১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

গল্পকার গোলাম মোস্তফা টুটুলের “রং নাম্বার” ( প্রেমের গল্প)

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২০ ২০১৬, ০৯:১৮ | 1383 বার পঠিত

সাহিত্য ডেস্কঃ-

জানালার গ্রিল ধরে দাড়িঁয়ে ছিল
মালিহা, হয়তো সে কিছু ভাবছিল, মনটা
বিসন্ন মনে হচ্ছিলো ! হঠাৎ করেই
মালিহার ফোনের রিংটোন টা ক্রিং
ক্রিং করে বেজে উঠলো ..! মালিহা
ফোনটা হাতে নিয়ে ফোনের ডিসপ্লের
দিকে তাকিয়েই ভূত দেখার মত চমকে
উঠলো !মালিহা এমনটা তো আশা করেনি ..
এমনটা তো হবার কথা নয়. এই মাত্র সে তার
ভাইয়ার সাথে কথা বলেছে.. কাজেই
ভাইয়া তো এখন ফোন করবার কথা নয় !
কিন্তু যে নাম্বার থেকে ফোন এসেছে
সেটা তো পরিচিত কোন নাম্বার না !
তাহলে এ নাম্বার কার ? কে ফোন করলো
মালিহা কে? মালিহা ভাবেছে সে কি
করবে , ফোনটা ধরবে কি ধরবে না ? সে
তো অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা কোন
ফোন ই রিসিভ করে না !মালিহা একজন
ধার্মিক মেয়ে, নিয়মিত নামাজ কালাম
আদায় করে , আল্লাহর বিধি বিধান সমুহ
মেনে চলার চেষ্টা করে , পর্দার বিধান
যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করে ,
বিনা প্রয়োজনে কারো সাথে দেখা বা
কথা বলে না । কিন্তু কেন জানি তার মনে
হচ্ছে এই ফোনটা মনে হয় ভাইয়া করছে,
কিন্তু পরক্ষনেই আবার সে ভাবছে নাহ
ভাইয়া এখন ফোন করবে কেন ? এই মাত্রই
তো ভাইয়ার সাথে কথা বললাম ।তাহলে এই
ফোনটা কার ? যাহোক যারই হোক এখন
কোন ফোন রিসিভ করব না , মালিহা
ফোনটা কেটে দিয়ে বিছানায় রেখে দিল

.
কিছুক্ষন পর আবারও ঐ নাম্বার থেকে ফোন
আসলো মালিহা এবার ভাবলো হয়তো
ভাইয়া-ই ফোন করেছে , তাই এবার মালিহা
রিসিভ করলো, করেই সালাম দিল
আসসালামুআলাইকুম , ওপাশ থেকে
অপরিচিত কন্ঠে সালামের জাবাব ভেসে
আসে , ওয়ালাইকুমুসসালাম, কিরে দোস্ত
ভালো আছিস?? ফোন রিসিভ করছিস না
কেন ? এত সহজেই ভুলে গেছিস আমাকে ??
মালিহা এবার সত্যিই আবাক হয়ে গেল! কে
এটা ? আমি আবার কোন ছেলের বন্ধু
হলাম ? মালিহার কোন জবার না পেয়ে
ওপাশ থেকে ছেলেটা বার বার বলছে
কিরে কোন কথা বলছিস না কেন? আমার
সাথে রাগ করেছিস বুঝি? আসলে আমি
এখানে এসে অনেক ব্যস্ত হয়ে পরেছি,তাই
তোর কোন খোঁজ নিতে পারি নি,আজ একটু
ফ্রি হয়েছি তাই তোকে ফোন করলাম এখন
বল কেমন আছিস ? বাড়ির সবাই কেমন
আছে ? মালিহা আবাক হয়ে শুধু শুনছে কোন
জবাব দিচ্ছে না, ওপাশ থেকে ছেলেটা
বলছে কিরে তুই কি বোবা হয়ে গেলি??
আচ্ছা বাবা Sorry, আমার সত্যিই ভুল হয়ে
গেছে আর কখনো এরকম হবে না এবারের
মত আমাকে ক্ষমা করে দে! প্লিজ কথা
বল ! এবার মালিহা আর চুপ থাকলো না,
বললো কে আপনি ?? আপনি কাকে ফোন
করেছেন?
এবার ওপাশ থেকে ফোন করা ছেলেটাও
চমকে উঠলো ! সেকি এত একটা মেয়ে কথা
বলছে .. কিন্তু আমি তো ফোন করেছি
আমার বন্ধু রোহান কে.. ! ছেলেটার কোন
জবাব না পেয়ে মালিহা আবারও জিঙ্গেস
করলো কে আপনি কিছু বলছেন না কেন ?
আপনি কাকে ফোন করেছেন? ছেলেটা
এবার বলল আমি আব্দুল্লাহ ! ফোন করেছি
আমার বন্ধু রোহান কে, আমি রাজশাহী
থাকি.. । কিন্তু ফোনটা আপনার কাছে
গেল কিভাবে সেটাই তো ভেবে পাচ্ছি
না,, মালিহা বললো ভালো করে নাম্বার
মিলিয়ে দেখেন আপনি রং নাম্বারে ফোন
করেছেন, আমি আপনার বন্ধু না ..! ছেলেটা
নাম্বার মিলিয়ে দেখল সত্যিই তো
এটাতো রোহানের নাম্বার না, আব্দুল্লাহ
বললো সব ঠিক আছে কিন্তু শেষের
ডিজিটা ভুল হয়েছে তাই আপনার কাছে
চলে গেছে।আপনাকে বিরক্ত করার জন্য
আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত , মালাহি
জবাব দিল ঠিক আছে দুঃখিত বলার কি
আছে ভুল মানুষের হতেই পারে , কোন
সমস্যা নেই।এবার আব্দুল্লাহ বললো আপনার
ব্যবহারে আমি মুগ্ধ, আপনি নিশচয় একজন
ভালো মনের মানুষ! আপনিও আমার বন্ধু হয়ে
যান!! মালিহা জবাব দিল নাহ আপনি
একজন অপরিচিত ছেলে আর আমিও একজন
প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে আপনার সাথে আমার
বন্ধুত্ব বা কথা বলা ইসলামী শরিয়তে
জায়েজ না , তাই আপনার সাথে আমার
কথা বলা বা বন্ধুত্ব করা কোনভাবেই ঠিক
হবে না .. এবার আব্দুল্লাহ বলল আপনি
আসলেই ভালো আপনি বুঝি পাক্কা
ইমানদ্বার ! আমিও পাচঁওয়াক্ত নামাজ
পড়ি , ইসলামের সকল বিধি বিধান সমুহ
মেনে চলার চেষ্টা করি, মালিহা জবাব
দিল খুব ভালো , এভাবে বেশকিছুক্ষন কথা
হয় দুজনের ! মালিহা ফোনটা রেখে দেয়, ।
কিন্তু ফোন রেখে দিলেও শয়তান
মালিহার পিছু ছারলো না , শয়তান একটা
সুযগ পেয়ে গেল , মালিহার পিছনে আঠার
মত লেগে গেল ইবলিস শয়তান , সবসময়
মালিহার মনে কুমন্ত্রনা দিতে থাকলো,
মালিহাকে বোঝাতে লাগলো ঐ
ছেলেটাতো খুব ভালো নামাজ কালাম
পড়ে, র্ধামিক, বন্ধুতো হলে কি হবে, প্রেম
তো আর করবে না ,শুধু কথা বলবে, সেতো
আর তোমাকে খারাপ কোন কথা বলে না ,
কথা বলতে থাকো, তার সাথে বন্ধুত্ব করো
, কোন সমস্যা নেই । মালিহা শয়তানের
পাতা ফাঁদে পা দিতে থাকলো , সে তার
জ্ঞান বুদ্ধি মনে হয়ে হারাতে বসলো , সে
আল্লাহর বিধি বিধান ভুলে যেতে লাগলো
সে ভুলে যেতে লাগলো পর্দার বিধান।
.
পরদিন আবার আব্দুল্লাহ ফোন করলো
মালিহার কাছে! মালিহা ফোন করতেই
আব্দুল্লাহ সালাম দিল আসসালামুআলাকুম
কেমন আছেন ? মালিহা জবাব দিল
ওয়ালাইকুমুসসালাম আলহামদুলিল্লাহ
আল্লাহ ভালো রেখেছেন? আপনি কেমন
আছেন? আব্দুল্লাহ জবাব দেয় আমিও
আল্লাহর অষেশ রহমতে ভালো আছি।
আপনার বাড়ির সবাই কেমন আছে?
মালিহা জবাব দিল হ্যা সবাইকে আল্লাহ
ভালো রেখেছেন। আব্দুল্লা প্রশ্ন করলো
আচ্ছা আপনার নাম টা কি জানতে পারি ?
মালিহা কিছুক্ষন চুপ থেকে উত্তর দিল
আমার নাম মালিহা ! আপনার নাম ? আমার
নাম আব্দুল্লাহ। আপনি কি করেন
পড়ালেখা? আব্দুলা প্রশ্ন করলো। মালিহা
বলল হ্যা আমি পড়ালেখা করি । এভাবে
চললো দুজনের পরিচয় অধ্যায় । সেদিনের
মত কথা শেষ হল ।
মালিহার বেষ্ট বান্ধবী তাহিয়া , মালিহা
সব বিষয় তাহিয়ার সাথে শেয়ার করে , সব
বিষয়ে আলোচনা করে তাহিয়ার সাথে ।
মালিহা এই রং নাম্বারের বিষয়টাও
তাহিয়ার সাথে শেয়ার করলো ,তাহিয়া
সব শুনে ওর মন ভেঙ্গে গেল . তাহিয়া
বললো শোন মালিহা তোর ঐ ছেলেটার
সাথে কথা বলা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না, তুই
কি আল্লাহর হুকম ভুলে গেছিস ? মালিহা
বললো আমিতো ঐ ছেলেটার সাথে খারাপ
কিছু করছি না , ঐ ছেলেটার সাথে তো
প্রেম করছি না, ঐ ছেলেটার সাথে তো
অশ্লিল কথা বলছি না, আমরা তো সবসময়
দুজন ভালো কথাই বলি, আর ছেলেটাও খুব
ভালো ঔ অনেক ভালো ভালো কথা বলে ,
খুব র্ধামিক মনে হয়, আমরা তো যাষ্ট বন্ধু ,
এটা তো দোষের কিছু না!! মালিহার কথা
শুনে তাহিয়া এবার সত্যিই আবাক হল ,
মালিহার মত একজন জ্ঞানি ব্যক্তি বলছে
কি এগুলা , তাহিয়া এবার মালিহা কে
বললো , তুই যা করছিস তা সবটাই শরিয়ত
বিরোধী, ইসলামে ছেলে মেয়ের বন্ধুত্ব
কোন অবস্থাতেই আল্লাহ হালাল করেন নি,
বিবাহের আগে কোন গায়ের মাহরাম
ছেলের সাথে যোগাযোগ করা চরম গুনাহের
কাজ , তুই কি এটা ভুলে গেছিস?? মহিলারা
ভিন্ন পুরুষের সাথে কথা বলতে পারেন ,
কিন্তু মিহি স্বরে বলবে না। মহান আল্লাহ
বলেন – !“ ওহে নবীর স্ত্রীরা, তোমরা তো
অন্য কোন মহিলার মতো নও, তোমরা যদি
আল্লহকে ভয় কর তাহলে মিহি স্বরে কথা
বলো না, যা অন্তরে ব্যধি আছে এমন
লোককে প্রলুদ্ধ করবে, বরং সোজা স্পষ্ট
কথা বল ( সূরা আল আহযাব – ৩২ )তুই কি
প্রবিত্র কুরআনের এই আয়াত ভুল গেছিস?
মালিহা জবাব দেয় হা আমি জানি এগুলা!
তাহিয়া এবার বললো তাহলে মানছিস না
কেন? কেন একটা অপরিচিত ছেলের সাথে
কথা বলছিস? মালিহা কোন জবাব দেয় না ,
না দিয়েই তাহিয়ার কাছে থেকে চলে
যায়। শয়তান মালিহাকে তার ধোকার
জালে বেধে ফেললো, মালিহা কিছুটা এই
জাল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলো ,
কিন্তু শয়তানের হামলায় ঈমান র্দুবল হবার
কারনে শয়তানের সাথে পেরে উঠলো না
নফসের দাবির কাছে সে হার মানতে
থাকলো! এখন নিয়মিত কথা হয় আব্দুল্লাহ
আর মালিহার সাথে ! তবে অশ্লিল কথা না
। মালিহাকে শয়তান ভাবায় যেহেতু
অশ্লিল কোন কথা বলছি না তাহলে আর
কি হবে, আর ছেলেটাতো খুব ভালই ।
.
কিছুদিন পর তাহিয়া মালিহা কে
জিঙ্গেস করে কিরে মালিহা তুই কি ঐ
ছেলেটার সাথে এখনো কথা বলিস??
মালিহা জাবাব দেয় হা! তাহিয়ে বলে
আচ্ছা তোর মাথাটা কি একেবারেই
গেছে? তোর মতো একটা মেয়ে এরকম
একটা ভুল কাজ করবে আমি তো ভাবতেই
পারছি না, এখনো সময় আছে যা করেছিস
তওবা পড়ে আবার আলোর পথে ফিরে আয়,
ঐ ছেলেটার সাথে আর কথা বলিস না,
মালিহা চুপ থাকে কোন জবাব দেয় না ,
তাহিয়া আবার বলে কি রে কিছু বলছিস
না কেন ? কথা বলা বাদ দিতে পারবি
না ? মালিহা জাবাব দেয় আচ্ছা তাহিয়া
আমি তো তার সাথে খারাপ কিছু করছি
না যাষ্ট তার সাথে একটু কথা বলি , তাও
খারাপ কোন কথা না, যা কথা বলি ইসলাম
নিয়েই কথা বলি, এতে তো আমি পাপের
কিছু দেখছি না, ! মালিহার জবাব শুনে
তাহিয়া হত্বভম্ব হয়ে যায়, সত্যিই মালিহা
শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে
যাচ্ছে!তাহিয়া আবার মালিহাকে
বোঝাতে থাকে ,দেখ মালিহা তুই যা
করছিস তা আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে
দোষের কিছু না, কিন্তু একটু সুক্ষ্য দৃষ্টিতে
দেখলেই বুঝবি তুই কত বড় ভুল করছিস, তুই
ভাবছিস শুধু কথা বলি এতে আর কি সমস্যা
হবে, কিন্তু এটাইত বড় সমস্যা , কথা বলতে
বলতে এভাবে একদিন তার প্রতি র্দুবল হয়ে
পারবি, তখন সরাসরি গুনাহের কাজে লিপ্ত
হয়ে যাবি, কারন আল্লাহ যখন কোন
কাজকে হারাম করে তখন ঐ হারাম কাজের
কাছে পৌছানোর সকল পথও হারাম করে
,কাজেই তুই ভাবছিস এটা হারাম না ,কিন্তু
এভাবে চলতে থাকলে একসময় চুড়ান্ত
হারাম কাজের কাছে পৌছে যাবি, তাই
এখনো সময় আছে তুই ঐ ছেলেটার সাথে
কথা বলা বাদ দে প্রিজ !
হারাম কাজের মধ্যে সাময়িক যথেষ্ট
আনন্দ থাকলেও এর শেষ পরিণতি কিন্তু
খুবই মারাত্বক এবং কষ্টের ।শয়তানের
ধোকায় পরা মালিহার মাথায় যেন কিছুই
ঢুকছে না, তাই সে তাহিয়ার কথায় বিরক্ত
বোধ করে !এবং তাহিয়া কে মালিহা বলে
আমি এগুলা জানি আমাকে জ্ঞ্যান দিতে
হবে না, তোর চিন্তা তুই কর আমকে নিয়ে
এত্ত টেনশন করতে হবে না !
.
মালিহার কথা শুনে তাহিয়া এবার খুব কষ্ট
পায় , কিন্তু তাহিয়া মালিহাকে খুব
ভালোবাসে তাই সে মালিহাকে
জাহান্নামের রাস্তা থেকে সরানোর জন্য
নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করে, অনেক
ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু
মালিাহ বার বারই তাহিয়ার কথায় কান
দেয় না, সে তারমতই চলতে থাকে।
মালিহার এই কাজে তাহিয়া বড় বাধা
হওয়ায় তাহিয়া মালিহার কাছে হয়ে যায়
সবচেয়ে বড় শত্রু, সে তাহিয়ার সাথে
খারাপ আচরন করতে থাকে , তাহিয়াকে
এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। তাহিয়া
নিরুপায় হয়ে শুধু আল্লাহর কাছে সাহায্য
চায় হে আল্লাহ তুমি মালিহাকে সঠিক বুঝ
দান করো, ওকে তুমি শয়তানের ফাদ থেকে
রক্ষা করো।
.
এদিকে মালিহা ঐ ছেলেটার সাথে
চুটিয়ে কথা বলতে থাকে , কথা বলতে
বলতে সত্যিই একদিন মালিহা ছেলেটার
প্রতি র্দুবল হয়ে পড়লো, তাহিয়ার কথাই
সত্যি হল , মালিহা ছেলেটার সাথে
অবৈধ্য সম্পর্কে জরিয়ে পড়ল!এভাবে
চললো বেশ কিছু দিন , ছেলেটা একদিন
মালিহাকে বললো মালিহা আমি
তোমাকে বিয়ে করতে চাই ! তুমি যদি
রাজি থাক তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে
করবো । মালিহা রাজি হয়ে গেল ,
মালিহা তার পরিবার কে জানালো ,
পরিবার প্রথমে কিছুটা অমত করলেও
মালিহার কথায় বিয়েতে রাজি হয়ে গেল ,
বিয়ে হল আব্দুল্লাহ আর মালিহার সাথে !
শয়তান যেন সফল হয়ে গেল , তাহিয়া
শয়তানের অট্টহাসি শুনতে পেল ! বিয়ের
দুদিন পর থেকেই শুরু হল আল্লাহর হুকুম
অমান্য করার কঠিন খেলা ! শরিয়তের
বিধান না লঙ্ঘন করার শাস্তি স্বচক্ষে
দেখতে ভেসে উঠল মালিহার সামনে ,
মালিহা বিয়ের আগে যেই আব্দুল্লাহ কে
চিনেছিল, যেভাবে বিশ্বাস করেছিল সেই
আব্দুল্লাহ আর আজকের মালিহার স্বামী
আব্দুল্লাহর সাথে কোন মিল যেন খুজেঁ
পাচ্ছে না! বিয়ের আগে আব্দুল্লাহ বলতো
সে নামাজ কালাম নিয়মিত পরে , কোরআন
হাদিস নিয়মিত পড়ে, আল্লাহর হুকুম
যথাযথভাবে পালন করে , মোটকথা পাক্কা
ইমানদ্বার ! কিন্তু একি দেখছে মালিহা
এতো আব্দুল্লাতো নামাজ কালামের
ধারে কাছেও যায় না , কোরআন হাদিস
পড়ার তো প্রশ্নই ওঠে না ! আর চরিত্র !
সেটাতো শয়তানের চেয়েও খারাপ !
প্রতিরাতে অনেক দেরি করে বাড়ি ফেরে
, মালিহা খোজঁ নিয়ে জানতে পারে তার
প্রানের স্বামী আব্দুল্লা রাস্তার
মেয়েদের সাথে রাতে র্ফুতি করে বাড়ি
ফেরে !!
.
এভাবে বেশ কিছুদিন চলতে থাকে
মালিহা একদিন আব্দুল্লাহর এ অনৈতিক
কাজের প্রতিবাদ করে , আর তখনি শুরু হয়
মাহিলার প্রতি অকথ্য র্নিযাতন !!
মালিহা র্নিযাতন সহ্য করতে না পেরে
আব্দুল্লাহর সাথে ডির্ফোস হয়ে যায়!!
মালিহার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে ,
ডির্ফোস হয়ে মালিহা বাবার বড়ি চলে
আসে কিন্তু , বাবার বাড়িতেও এখন আর
মালিহার কোন কদর নেই, সবাই মালিহাকে
এড়িয়ে চলে ওর সাথে ভালোভাবে কথা
বলে না, সমাজের লোকজনতো মালিহাকে
সেদিন থেকেই ঘৃনা করে ,সবমিলিয়ে
মালিয়ার জীবন দুর্বিস্বহ হয়ে ওঠে,
মালিহা আর এ পৃথিবীতে বাচতে চায় না,
মালিহা এখন বুঝতে পারে তাহিয়ার কথায়
ঠিক ছিল ! আল্লাহর হুকুম অমান্য করার
পরিনাম আজ আমি বুঝতে পারতেছি,
তাহিয়া সেদিন বলেছিল হারাম কাজে
যথেষ্ট আনন্দ থাকলেও এর শেষ পরিণতি
খুবই কষ্টের এবং ভয়াবহ , কিন্তু আমি
সেদিন তাহিয়ার কথা শুনিনি , ওকে ভুল
বুঝে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমি অন্ধের মত
সব ভুলে গিয়ে শয়তানি কাজে ব্যস্ত
ছিলাম , আমার সত্যিই ভুল হয়ে গেছে!!
/////
প্রিয় বন্ধুরা উপরোক্ত ঘটনাটা গল্প হলেও
বাস্তবতার সাথে মিল আছে ,গল্পের
নায়কা মলিহার মত আমাদের সমাজেও
হাজার হাজার মালিহা আছে যারা
নফসের দাবির কাছে হার মেনে মালিহার
মত বিপদগামী হয়ে যায়, প্রথমে তাদের
হাজার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা
বোঝে না বরং যারা তাকে বোঝায়
তারাই মালিহাদের চরম শত্রু হয়ে যায় !
কিন্তু শেষ অবধি এসে মালিহার তাদের
ভুল বুঝতে পারে , কিন্তু তখন আর ভুল
বোঝার কোন লাভ থাকে না, তখন তাদের
জীবন টা হয়ে যায় র্ব্যথ ! তখন মালিহারা
শুধু বুকফাটা আহাজারী করতে থাকে ,
কাজেই আসুন আমরা মালিহার জবীন থেকে
শিক্ষা গ্রহন করে মালিহার মত ভুল গুলা
এড়িয়ে চলি, আল্লাহ যেগুলা হারাম
করেছেন , যেগুলা নিষেধ করেছেন সেগুলা
বাদ দিয়ে চলি ,তার হুকুম আহকাম
যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করি।
দুনিয়ার জীবনে ভোগ করি অনাবীল সুখ
শান্তি, আখিরাতেও স্থান পাই পরম সুখের
স্থান জান্নাতুল ফেরদাউস

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4719707আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET