২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ১৭ ২০১৬, ০৩:৪৪ | 626 বার পঠিত

22921_b8নয়া আলো ডেস্ক- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত মানববন্ধনে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। গতকাল রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্যের আহবান’ ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজমুদার, সুজন নির্বাহী সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ, সৈয়দ আবুল মকসুদ ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সুজন সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, জাতীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, জাসদের (রব) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, হুমায়ূন কবির হিরু, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি, শাহজাহান মন্টু, রঘুনাথ রাহা, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, আবুল হাসনাত, মোহাম্মদ সেলিম, প্রমুখ। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীসহ নাগরিক উদ্যোগ, ব্রতী, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, গুড নেইবারস, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার সুজন-এর মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে। মানববন্ধনে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জঙ্গিবাদ কারও বন্ধু হতে পারে না, তা মানবতার শত্রু। এ নিয়ে রাজনীতি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ নিরসনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কাজ করছে না। শুধু শক্তি প্রয়োগ করে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা যাবে না। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং জঙ্গিদের মতের বিপক্ষে সুচিন্তিত ও বিকল্প ন্যারেটিভ বা প্রস্তাবনা দাঁড় করাতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে তাদের মত ঠিক নয়। জঙ্গিবাদের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা নিজেদের নির্যাতিত মনে করে। এছাড়া আমাদের বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন-সহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, যা জঙ্গিবাদ উত্থানের পেছনে উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। আমরা সমস্যার গভীরতা অনুধাবন করতে পারছি না। বরং এখানে জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক আবরণ দেয়া হচ্ছে। অথচ এ সমস্যা আমাদের সমাজের, রাষ্ট্রের। তিনি বলেন, মতবাদ সমস্যা না। মতবাদ যখন সশস্ত্র রূপ নেয়, তখনই এটা জঙ্গিবাদ রূপ নেয়। তাই শুধু বলপ্রয়োগ করে এর সমাধান করা যাবে না। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে সুস্থ ছাত্র রাজনীতি ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা না থাকায় আমাদের তরুণরা বিপথে চলে যাচ্ছে। তাই তরুণরা যাতে বিপথে না যায় সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা হলেও দেশীয় প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে এর মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ধর্ম থাকবে, অপর ধর্মের প্রতি ভালোবাসা থাকবে এবং উদারনৈতিকতা থাকবে- আমরা এরকম একটি পরিবেশ চাই। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে জুমার খুতবা নির্ধারণ করে দেয়ার যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, উন্নত-অনুন্নত সব দেশেই জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের একার পক্ষে এর মোকাবিলা সম্ভব হবে না। এজন্য আজ প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও জনগণের একাত্মতা। তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদের সবচেয়ে নৃশংস শিকার সাধারণ জনগণ। তাই সাধারণ জনগণকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে এবং গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জঙ্গিবাদও এক ধরনের প্রতিবাদ। তবে এটার পথ ভিন্ন, সশস্ত্র। এ অবস্থায় জঙ্গিবাদ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন গণতন্ত্র ও সুশাসন, যে গণতন্ত্র হবে জবাবদিহিমূলক।
নাছিমা আক্তার জলি বলেন, অতীতের বিভিন্ন সংকটকালীন মুহূর্তে আমাদের যুব সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে তরুণদের একটি অংশ জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাই আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে তরুণদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখার। তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে? কারণ, তাদের একজনও পথভ্রষ্ট হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের সবার বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, গুলশানের আর্টিজান হোটেলে হামলার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতের বিভিন্ন ঘটনা মোকাবিলায় এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে জঙ্গিবাদের মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের কার কী ভূমিকা রয়েছে তা নির্ধারণ করার।
মানববন্ধনে সুজন-এর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি পেশ করা হয়। এগুলো হলো, অবিলম্বে জঙ্গিবাদী অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে; জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলো; জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে অবিলম্বে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলো;  জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে অবিলম্বে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলো; উদার, সহিষ্ণু ও বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে উদ্যোগী হওয়া; ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণসহ রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে; রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও হয়রানি বন্ধ করাসহ গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখা; অবিলম্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করো এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও একই দাবিতে সুজন-এর উদ্যোগে সারাদেশে ৫৫টি জেলা ও ৬১টি উপজেলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4391499আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 23এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET