নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ
জাহেলিয়াত যুগের নির্যাতনকে হার মানাবে গৃহবধূ তাহেরা আক্তার রীনার নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা। ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউপিস্থ উত্তর হরিপুর হাজারী বাড়ীর মন্জুর আলম বাদল হাজারীর (৪৫) সাথে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয় তাহেরা আক্তার রীনাকে। রীনা ফেনী সদর উপজেলার কাতালিয়া কবি আবদুল মালেক বাড়ীর মৃত আমিনুল এহছান বাবুলের মেয়ে। বিয়ের পর থেকে স্বামীর বয়স বেশি হওয়ায় স্বামীর সংসার করতে রাজি ছিলোনা রীনা। রীনার মা বিবি ফাতেমা জোরপূর্বক তাকে বয়স্ক ও পুর্বে দুই বিয়ে করেছে এমন বরের নিকট বিয়ে দেয়। সংসার করতে রাজি না হওয়ায় বিয়ের পর থেকে স্বামী বাদল হাজারী রীনাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে রীনা গত ৯ মাস পুর্বে পালিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রীনাকে তার মা, ছোট ভাই রেজাউল করীম ও স্বামী বাদল হাজারী নানার বাড়ী চিয়রা থেকে জোরপূর্বক নিয়ে আসে এবং পাঠাননগর হাজারী বাড়ীতে স্বামী বাদল হাজারী লোহার শিকল দিয়ে হাত পা বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে লাঠি দিয়ে রীনার সমস্ত শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। রীনার উপর তার স্বামী এমন বর্বর নির্যাতন করছে এমন দৃশ্য দেখে রোববার (৮ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা ছাগলনাইয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষনিক ১৫/২০ সদস্যের একটি পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠান ছাগলনাইয়া থানার ওসি এমএম মুর্শেদ পিপিএম। পুলিশ রীনাকে ঘটনাস্থল থেকে শিকল বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেছে বলে জানান, ছাগলনাইয়া থানার ওসি (তদন্ত) সুদ্বীপ রায় পলাশ। রীনা জানায়, গত কয়েকদিন তার স্বামী বাদল হাজারী নিজে প্রস্রাব করে তা রীনাকে জোর করে খাইয়ে দিয়েছে। এছাড়া শরীরে কোনো কাপড় না রেখে ছিকল দিয়ে হাত পা বেঁধে ঘরের জানালার সাথে তালা মেরে রেখেছিলো। রীনা আরো জানায়, তার স্বামী বাদক হাজারী এর আগেও দুই বেয়ে করেছে এবং ঐ দুই সংসারে দুইটি ছেলে মেয়েও রয়েছে। তবে আগের দুই স্ত্রী বাদল হাজারীর নির্যাতনের কারনে চলে যায়। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে কি না তা জানতে চাইলে ওসি এমএম মুর্শেদ পিপিএম জানান, এ ঘটনার সাথে কারা কারা জড়িত তা ক্ষতিয়ে দেখছি এবং মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।









