২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

ঝিনাইদহের কানুনগো সিরাজুলের তেলেসমাতী ! টেবিলের নিচ দিয়ে ঘুষ নেন !

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১০ ২০১৬, ০০:১১ | 661 বার পঠিত

picture-jhenaidah-3ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুফাডাঙ্গা মৌজায় গ্রীড স্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহনে লাখে ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করা নিয়ে এলাকায় তোলপাড়া শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে নামে-বেনামে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবেও লিখিত অভিযোগের কপি দেওয়া হয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরে ঘুষ গ্রহনের বিষয়ে একটি তদন্ত হয়েছে।

ঝিনাইদহ কালেক্টরেটের ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা মোছা নুর নাহার বেগম অভিযোগ তদন্ত করেন। তিনি এ সময় ৫জন কৃষকদের বক্তব্য শোনেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী ৬ কৃষকদের মধ্যে আতিয়ার রহমান শেখ উপস্থিত ছিলেন না। কৃষক আব্দুলের ছেলে খায়রুল হোসেন ও ওহিদ মন্ডলের ছেলে মিল্টন বাবার পক্ষে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন তার বাবারা কোন ঘুষ দেন নি।

এদিকে বাকী তিনজন কৃষক অরুন কুমার বিশ্বাস, মতিয়ার রহমান ও খুদিরাম বিশ্বাস উপস্থিত হয়ে তাদের কাছ থেকে কানুনগো সিরাজুল ইসলাম এক লাখে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে জানান। ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে এলাকায় কানুনগোর দালাল হিসেবে একরামুল হক নান্টুর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন বলেও তারা জানান।

তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থি সুত্রটি জানান, তদন্ত কর্মকর্তা নুর নাহার বেগম অভিযোগকারীদের বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শোনেন এবং আগামী ১৩ নভেম্বর রোববার বিকালে অভিযোগকারীদের বক্তব্য লিখিত আকারে দাখিল করার নির্দেশ দিন।

এদিকে তিন কৃষক ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তার কাছে সত্য বক্তব্য দেবার কারণে দালাল একরামুল হক নান্টু বাড়ি গিয়ে হুমকী দিয়েছেন। কুলফাডাঙ্গা গ্রামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে অরুন কুমার জেলা প্রশাসকের কালেক্টরে সাক্ষ্য প্রদানের খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিভিন্ন দপ্তরে কে বা করা একটি লিখিত অবিযোগ দিয়েছেন।

এই লিখিত অভিযোগ আমরা না দিলেও অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনা সঠিক। অভিযোগ পত্রে যা লেখা হয়েছে সবই সত্য। জমি অধিগ্রহনের সময় আমিসহ সবার কাছ থেকে লাখে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এবং আমরা এই টাকা জেলা প্রশাসকের অফিসে পৌছে দিয়েছি। কানুনগো সিরাজুল ইসলাম টেবিলের নিচ দিয়ে এই টাকা গ্রহন করেছেন।

অরুন কুমার বলেন, গত ৮ মে তারিখে আমি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংক থেকে তুলে ঘুষের টাকা শোধ করি। এই টাকা আমি দালাল নান্টুর কাছ থেকে ধার করেছিলাম। তিনি জানান, বুধবার তদন্ত চলাকালে কানুনগো সিরাজুল জড়িয়ে ধরে বলেছিলো আমার চাকরীটা যেন বাচেঁ। একই গ্রামের ইমান আলীর ছেলে মতিয়ার রহমান শেখ জানান, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে তিনিও সাক্ষি দিয়েছেন। তার কাছ থেকেও ঘুষের প্রায় ৬৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে ও ঝিনাইদহ জমি অধিগ্রহন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ওয়েষ্টার্ণ গ্রীড নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ১৩২ নং কুলফাডাঙ্গা মৌজায় ১৬ একর ৪০ শতক জমি অধ্রিগহন করা হয়। এ জন্য এলাকার প্রায় ৩৫/৪০ জন কৃষদের ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

বেশির ভাগ কৃষ অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসকের ওয়েলফেয়ার ফান্ডের নামে কানুনগো সিরাজুল ইসলাম লাখে ১০ হাজার টাকা চেক প্রদানের আগেই হাতিয়ে নিয়েছেন। কুলফোডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাশিনাথ বিশ্বাস বলেন, তিনি ও তার ভাই কনক চন্দ্র ২৬ শতক জমি দিয়েছেন। টাকা তুলতে অফিসে কিছু টাকা নিলেও আমি তা বলতে চাচ্ছি না। কারণ আমার কাছে কোন প্রমান নেই। তাছাড়া আমি হিন্দু মানুষ। কোন ঝামেলায় জড়াতে চায় না। ওই মৌজায় জমি লীজ নিয়ে নার্সারী করা জালাল উদ্দীন গাজী চারা বাবদ পেয়েছেন ২৪ লাখ টাকা। তার কাছ থেকে অর্ধেকের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে অধিগ্রহনকৃত জমি থেকে জালাল গাজী গোপনে গোপনে চারা বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে জালাল গাজী বলেছেন আমাার এক আত্মীয় সেনাবাহিনীতে চাকরী করেন। সেই সুবাদে কোন টাকা ঘুষ দিতে হয়নি।

এছাড়া অনেকের ক্ষেতে গায়েবি ফসল দেখিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অবিযোগ করেছেন কৃষক খুদিরাম। চুটলিয়া গ্রামের ওহিদ মন্ডল ও তার ছেলে মিল্টন মিডিয়ার কাছে তাদের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে স্বীকার করলেও জেলা প্রশাসকের কালেক্টরেটে গতকাল বুধবারের তদন্তে হাজির হয়ে বলেছেন টাকা তুলতে কোন ঘুষ লাগেনি।

এলাকার কৃষকদের কাছে কানুনগোর দালাল হিসেবে পরিচিত একরামুল হক নান্টু জানান, সরকারী টাকা তুলতে তো কমবেশি খরচ হয়। কৃষকরা সেই টাকাই দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘুষের কোন টাকা আমি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ ভুমি অধিগ্রহন অফিসের কানুনগো সিরাজুল ইসলাম বুধবার বিকালে টেলিফোনে জানান, দুখিত, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

কৃষকরা কার কাছে কেন ঘুষ দিয়েছে তা আমার জানা নেই। এদিকে কুলফাডাঙ্গা, চুটলিয়া ও তেতুলতলা গ্রামের কৃষকদের কাছে এই ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি এক প্রকার ওপনে সিক্রেট। বাজার ঘাট সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে হতদরদ্রি কুষকদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহনের খবর।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4722269আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 6এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET