২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • জনগণের ভয়েই সমাবেশে বাধা দিচ্ছে সরকার : মির্জা ফখরুল

জনগণের ভয়েই সমাবেশে বাধা দিচ্ছে সরকার : মির্জা ফখরুল

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : নভেম্বর ০৫ ২০১৬, ০২:০০ | 651 বার পঠিত

167316_149নয়া আলো ডেস্ক- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই। এমনি অবস্থায় ক্ষমতাসীনরা শুধু শ্বাসরুদ্ধকর নয়, এরা জাতিকে ভয়ঙ্কর অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সর্বাত্মক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরী আরা সাফা, মহিলা দলের নূরজাহান ইয়াসমিন, জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, রাশেদা বেগম হীরা, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার, রাজিয়া আলীম, আমেনা বেগম, শামসুন্নাহার বেগম প্রমুখ।

সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার নেত্রীরা নেতৃত্বে কাছে সংগঠনের অবস্থা তুলে ধরেন নতুন।

রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা প্রতিনিধিদের এই সম্মেলন হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া সংগঠনটির ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার তিন শতাধিক প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মহিলা দলের নতুন কমিটি অনুমোদন দেয় বিএনপি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ দিনটি রাজনীতিতে পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলো। যখন বাংলাদেশের জনগণের অধিকার চলে গিয়েছিলো, যখন দেশের প্রাপ্ত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে বসেছিলো, তখন ৭ নভেম্বরে এদেশের সৈনিকেরা এবং জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিলো। সব চক্রান্তকে ধ্বংস করে দিয়ে তারা সত্যিকার অর্থে দেশের পতাকাকে আরো শক্তভাবে উড্ডয়ন করেছিলো।

তিনি বলেন, সরকার ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’কে ভয় পায় বলেই তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়নি। তারা নিজেরাই এই দিবসটি পালন করতে চায় না। অন্যকেও তারা পালন করতে দেবেনা বলেই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জায়গা দেয়নি। শুধু তাই নয়, তারা বিএনপিকে ভয় পায়, তারা জনগণকে ভয় পায়, তারা সবচেয়ে বেশি বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। তিনি যাতে জনগণের কাছে যেতে না পারেন, সেজন্য এই অপচেষ্টা সরকার করেছে।

মির্জা ফখরুল মহিলা দলকে সংগঠিত হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার দেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে, মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে, সকলকে জাগিয়ে তুলে আমাদেরকে সর্বাত্মক একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই জনগণের অধিকার আমরা ফিরিয়ে দিতে পারবো, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো, আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবো-এটাই হোক আমাদের আজকের দিনের শপথ। নবগঠিত নতুন কমিটিকে জেলায় জেলায় গিয়ে সম্মেলন করে কমিটি গঠনের পরামর্শও দেন বিএনপি মহাসচিব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরের ঘটনা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিনষ্টের পরিকল্পিত চক্রান্ত মন্তব্য করে তিনি বলেন, তিনদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি গ্রাম ও মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। এর পরপরই উচিত ছিলো সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে আমি দেখেছি, পত্রিকায় উঠেছে, একজন মন্ত্রী যিনি অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন, তিনি বলতে চেয়েছেন যে, এটা তাদের সৃষ্টি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেও এতো পুলিশ-র‌্যাব পরিবেষ্টিত অবস্থায় আরো পাঁচটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষ তো এতো বোকা নয়। খুব ভালোভাবে বুঝতে পারা যায়, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আপনাদের প্ররোচণাতে বাংলাদেশে এমন একটি অবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছেন যে, দেশে একটা সাম্প্রদায়িকতার উস্কানি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।

দলের অবস্থান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাষায় বলতে চাই, আমরা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অতীতে রক্ষা করেছি, এখনো রক্ষা করতে চাই। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এভাবে শুধু বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্রকে আদায় করবার যে আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বিচ্যুত করবার জন্য, ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এধরনের কোনো অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। আমরা বলতে চাই- সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে। রাজনীতি যেন কোনোভাবেই ভিন্নখাতে প্রবাহিত না হয়, আমাদেরকে নজর রাখতে হবে।

রুহুল কবির রিজভী আওয়ামী লীগকে ‘অন্ধকার ও গণতন্ত্র হত্যাকারীর দল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ ও ৮ নভেম্বর আমরা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। ক্ষমতাসীনরা ৭ নভেম্বরকে ভয় পায়। সেজন্য তারা সমাবেশের অনুমতি দেবে না। পুলিশ গড়িমসি করতে করতে বলেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আরো কয়েকটি দল সমাবেশ করতে চাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কাউকেই সেখানে অনুমতি দেব না। কোন দল চেয়েছে, আমরা তো জানি না। এর আগে তো আপনারা বলেননি। এ ব্যাপারে জাতি কিছু জানলো না। আসলে আপনাদের যারা পরিচালনা করে, ট্রান্সফার-পোস্টিং নিশ্চিত করে, তাদের কথা শুনে বিএনপির সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকারকে আবারো হত্যা করলেন। অথচ আইনি প্রক্রিয়া মেনে আমরা আপনাদের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা আমাদের অনুমতি দিলেন না।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4728504আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET