২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

গ্যাসের চুলা: অসাবধানতায় ঘটতে পারে মহাবিপর্যয়

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৫ ২০১৬, ২১:৩৪ | 721 বার পঠিত

20000_124962 আব্দুল লতিফ রানা:

রান্নার কাজেও গ্যাস অপরিহার্য। কিন্তু এর ব্যবহার করতে হবে সর্তকতার সঙ্গে। একটু অসাবধানতার কারণেই ঘটতে পারে মহাবিপর্যয়। এই অসাবধানতার জন্যই অহরহ ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এর ফলে গ্যাস ব্যবহারকারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির মালিকদের অবহেলা ও সামান্য ত্রুটির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, আজিমপুর, রামপুরা, কলাবাগান, ওয়ারী, ফতুল্লা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক চুলা বিস্ফোরণের ঘটনায় বহু লোক দগ্ধ হয়ে মারা গেছে এবং যাচ্ছে। আবার অনেকেই সারাজীবনের জন্য পঙ্গত্ববরণ করছেন। কিন্তু বাড়ির মালিক কিংবা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যেমন বেখেয়াল, তেমনই দুর্ঘটনা রোধে সরকারের তরফ থেকে আইনগত কোন কার্যকর ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না।

এধরণের গ্যাস সংক্রান্ত দুর্ঘটনা মোকাবেলায় অভিজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ভেতর বড় ধরণের ভুমিকম্প হলে বাসা বাড়ির গ্যাসের চুলা বা গ্যাসের লাইনে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটলে দেশে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

নগরীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিবেদক সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের থেকে এধরণের তথ্য পেয়েছেন। বাসিন্দাদের অনেকেই বলেছেন, বাড়িওয়ালা বাড়ি নির্মাণের সময় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর আর কখনো তারা মেরামতের ব্যবস্থা করছেন না। এ কারণেই বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ছে।

পরিসংখ্যান

একাধিক সূত্রমতে, গত ৮ মাসে প্রায় একই ধরনের গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু রাজধানীতেই ৫৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজন মারাও গেছেন। দগ্ধদের মধ্যে বনানীতে ২০ জন, হাজারীবাগের গজমহলে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণে দগ্ধ হন ৩ জন, মিরপুরে টিনসেড বাড়িতে ৬ জন, আজিমপুর স্টাফ কোয়াটারে ৩ জন, কলাবাগান লেকসার্কাস রোডের এক বাসায় ৭ জন। ওয়ারীতে ৩ ও রামপুরায় ২ জন দগ্ধ হন। উত্তরায় একই পরিবারের ৫ জন। ফতুল্লায় ৫জন।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিভিশন কোম্পানী (টিজিটিডিসিএল)-এর জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাস এলাকায় গত ১৫ মাসে গ্যাস বিস্ফোরণ জনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ২৬ জন মারা গেছেন। গত চার মাসে তিতাস এলাকায় শতাধিক অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২৮২টি অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসময় শুধু গ্রাহকদের ফোন কলের বিপরীতে ৫১২৩টি লিকেজ সনাক্ত ও মেরামত করা হয়েছে। গ্রাহকদের এমন অনেক অভিযোগ এখনো অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

তিতাস গ্যাস ঢাকার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল জেলাসহ বিভিন্ন শহরে গ্যাস সরবরাহ করছে। ৩০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ২০ লাখই এই কোম্পানীর সেবা নেয়। এর মধ্য আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা ১৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৫৩। ১০ হাজার ৯১৩টি বাণিজ্যিক এবং ৪ হাজার ৫৯০টি শিল্প গ্রাহক রয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বৈধ পাইপ লাইন ও সংযোগের বাইরেও বিপুল সংখ্যক অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে বলে নির্ভর যোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক যেসব দুর্ঘটনা

সর্বশেষ গ্যাস পাইপলাইনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে তেজগাঁওয়ে রেডক্রিসেন্ট অফিসের পাশের রাস্তা সংলগ্ন গ্যাসলাইনে। ফায়ার সার্ভিস সদর দফতর থেকে জানায়, গ্যাসের লাইনে লিকেজ এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ।

একই দিন সন্ধ্যায় হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডে একটি ক্যামিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় পাশের একটি গ্যাস লাইনে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তার আগের দিন রাজধানীর কলাবাগানে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত।

রাজধানীর বনানীতে গত ১৮ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে অগ্নিকা- ঘটে। এতে প্রায় ২০ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। বনানীর ২৩ নম্বর রোডের ৯ নম্বরে ছয়তলা বাসার চারতলায় আগুন লাগে। ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্যাস লাইন থেকে বিস্ফোরণে এ আগুন লাগে বলে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি জানায়। পরে ওই বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরায় গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণের ঘটনায় সবচেয়ে বেশী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। বনানীর ২৩ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়িতে গত ১৮ মার্চ রাত ২ টার দিকে গ্যাস লাইন বিস্ফোরিত হলে ভয়াবহ অগ্নিকা- হয়। এতে ২০ জন দগ্ধ হন। ওই বিস্ফোরণে উড়ে যায় ভবনটির দরজা-জানালা। এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়ির সাত তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেন প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ। নতুন এই বাড়িতে উঠেই তিনি গ্যাস লাইন লিকের বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানান। কিন্তু বাড়ির মালিক তার কথায় তেমন গুরুত্ব দেননি। আর এই গাফিলতির চরম মূল্য দিতে হয় শাহনেওয়াজ-সুমাইয়া বেগমের পরিবারকে। তিন ছেলের মধ্যে দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ শাহনেওয়াজ দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। গ্যাসের চুলা ব্যবহারকারীরা আতংকিত হয়ে পড়েছেন চরমভাবে।

২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে উক্ত ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।

সূত্র জানায়, সাত তলা ওই ভবনের উপরের তলায় আটশত বর্গফুটের ৩ রুমের ফ্ল্যাট প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ ভাড়া নেন। জানা যায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি খুব ভোরে শাহনেওয়াজ ফজরের নামাজ আদায় করে ১৪ মাসের শিশুপুত্র জায়ানকে কোলে নিয়ে ঘরের মধ্যে পায়চারী করছিলেন। স্ত্রী সুমাইয়া বেগম তখন রান্না ঘরে। তাদের দুই ছেলে শালিল ও জারিফ নিজেদের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। সুমাইয়া বেগম ম্যাচের কাঠি জ্বালাতেই বিকট শব্দে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফ্ল্যাটে। এতে পরিবারের পাঁচ সদস্যই দগ্ধ হন। এরপর তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢামেক বার্ন ইউনিটে শাহনেওয়াজের ফুপাতো বোন আরমিন শীর্ষ কাগজকে জানান, হাসপাতালে ছটফট করার সময়ও আমার ভাই শাহনেওয়াজ বলছিল যে, আপা আমারে আগুন ধাক্কা দিয়েছে। বাড়িওয়ালাকে গ্যাস লিক হওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু বাড়িওয়ালা তা আমলে নেননি। ‘ঘটনার পর বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেন দগ্ধদের দেখতে হাসপাতালেও আসেননি।’

বাড়ির কেয়ারটেকার সালেহ জানিয়েছেন, এ এলাকায় প্রায়ই গ্যাস থাকে না। গ্যাস না থাকার বিষয়ে স্থানীয় তিতাস গ্যাস কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছিল।

উত্তরা পশ্চিম থানার অপারেশন অফিসার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম মোল্লা জানান, ভবনের অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। তারা দরজা খুলে দেখেন ভবনের উপরের ফ্ল্যাটে আগুন ধরেছে। প্রথমে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে নেয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। আবার সেখান থেকে দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আতিকুল আলম চৌধুরী  জানিয়েছেন, ‘গ্যাসের চুলা বন্ধ থাকলেও পাইপের কোনো অংশে হয়তো লিক ছিল। আর দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা-জানাল বন্ধ ছিল। এ কারণে চুলা ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে।’

এছাড়া, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রামপুরায় গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে রাকিব হোসেন (২২) ও সরোয়ার সজীব (২৬) নামে দুই যুবক দগ্ধ হন। ঘটনার দিন ভোরে পূর্ব রামপুরার ২১ নম্বর বাসায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দগ্ধ রাকিব হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং সজীব দরজি দোকানে কাজ করেন। রাকিবের মামা শীর্ষ কাগজকে জানান, চারতলা একটি বাড়ির নিচতলায় সজীব ও রাকিব থাকতেন। রাকিব রান্না ঘরে গিয়ে দিয়াশলাই দিয়ে সিগারেট ধরানোর সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তারা দুইজন দগ্ধ হন। পরে ভবনের লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এর আগে রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ সাতজন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন- সুমন (৩০), বিথী (১৫), রাব্বি (১০), অয়ন (২০), রোজী (৪০), মমতাজ (৫০) ও রেশমা আকতার (২৫)। এদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনার পর মোহাম্মদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল আলিম জানিয়েছিলেন, কলাবাগার লেক সার্কাসের ২৯/এ নম্বর টিনশেড ঘরের পাশের গ্যাস লাইনে কাজ চলছিল। ওই লাইন ছিদ্র হয়ে জমাটবাধা গ্যাস থেকে বিষ্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এছাড়া, রাজধানীর আজিমপুরে গ্যাসের চুলার পাশে মোবাইল চার্জ দেওয়ার সময় তা বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন কলেজ ছাত্রী উম্মে সাদিয়া আতিক লামিয়া। পরে তিনি ঢামেক হাসপাতালে ৫দিন চিকিৎসার পর  মারা যান। গত ২৬ অক্টোবর রাত ২ টার দিকে আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টারে গ্যাসের চুলা থেকে গ্যাস নির্গত হয়। এক পর্যায়ে সেখানে মোবাইল চার্জ দিতে গেলে তা বিস্ফোরণ হলে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। আগুনে তার শরীরের ৮০ ভাগ অংশ পুড়ে যায়। তিনি সিটি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী।

আর পুরান ঢাকার ওয়ারীর রথখোলা এলাকার গ্যাসের পাইপ বিস্ফোরণে ছয়জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ ৩ জনকে ঢামেক বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রথখোলার জয়তুননাথ বসাক লেনের ৯/১০ নম্বর বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এরআগে রাজধানীর আজিমপুরে গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী  নিহত হন। ৪৬/এন আজিমপুর স্টাফ কোয়াটারে ঐ বিস্ফোরণে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সালামত হোসেন (৪৮) ও তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমীন (৪৩) ঢামেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আর তার মেয়ে লিমা গুরুতর দগ্ধ হন। ।

রাজধানীর সুত্রাপুরে গ্যাসের চুলা মেরামতের সময় বিস্ফোরণে মামা-ভাগিনাসহ তিনজন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন, মামা কালু মিয়া (৩৮), ভাগিনা ইয়াসফি (৩) ও গ্যাসের চুলা মেরামতের মিস্ত্রী রমজান আলী (৪০)। সুত্রাপুরের হেমন্ত দাস রোডের ২৬/১ নম্বর দোতলা বাড়ির নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদেরকে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা এলাকায় এক বাড়িতে গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৫ জন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন, অফিনুর বেগম (৪০) তার দুই ছেলে শাকিল (১৪) ও শামিম (১০), নাতি মোরসালিন (৪) ও ভাই জলিল শিকদার (৫০)। দগ্ধ অফিনুরের বড় মেয়ে ময়না ঢামেক হাসপাতালে শীর্ষ কাগজকে ঘটনার পর জানান, ঘটনার দিন ‘ভোরে রান্না করার জন্য গ্যাসের চুলায় দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালানোর সময় হঠাৎ চুলাটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তারা অগ্নিদগ্ধ হন।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

তিতাস গ্যাস কোম্পানীর সহকারী প্রকৌশলী সিবেন্দ্রনাথ ঘোষ শীর্ষ কাগজকে বলেন, আমাদের কোম্পানীর কাজ হচ্ছে, কোন বাসা বাড়িতে গ্যাসের লাইন সংযোগ দেওয়ার সময় পুরো বাড়ির চুলা পর্যন্ত ঠিক করে দেওয়া হয়। এরপর আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, রাস্তায় মাটির নিচের লাইন থেকে  দুই পাইপের সংযোগ পর্যন্ত তদারকি করা। এই দুটি পাইপের একটি পাইপ গ্যাস চুলার দিকে থাকে আর একটি অতিরিক্ত পাইপ থাকে যার কাজ হচ্ছে, গ্যাসের চাপ হলে তা বের করে দেয়া। এই দু’টি পাইপ পর্যন্ত আমরা তদারকি করি। তার পরও কোন বাসা বাড়ি থেকে অভিযোগ করা হলে আমরা গিয়ে তা ঠিক করে দেই। কিন্ত যে সব দুর্ঘটনা, তার অধিকাংশ দেখা গেছে, ভিআইপি রান্না ঘরেই ঘটছে। ভিআইপি রান্না ঘরের জানালাগুলো এসি সিস্টেমের। ফলে সেখানে বাতাস ঢুকতে পারে না। আর গ্যাস লিক থাকলেও তা বের না হয়ে রুমের ভেতরেই থাকে। ফলে সেখানে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। আর ওই শব্দ হয় গ্রেনেড বিস্ফোরণের মতো। ফলে এ ধরণের বিস্ফোরণে মানুষ হতাহত হচ্ছে। আর ভুমিকম্পের মতো কোন দুর্ঘটনা ঘটলে গ্যাস লাইনগুলো ভবনের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে বা ফেটে যাবে। তাতে সব জায়গায় আগুন লেগে যাবে। তাই এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। যেন তাদের বাসা বাড়ির গ্যাসে সংযোগগুলো ভালোভাবে সংযোগ দেন।

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ পিএসসি শীর্ষ কাগজকে বলেন, এসব দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা খুব শিগগিরই জনগণকে সচেতন করতে মাঠে নামবো। তারপরও প্রতিটি বাড়ির মালিক ও বাড়ির বাসিন্দাদের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের সচেতন হতে হবে। অনেক সময় গ্যাসের চুলা ও লাইনে লিকেজ থাকে। সেগুলোর ব্যাপারে তাদের সচেতন হতে হবে। এছাড়া, রান্না ঘরের বন্ধ জানালা খুলে রাখা অপরিহার্য। ভাল চুলাও ব্যবহার করতে হবে।

শীর্ষ কাগজের সৌজন্যে

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4499017আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET