১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

”গাজরা” ফুলের চাষ করে স্কুলের পিয়ন আব্দুল আলিম এখন স্বাভলম্বী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ৩০ ২০১৬, ০১:১০ | 1757 বার পঠিত

সাভার (আশুলিয়া) থেকে আবুল কাশেম ঃ—— ”গাজরা” ফুলের চাষ করে সাভার উপজেলায় আশুলিয়া থানাধীন আশুলিয়া ইউনিয়নের দোসাইদ এলাকায় এ, কে স্কুল এন্ড কলেজের পিয়ন মোঃ আব্দুল আলিম (৩৫) এখন স্বাভলম্বী । ”গাজরা” ফুলের আরেক নাম পুষ্প মালতী।
এই ফুল চাষকে কেন্দ্র করে অত্র এলাকায় অনেক বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হয়েছে। বদলে গেছে তাদের ভাগ্যের চাকা। পিয়ন আব্দুল আলিমের ফুল বাগানের ফুল বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় অনেক যুবকেরা ফুল চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
সৌন্দর্য্যপিপাসু মানুষের কাছে ফুলের কদর চিরন্তন। আধুনিক যুগে সভ্যতার সাথে সাথে ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফুল কে-না ভালোবাসে তাই ফুল ভালোবাসার প্রতীক । ফুল চাষের অধিক লাভ হওয়ায় ’ফুলে লেগেছে বাণিজ্যের ছোঁয়া’ তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে ফুলের চাষ ও তার ব্যবহার।
এ, কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন বলেন, তৎকালীন ভুমিসংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ ফয়জুল্লাহ সাহেব উক্ত স্কুলের সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি সরকারের কাছ থেকে ২২ একর ৫২ শতাংশ পরিত্যাক্ত জমি স্কুলের নামে সয়ংক্রিয় লিজের ব্যবস্থা করে দেন এবং বর্তমানে প্রতি বছর ৫১ হাজার টাকা গর্ভমেন্টকে কর দেওয়া হয়। এই ২২ একর ৫২ শতাংশ জমি থেকে প্রায় ১ একর বা ৩ বিঘা লিজকৃত জমি পিয়ন আব্দুল আলিমকে পত্তন হিসেবে দেওয়া হয়। আর এই পত্তনকৃত জমিতে গাজরা ফুলের চাষ করে পিয়ন আব্দুল আলিম এখন স্বাভলম্বী। গাজরা ফুলের চাষ করে পত্তনকৃত জমি বাবদ বছরে তাকে ৩ বিঘা জমির প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা করে স্কুল ফান্ডে জমা দিতে হয়।
স্বাভলম্বী পিয়ন আব্দুল আলিমের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিপিএটিসি উদ্ভিদ বিজ্ঞানের উপ-পরিচালক অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের উৎসাহ ও সার্বিক সহযোগিতায় আমি এই পুষ্প চাষের আগ্রহ হয়। এই ফুলের চাষ করে ফুল বিক্রি করে অনেক লাভবান হওয়া যায়। এই পুষ্প মালতী ফুলের চাষের খরচ খুবই কম কারণ একবার রোপণ করার হলে এক বছর পর থেকে প্রায় ১০-১২ বছর ফুল দিতে থাকে এবং অতি সহজেই সংরক্ষণ করা যায় এর কোন রকম ক্ষতি হয় না। আমার এই ফুল বাগানে প্রায় ৯’শ ফুল গাছ রয়েছে। আট বছর যাবৎ আমি ফুল চাষে জড়িত আমার এই ফুল বাগানে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন নারী শ্রমিক কাজ করছে। দিনে একেক জন নারী শ্রমিক ১৮ থেকে ২০টি করে ফুলের মালা গাথঁতে পারে। শ্রমিকরা সকালে ও দুপুরে ফুল তুলে নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে ফুলের মালা গেথেঁ রাতে ফুল বাগানের মালিক পিয়ন আব্দুল আলিমের কাছে তা জমা দেন এবং প্রতি মালা বাবদ তারা ৪ টাকা করে পায়।
পরে বাগান মালিক পিয়ন আব্দুল আলিম ফুলের মালা গুলো নিয়ে প্রত্যেক দিন ভোরবেলায় রাজধানীর আগার গাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে ও শাহাবাগে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করে দেন। প্রতিদিন তিন”শ ফুলের মালা বিক্রি হয়। তিন’শ ফুলের মালা প্রায় ২৩’শ থেকে ২৪’শ টাকা দরে বিক্রি হয়।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি পুষ্প মার্কেটগুলোতে ভালোভাবে নছর বা খেয়াল রাখেন এবং আমরা যারা ফুল চাষে জড়িত তাদের জন্য সরকার যদি স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেন তাহলে অনেক ফুল চাষিরা এই পেশায় জড়িত হবেন এবং ফুল বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে এই বাংলাদেশকে একধাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তার এই সাফল্যের বিষয়ে দোসাইদ এলাকার বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক দেওয়ান মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, পিয়ন আব্দুল আলিমের এরকম ফুল চাষের জন্য সরকারের যদি কোন পৃষ্ঠপোষকতা থাকে সেক্ষেত্রে আব্দুল আলিম আরো উন্নয়নমুলক কাজ যদি করতে পারে তাহলে তার এই কাজ দেখে আরো দশ জন যুবক এই কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তাহলে আমাদের এলাকা উন্নয়ন হবে এবং দেশ হবে সয়ংসম্পুর্ণ ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4751390আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET