২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

জামায়াত নেতাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারতের পরামর্শ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৭ ২০১৬, ১৪:৪১ | 656 বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর নবীন নেতাদের ‘নিয়মিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত’ করার পরামর্শ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
jafrullah
রবিবার দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাষী জাফরুল্লাহ এ পরামর্শ দেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরো অনেক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডে সন্তুষ্ট কিনা।
জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছি। দলের কতিপয় জ্যেষ্ঠ নেতার ভুল সিদ্ধান্ত ও অমানবিক কার্যকলাপের জন্য জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে আরো ক্ষতির আশঙ্কা আছে। আবার এও ঠিক, জামায়াতের উচিত হবে তাদের একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। জামায়াতের বর্তমান নবীন নেতারা তো বিনা দ্বিধায় বলতে পারেন, আওয়ামী লীগের বয়োজ্যেষ্ঠ কিছু নেতা যেমন পাকিস্তান চাইতেন, গোলাম আযম প্রমুখরা তেমনি পাকিস্তানের সমর্থন করে ভুল করেছেন। আমি আশা করি তাদের পরবর্তী নবীন নেতারা কোনো রকম দ্বিধা না করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতন্ত্র, সমতা ও ন্যায়বিচারে পূর্ণ বিশ্বাসী হবেন। তারা নিয়মিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত করবেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ ও দল গড়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জিয়া চক্রান্ত করে ক্ষমতা নেননি, আবার গণতান্ত্রিক পথে তার অভ্যুদয় ঘটেনি। দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছিল। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল না থাকায় সেটা ছিল একটা স্বাভাবিক পরিণতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, মুজিব ভাইয়ের সঙ্গে তর্ক করে আমি আজও বেঁচে আছি। আপনার সঙ্গে তর্ক করে আমি ফিরে যেতে পারব তো? তিনি বললেন, এটা কী বলেন? আমি বললাম, আপনি এমন কিছু করবেন না, যাতে এই ছবিটা কেউ নামিয়ে ফেলে। তিনি বললেন, কী করতে হবে? সেক্রেটারিয়েটে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে তাঁর মাথার ওপরে শেখ মুজিবের ছবি ছিল। আমি সেদিকে নির্দেশ করে বলেছিলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডানে মাওলানা ভাসানীকে বসিয়ে দিন। আর বঙ্গবন্ধুর পায়ের নিচে জেনারেল ওসমানী ও জিয়াকে বসিয়ে দিন। এই চারটি ছবি একসঙ্গে থাকলে আর তা কখনো নামবে না। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কী বলেন ভাই?’

শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই বৈঠকে আপনি কি ‘পায়ের নিচে’ শব্দটিই ব্যবহার করেছিলেন? জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর পায়ের নিচেই বলেছি। বলেছিলাম, ওসমানীর কোনো দল নেই। তবে বিএনপি আছে। কিন্তু জিয়া থাকবে বঙ্গবন্ধুর পায়ের নিচে। আর এতেই জাতীয় ঐক্যটা আসবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের জন্য এটা আজকের প্রেক্ষাপটেও ভীষণ দরকারি। এখন আমরা যার মধ্য দিয়ে চলছি, তা থেকে বেরোতেও এটা সহায়ক, অন্তত আমি তা-ই বিশ্বাস করি।

শেখ হাসিনাকে বলা ছবি-বিষয়ক ওই সব কথা বেগম জিয়াকে কখনো বলেছিলেন কিনা জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন আমি খালেদা জিয়াকে বলেছি। এতটা বিস্তারিত নয়। তবে আমার মনে হয়েছে জিয়াকে বঙ্গবন্ধু ও মাওলানা ভাসানীর পায়ের নিচে রাখতে বিএনপির খুব আপত্তি হবে না। এটা আমার বিশ্বাস।

তাকে প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে পায়ের নিচে বা মাথার ওপরে রাখবে? বিএনপির অনেকে কথায় কথায় জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর সমান, এমনকি চাটুকারেরা সেই মাত্রাও ছাড়িয়ে জিয়াকে আরও বড় করে তোলে। তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সেদিনও কটূক্তি করেছেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তারেকের সেটা করা সমীচীন হয়নি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার কটু বক্তব্যের জন্য তারেক মাফ চেয়ে নিতে পারেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মনঃক্ষুণ্ণের কারণ নেই। এটা তো সত্যি যে ওসমানী, তাজউদ্দীনের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে মুজিব ভাই ৩২ নম্বর ধানমন্ডি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সে রাত্রিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়েছিলেন। শেখ মুজিবের তো জানা ছিল জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য তো মুজিব ভাই জিয়াকে ভর্ৎসনা করেননি। বরং তাঁকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছেন। উপসেনাপ্রধানও করেন। বঙ্গবন্ধুর যে মহানুভবতা ছিল, তারই অনুসরণ আজ বড় প্রয়োজন।

ডা. জাফরল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়, তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ কী? তার দেশে ফেরা?
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তার ভবিষ্যৎ বিএনপির ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত তারেককে দেশে ফিরতে দেওয়া, এতে তিনি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

সরকারের সমালোচক হিসেবে মন্ত্রিসভার মূল্যায়ন জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতে অবসরে যাওয়া উচিত। ইনু ও মেননকে আর দরকার নেই। তাঁদেরই উচিত সরে দাঁড়ানো। মতিয়া চৌধুরীর কাজের প্রশংসা করি কিন্তু তার সহনশীলতার অভাব আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল পুলিশ বাগে রাখতে না পারলেও খুবই সফল বলব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম তো প্রমাণ করেছেন যে চিকিৎসক স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের চেয়ে তিনি ভালো কাজে অনেক এগিয়ে আছেন। আর জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের আগেই ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল। তারা সরকারে থেকে দল পচিয়েছেন।

জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে বিএনপির ক্ষতি কী প্রশ্ন করা হলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ তার সুযোগ নিতে পারে। ক্ষুদ্র দল হলেও রাজনীতিতে তাদের একটা জায়গা থাকে। ভোটের হিসাবে জাপা ও জাসদকে আওয়ামী লীগের দরকার নেই, কিন্তু তাদের সরকারে রাখার দরকার পড়ে। একই ধরনের হিসাবনিকাশ থেকে জামায়াতকে বিএনপির দরকার।

অনেকের আশঙ্কা বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে তাকে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরানো হবে। এ প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ যেদিকে যাচ্ছে, তাতে তাদের লাভ হবে না। এটা বেগম জিয়াকে একা নয়, শেখ হাসিনাকেও বুঝতে হবে। উভয়কে সহাবস্থানের নীতি মানতে হবে।

বর্তমান সরকারের সব থেকে বড় সাফল্য কী জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তাদের সব থেকে বড় সাফল্য সমুদ্রসীমাসংক্রান্ত মামলায় জয়লাভ করা। আর সব থেকে বড় ব্যর্থতা হলো সর্বত্র দুর্নীতির বিস্তার ঘটানো। কুইক রেন্টাল তার অন্যতম উদাহরণ। আর সার্বিক বিচারে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সব রাজনৈতিক দলকে বোকা বানিয়েছেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4327077আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 6এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET