ইমদাদুল হক মিলন, খুলনা থেকে:- খুলনার রূপসা নদীতে ঐতিহ্যবাহী ১৩ তম নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হেেয়ছে। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় খুলনা নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৩তম নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপে মোট ৩৪টি বাইচ দল অংশ গ্রহণ করবে। বড় গ্রুপে যারা অংশ গ্রহন করবে তাদের মধ্যে প্রথম পুরস্কার ১ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৬০ হাজার ও তৃতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা।
এ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় খুলনায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। খুলনা ও এর আশে পাশের এলাকার লাখ লাখ মানুষ রূপসা নদীর দুই পাড়ে উপস্থিত থেকে এই বাইচ উপভোগ করেন।রূপসায় নৌকা বাইচে মেতেছেন খুলনাবাসী এবারের প্রতিযোগিতায় কয়রা, পাইকগাছা, তেরখাদা, কালিয়া, নড়াইল থেকে নয়টি বড় এবং সাতটি ছোট বাইচ দল অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর এলাকার আটটি মাঝারি নৌকা নিয়ে একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছিল।বড় দলের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে এক লাখ টাকা জিতে নেয় খুলনার কয়রার সুন্দরবন টাইগার। দ্বিতীয় হয়ে পুরস্কার হিসেবে ৬০ হাজার টাকা পান খুলনার তেরখাদার ভাই ভাই জলপরী। আর তৃতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা পান ঐ একই এলাকার আল্লাহ ভরসা।ছোট গ্রুপে প্রথম হয়ে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার পান খুলনার পাইকগাছার ভাই ভাই দুরন্ত। দ্বিতীয় বিজয়ী দল কয়রার সোনার তরী পায় ৩০ হাজার টাকা। আর তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাইকগাছা, খুলনার দুরন্ত পায় ২০ হাজার টাকা।বিশেষ মাঝারি দলের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ৫০ হাজার টাকা জিতে নেয় খুলনার সোনাডাঙ্গার ফলিয়া এন্টারপ্রাইজ। দ্বিতীয় হিসেবে ৩০ হাজার টাকা পায় গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার সোনার তরী। আর তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা পায় ঐ একই এলাকার মা-বাবার আশীর্বাদ।সকালে এই আয়োজনকে ঘিরে মহানগরীতে আয়োজন করা হয় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এই র্যালি উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে বিকেলে রূপসা ১ নং কাস্টম ঘাটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সভাপতি হিসেবে ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন। গ্রামীণফোনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির খুলনা সার্কেল বিজনেস হেড মো. আওলাদ হোসেন, হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডিজিটাল মার্কেটিং নাফিস আনোয়ার চৌধুরী, খুলনা সার্কেল মার্কেটিং হেড আবুল হাসনাত, খুলনা রিজিওনাল হেড আহসান হাবিবসহ অন্য কর্মকর্তারা। নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে উপস্থিত ছিলেন এর সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান রহিম, প্রধান উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামানসহ অন্যরা। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক বিল্লাল হোসেন খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজাউল করিম, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি নিজাম উর রহমান লালু, ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মো. মোতালেব হোসেন মিয়া।









