৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • চিকিৎসক ও সেবিকা সংকটে ভেঙ্গে পড়েছে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা

চিকিৎসক ও সেবিকা সংকটে ভেঙ্গে পড়েছে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা

admin6

আপডেট টাইম : অক্টোবর ০৭ ২০১৬, ১৯:৪০ | 634 বার পঠিত

নয়া আলো ডেস্ক-চিকিৎসক ও সেবিকা সংকটে ভেঙ্গে পড়েছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালের এক্সরে ও আল্ট্রাসনো যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। ফলে তিন লাখের অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই উপজেলার গরীব ও অসহায় মানুষরা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৫ জন চিকিৎসক থাকলেও কাগজে-কলমে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও)। তিনি প্রায় সময়ই দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। বাকি তিনজন বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। অনেক সময় তাঁদের মধ্যে ছুটিতে গেলে এই সংকট আরও প্রকট হয়।

সেবিকার ১৩টি পদের মধ্যে ৯টি পদই শুন্য। তাই তাঁরা ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। শিশু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে ২০১০ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯ শয্যাবিশিষ্ট নতুন একটি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চার বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে ছয় বছরেও চালু করা যাইনি হাসপাতালটির ৫০ শয্যার কার্যক্রম।

গত ২৩ সেপ্টম্বর বিকেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে হাসপাতালে কোনো চিকিৎসককে না পেয়ে সেখানে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘জরুরি বিভাগে এখন দায়িত্বে আছেন চিকিৎসক সানজিদা ফেরদৌস। তিনি এখন বাড়িতে আছেন, জরুরি বিভাগে গুরুত্বর কোনো রোগী এলে ম্যাডামকে ফোন করলেই চলে আসবেন।’

হাসপাতালের পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দুই ওয়ার্ড জুড়ে মাত্র একজন সেবিকা দায়িত্বে আছেন। জানতে চাইলে সেবিকা সাজেরা খাতুন বলেন, ‘এই হাসপাতালে আমরা মাত্র চারজন সেবিকা আছি। আমরা পালাক্রমে ছুটি কাটানোর কারণে অনেক সময় একজন সেবিকাকেই দুই ওয়ার্ডের কাজ করতে হয়। এতে রোগীদের যেমন সমস্যা হয়, আমাদেরই অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হয়।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পায়ের ব্যাথায় কাঁতরাচ্ছেন এক কিশোর। ছেলের আহাজারি শুনে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছেন মা। কিন্তু কাউকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। কোনো চিকিৎসক, সেবিকা নেই। জরুরি বিভাগে রোগী দেখছেন একজন স্বাস্থ্য সহকারী। পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগ সবকিছুই একাই সামাল দিচ্ছেন তিনি।

রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিকেলে ও রাতে বেশিরভাগ সময় এই হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক থাকে না। প্যারাসিটামল, অ্যান্টিসিডের মতো মাত্র কয়েক প্রকার ওষুধ ছাড়া হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না। এক্সরে ও আল্ট্রসনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে থাকায় রোগীদের অধিক টাকা ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্সরে ও আল্টাসনো করাতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভর্তি রোগীদের সরবরাহ করা খাবারের মানও ভাল নয়। হাসপাতালের বিছানা, চাদর ও মশারিও অপরিচ্ছন্ন। স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই খারাপ। বাথরুমের উৎকট গন্ধ সবসময় বিরাজ করে দুই ওয়ার্ডে। সার্বক্ষনিক এর গন্ধে সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ্য হয়ে পড়বে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অমিত কুমার বলেন, ‘চিকিৎসক-সেবিকা এবং যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে রোগীদের চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রশিক্ষণ, দাপ্তরিক কাজ কিংবা চিকিৎসকরা ছুটিতে থাকার কারণে অনেক সময় এমন হয় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসই থাকতে পারেন না।’

উপজেলা পরিবার-পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকা সহ অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির কথা অস্বীকার করলেও চিকিৎসক-সেবিকা সংকট এবং এক্সরে ও আল্টসনো যন্ত্র বিকল থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে।’

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4397623আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET