২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন-বিএনপির দুঃসময় লম্বা হচ্ছে

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন-বিএনপির দুঃসময় লম্বা হচ্ছে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : অক্টোবর ০৭ ২০১৬, ২২:৫৯ | 635 বার পঠিত

নয়া আলো ডেস্ক-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘১/১১ আমলে আমাদের দলের ভেতর থেকে ছুরি মারার উদ্যোগ না নিলে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হতো না। আমরা যারা দলের মধ্যে সুবিধাভোগী, দুঃসময়ে চুপ হয়ে যাই, পালিয়ে বেড়াই, নিজেকে বাঁচাতে নেত্রীর উপর দোষ চাপিয়ে দেই বলেই বিএনপির দুঃসময়ের পথ লম্বা হচ্ছে।’ রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মঙ্গলবার (০৪ অক্টোবর) বিকেলে এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর স্মরণে বিএনপির উদ্যোগে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়। হান্নান শাহর স্মৃতিচারণ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, হান্নান শাহর রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময় ১/১১ সরকারের সময়ে সাহসী ভূমিকা। দল ও দলের নেত্রীকে রক্ষা। তিনি দুঃসময়ে দেশের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছেন। মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম প্রতিবাদ করেছেন। সে কারণেই হান্নান শাহ শুধু স্মরণীয় ব্যক্তি নয়, শ্রদ্ধার পাত্রও। তিনি বলেন, ‘হান্নান শাহর প্রতিটি কথাই চমক বলে মনে হতো। সত্য কথা বলতে দ্বিধা নেই তাঁর। কে খুশি কে বেজার সে হিসাব করতেন না তিনি।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশে এখন স্বৈরতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র চলছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকার দেশ চালাচ্ছে। এরা বিরোধীকণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়। বিএনপিকে নির্মূল করতে চায়। বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।’ খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ জাতীয়তাবাদী শক্তির স্তম্ভ। তাঁর মৃত্যু জাতীয়তাবাদী বিএনপির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তিনি দুঃসময়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তিনি সাহসী নেতা ছিলেন। তিনি বলেন, এই সময়কালে স্বৈরাচারী একনায়ক বিনাভোটে সরকার চলছে, তার বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন। শেষ জীবনে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন, স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। হান্নান শাহকে গণমানুষের নেতা আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘হান্নান শাহকে ফিরে পাবো না। তার আদর্শ পথে যদি চলতে পারি তাহলে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবো।’ ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘আ স ম হান্নান শাহ সময়ের সাহসী পুরুষ। তিনি শুধু সৈনিক ছিলেন না, তিনি বিএনপির সেনাপতি ছিলেন। কখনো নিজের জীবনের পরোয়া করেননি বরং দেশপ্রেমে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এমনকি বিএনপির ক্রান্তিকালে সবার আগে এগিয়ে এসেছেন। বিএনপির আদর্শ প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার পাশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। যেটা সত্য, সঠিক বলে মনে করতেন তিনি সেটাই সবার সামনে প্রকাশ করতেন। তিনি বলেন, বিএনপির এই কঠিন সময়ে হান্নান শাহর উপস্থিতি বড় প্রয়োজন ছিলো। হান্নান শাহর মৃত্যুতে দল ও জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, হান্নান শাহর মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে বলতে শুনেছি তাঁরা তাদের প্রিয় মানুষটাকে হারালেন। আওয়ামী লীগের লোক এমনকি প্রশাসনের লোকেরাও এসেছে হান্নান শাহর জানাজায়। তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহে নয়, দলের দুঃসময়ে তিনি এগিয়ে এসেছেন অকুতোভয়ে। বড় দুঃসময়ে চলে গেলেন লড়াকু নেতা হান্নান শাহ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনে খালেদা জিয়ার পাশে তাঁর থাকার প্রয়োজন ছিলো। ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ১/১১ সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়াত বিএনপি নেতা আ স ম হান্নান শাহ বলেছিলেন, আমরা আছি, বিএনপি আছে ও থাকবে। কারণ তিনি (হান্নান শাহ) কারো কাছে মাথা নত করার লোক ছিলেন না। তাই প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে দেশে একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে বিজয় অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, হান্নান শাহ আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ খুঁজে বের করে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এছাড়াও বক্তব্য দেন- ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম- মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, নগর বিএনপির সদস্য মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু এবং প্রয়াত আ স ম হান্নান শাহর ছোট ছেলে রিয়াজুল হান্নান প্রমুখ।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4497812আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET