৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

জঙ্গি সন্ত্রাসীরাও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, আমাদের সতর্ক হতে হবে

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ২৯ ২০১৬, ০০:১০ | 642 বার পঠিত

24778_f1নয়া আলো ডেস্ক- জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে ‘উন্নয়ন উদ্ভাবনে জনপ্রশাসন-২০১৬’ শীর্ষক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এক্সেস টু ইনফরমেশন’ (এটুআই) প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সামিটের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের বিভিন্ন উদ্ভাবন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার জন্য এই সামিটের আয়োজন করা হয়। এ সময় তিনি প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে যেমন ভালো কাজ হচ্ছে, আবার এই জঙ্গি-সন্ত্রাসীরাও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারা ফায়দা লুটছে। কাজেই এজন্য আমাদের খুব সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের পুরাতন জঙ্গি সমস্যা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বাংলার মাটিতে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না- এই নীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রশাসনে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, আধুনিক, গতিশীল ও উদ্ভাবনীমূলক জনপ্রশাসনই দেশকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারে। বিশ্বের উন্নত দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুত, উন্নততর ও সহজলভ্য সেবা দিতে হলে আমাদের আরো বেশি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমি মনে করি জনপ্রশাসনের প্রতিটি সদস্যের দক্ষতা রয়েছে। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমরা দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছি। জনপ্রশাসনের সদস্যরা তথ্য-প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মেধা ও অর্জিত অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নতুন নতুন উদ্ভাবনী পদ্ধতি ও কৌশল আয়ত্ত করছে। আমরা চাই জনগণ সেবার জন্য ঘুরবে না, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে। জনপ্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই উল্লেখ করে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আপনারা সকলে মিলে একবিংশ শতকের উপযোগী আধুনিক, সেবামুখী একটি চৌকস জনপ্রশাসন গড়ে তুলবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার। সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ সেই লক্ষ্য অর্জনের চাবিকাঠি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। জাতির পিতার এসব পদক্ষেপই আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি।
১৯৯৬ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন সবকিছুই চলতো এনালগ স্টাইলে। ইন্টারনেট তো দূরের কথা, কম্পিউটার ব্যবহার করার বিষয়েও অনেকেরই অনীহা ছিল। আমার কাছে মন্ত্রণালয় থেকে যে ফাইলগুলো আসতো তা ছিল টাইপ মেশিনে টাইপ করা, কম্পিউটার যাও ছিল তাও পড়ে থাকতো শোপিসের মতো। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকেই তিনি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কম্পিউটার এক্সেসরিজের ট্যাক্স কমিয়ে এটি জনগণের নাগালের মধ্যে দেয়া হয় তারই পরামর্শে। এমনকি ‘ডিজিটাল’ শব্দটিও তার তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেয়া বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মোবাইল ফোনকে ব্যক্তি সেক্টরে উন্মুক্ত করে দেয়াসহ তথ্য প্রযুক্তিকে সহজলভ্য এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসায় তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া দেশে ৩-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা এবং ৪-জি প্রযুক্তিও অচিরেই চালু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে তার সরকারের ডিজিটালাইজেশনের চিত্র তুলে ধরেন। চিকিৎসা সেবাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ নেয়া যাচ্ছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রোগী শহরের হাসপাতালে না এসেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন।
তিনি আরো বলেন, কৃষক এবং কৃষি সম্পর্কিত সেবা ও তথ্য প্রদানের জন্য দেশের প্রথম সরকারি কলসেন্টার হিসেবে ‘কৃষি কলসেন্টার’ চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন টেনাসিস।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, ‘এটুআই’ প্রকল্পের পরিচালক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ারও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের পরিচালনায় এবং জাপানি একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের ওপর নির্মিত ৩০ মিনিটের একটি থ্রিডি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া, দেশকে বর্তমান সরকারের ডিজিটালাইজেশনে রূপান্তরের তথ্যচিত্র নিয়ে ‘রপান্তরের গল্প’ (টেল অব ট্রান্সফরমেশন) প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর ও চট্টগ্রাম- এই তিন জেলাকে শ্রেষ্ঠ জেলা এবং শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে ঢাকাকে সম্মাননা প্রদান করেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4657513আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET