলেন অনেকগুলো বোয়াল মাছ হা করে আছে কি যেন গপাগপ গেলার আশায়। সামনে এগিয়ে খামে ভরে বিনয়ের সহিত এ হা করা বোয়াল মাছের মুখে টপ করে কিছু ফেললেন তো দেখলেন ‘পড়ে না চোখের পলকের মত’ আপনি চাকুরি পেয়ে গেলেন।

সেই এসআই পোস্ট, ডিসি পোস্ট, ডাক্তারি পোস্ট, মাস্টারি পোস্ট, ম্যাজিষ্ট্রেট পোস্ট, স্বাস্থ্য সহকারি পোস্ট, পোষ্ট মাস্টার পোস্ট, এমএলএসএস পোস্ট, টিটিই পোস্ট, তহশীলদার, সরকারি ঝাড়–দার, মেথর, ব্যাংকার যে পোস্টই হোক না কেন। সমাজের পদে পদে কর্ম ক্ষেত্রে প্রায় সর্বত্র অসংখ্য বোয়াল মাছ হা করে আছে। দেশের খাল-বিল, নদী-নালায় আগে প্রচুর বোয়াল মাছ পাওয়া যেত, এখন আর পাওয়া যায় না। কেন জানেন? কারণ নদী, নালা, খাল, বিলের সব বোয়াল মাছ এখন ওইসব স্থান ত্যাগ করে অফিস আদালতে ঠাই নিয়েছে আপনাকে খাওয়ার জন্য-ঘুষের ছত্র ছায়ায়। আমাদের জন্ম থেকে কবরে যাওয়া পর্যন্ত ঘুষের ছড়াছড়ি। বলুন কিসের অভাব- কি নেই আমাদের! ঘুষের এই সুবিশাল প্রাচুর্য্যতো আমরা গর্ব করতে পারি রীতিমতো! দ’ুচারটা নির্বোধ লেকচারবাজির কাছে আমাদের দুদর্মনীয় ঘুষের পঙ্খীরাজ গতি হারায় না। যদিও স্বাধীন (!) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নামক একটা সংস্থা আমরা করে সোকেচে রেখেছি বলে অনেক সৎ নামক কাউআরা কাঁ কাঁ করে। বলুনতো পাঠক কি নেই আমাদের- কোথায় খুঁজে পাবেন এমন দেশ! মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়াকে ঈর্ষণীয় সাফল্যের সোপানে নিলেও বা আমাদের পরে সিঙ্গাপুর স্বাধীন হয়েও সফলকামী হলেও কি হবে! আমরাও কম নই। আমাদের অনেক সাফল্যগাঁথা আছে।

আমাদের যেমন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম কিডনী আবিষ্কারক সন্তন (চট্টগ্রামের শুভ রায়, বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস ও অধ্যয়নরত) আছে, পাথরকুঁচি পাতা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে পুরো গ্রাম আলোকিত করার মত (সিলেটের একটি গ্রামে কিছুদিন আগে তা ঘটেছে) সামর্থবান বিজ্ঞানী আছে, পাটের জীনতত্ত্ব আবিষ্কারক বিজ্ঞানী আছে, ডিজেল-পেট্রোলসহ যে কোন জ্বালানী ছাড়া শুধু পানি দিয়ে যানবাহন চালানোর মত (চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক লোক তা করে দেখিয়েছে-এই কৃতি সন্তানটি কিছুদিন পূর্বে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়।)কৃতি সন্তান আছে তেমনি আছে অসংখ্য বেকার শিক্ষিত-অশিক্ষিত ছেড়া কাঁথায় শুয়ে থাকার স্বপ্ন বিলাসী মানুষ আর সন্ধ্যায় বটগাছে বসে কিচির-মিচির করা পাখির মত অসংখ্য শিক্ষিত-অশিক্ষিত গন্ডমূর্খ নেতা, উপনেতা, পাতিনেতা, সিকিনেতা, খুচরা নেতা, হাফনেতা। যাদের কাজ হলো ছলে বলে কৌশলে পরের খাওয়া-পরের লুটে নেওয়া এবং একটা জেনারেশনকে কর্মী বানিয়ে, ধান্দাবাজ বানিয়ে, কর্মবিমুখ করে রাখা। পর থেকে কূটকৌশলে ছিনিয়ে নিয়ে বাঁক-বাঁকুম করে খানদানওয়াইজ পোদ্দারী করা। জানেন পাঠক এমন দেশটা খুঁজে কোথায় পাবেন? ক্ষমতার জন্য, গদির জন্য কামড়া-কামড়ি, মারামারি, কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি, সংসদে বসে গালিগালাজ, পরের ছেলের লাশ ফালানো ও লাশ নিয়ে রাজনীতির ব্যবসা করা সবই হয়।

জানেন আমাদের গর্বের বিষয় যে, আমরা এমন নেতা জন্ম দেই যে কিনা পীড়িত, অত্যাচারিত, জুলুম, খুন, দখলবাজির, ধর্ষিতা, ইভটিজিং এর শিকারকে রক্ষার পরিবর্তে অপরাধীর পক্ষ নেয়। অপরাধীকে দলীয় কর্মী বানায়, আশ্রয় দেয়। বলুন পাঠক, আর কি চাই! আমাদের কি নেই বলুন- টপ টু বটম দুর্নীতি, অসৎপনার মহাতুর্কী নাচন! বিদেশ গমনকারীরা আক্ষেপে বলুক আর যেভাবে বলুক এসব কথাকি ফেলনা? আজ প্রায় দুই মাস ধরে দেশের যে অবস্থা তাতে হাসবো না কাদঁবো বুঝিনা। মুরগি আগে না ডিম আগে এই তর্ক নিয়ে চলছে লড়াই।কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়। মধ্যখানে যখন বার্ন ইউনিটের কথা কল্পনা করি তখন মনটা ব্যাথায় ব্যাথাতুর হয়ে উঠে। সাধারন মানুষের কষ্ট মনকে পীড়া দেয়। কারো হাত পুড়ে গেছে, কারো পা পুড়ে গেছে, কারো সারা শরীর পুড়ে গেছে। হাসপাতালের বেডে বেডে কান্নার জলসা, আক্রান্ত মানুষের গগণ বিদারী আহাজারী। পেট্রোল বোমা এবং নাশকতায় আজ সাধারণ মানুষের জীবন যাচ্ছে। কিন্তু কোন নেতা নেত্রীর কিছুই হয়না।

যার যায় তার পোড়ায়, যার ঘা তার ব্যাথা, কিন্তু এগুলোর দিকে কারোই তাকানোর সময়টুকু পর্যন্ত নেই। পাবলিকের ………..বাঁশ ঢুকুক-তবু আন্দোলন চাঙ্গা হওয়া চাই, গনতন্ত্র চাই, বিপ্লব চাই, বলে বলে কিছু লোক কিছু নেতা এখনও লম্বা লম্বা লেকচার ঝারে। মিডিয়ায় টক শোতে তথাকথিত জ্ঞানীরা গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে গলাবাজী করে বেড়ায়। কিন্তু যে পরিবারে একটি সন্তান একটি মানুষ পেট্রোল বোমার আঘাতে পুড়ে শেষ হয়ে যায় সে পরিবারে ক্ষতিপূরণ নামক মলম দিয়ে কি হবে? এদেশে এখন একদল পোড়ায় আরেকদল মলম দেয়। এদেশে এখন একদল ইসলাম ইসলাম করে জান কোরবান করে তথাকথিত ছোট ভাইদের দিয়ে গাড়ীতে, ট্রেনে, বাসে পেট্রোল বোমা মেড়ে ইসলামতন্ত্র উদ্ধারে পেরেশান হয়ে যায় নাকি সব মিডিয়ার অপপ্রচার, কিছুই বুঝিনা। ইসলাম কি এভাবেই আসে? মক্কা বিজয়ের আগে বা পরে নবী করীম (স.) এভাবে তো কিছুই করেনি। ২০০৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন কি ইলেকটেড না কি সিলেকটেড পাবলিক সবই জানে। অথচ আজ মানুষ পোড়ানো কোন ধরনের রাজনীতি? এভাবে কি রাজনীতি করে দেশ চলবে? এমনটা কোন দেশে খুজে পাবেন, বলুনতো পাঠক? বলুনতো পাঠক, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি- সকল দেশের রানী (রানী বললে অবলা অবলা লাগে) সকল দেশের রাজা সে যে আমার জন্মভূমি! তবে বিবেক কি বলে জানেন? শুধু এটাই বলে, এই শাহজালাল (রঃ) এর বাংলাদেশ, এই শাহপরাণ (রঃ) এর বাংলাদেশকে রহম করুন আল্লাহ, রহম করুন। এদেশবাসীকে রক্ষা করুন, হেদায়েত দান করুন, নেতাগিরির আধিক্য থেকে, অপরাজনীতির হাত থেকে এদেশকে বাঁচান। আমরা সাধারণ মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চাই, আমরা পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হতে চাইনা, আমরা ধ্বংসের রাজনীতি চাইনা। আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন, হে আল্লাহ। আমিন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4577192আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET