খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আপার ভদ্রা নদীর উপর গরুর খামার নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে মহাদেব পাল নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে পাশাপাশি খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার ৪৮টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার রোস্তমপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, এস এম আব্দুর রহমান, আব্দুল হালিম মোড়ল, আব্দুর রশিদ মোড়ল, আব্দুল গফুর মোল্লা, কামাল সরদার, নরনিয়া গ্রামের বদরুজ্জামান মিন্টুসহ শতাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, গত ২মাসে অবিরাম বর্ষনে সারাদেশের ন্যায় আটলিয়া ইউনিয়নের রোস্তমপুর, আটলিয়া, নরনিয়া গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজার হাজার মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে, কৃষি জমির ফসল নষ্ট হওয়াসহ বাড়ির উঠানে পানি উঠে গেছে। কিন্তু বৃষ্টির চাপ কমে গেলেও আপার ভদ্রা নদীর উপর দিয়ে পানি সরবরাহের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় এখনও গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে জীবন যাপন করছে। মাঠ, ঘাট ও বিলে এখনো মাজা পানি। বাড়ির উঠানে পানি জমে থাকায় অনেকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় গ্রহন করেছে। অনেকে বাড়ির উঠানে বাঁশের স্যাঁকো বানিয়ে চলাচল করছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশু বৃদ্ধ সহ অনেকে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, চুকনগর বাজার ব্রীজ রোডের ব্যবসায়ী মহাদেব পাল নামে এক ব্যক্তি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পুরো আপার ভদ্রা নদীটি গিলে খাচ্ছে। তিনি নিজের স্বার্থের জন্য কেশবপুর উপজেলার নিমতলা এলাকায় নদীর প্রায় ২৫/৩০ হাত জায়গা জুড়ে একটি গরু খামার করেছে। এর একদিকে নদীর উপর গরুর খামার করার কারণে পানি সরবরাহে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে, অপরদিকে প্রায় ৫শত গরুর বিষ্টা ফেলানো হচ্ছে নদীতে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে গরুর বিষ্টা (গোবর) ফেলানোর কারণে প্রায় ১কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভরাট হয়ে গেছে। মূলত একারণেই তিন জেলার ৪৮টি গ্রামের মানুষ আজ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, বুড়ুলিয়া ব্রীজের মাথা হতে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের বাড়ির সীমানা পর্যন্ত নদী খনন না করলে, এবার ইরিবোরো মৌসুমে বীজতলা তৈরি করাসহ ইরি ধান চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তারা বলেন, মহাদেব পাল যদি নদীর উপর নির্মিত গোয়াল ঘর ভেঙে নেওয়াসহ নদীতে গরুর বিষ্টা ফেলানো বন্ধ না করে তাহলে মানব বন্ধনসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাছাড়া মহাদেব পালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এই নদীকে কেন্দ্র করে মসজিদের ঈমামসহ ১৭জনের নামে মিথ্যা মামলা করারও অভিযোগ রয়েছে।
এব্যাপারে মহাদেব পাল নদীর উপর গরুর খামার নির্মান ও বিষ্টা ফেলানোর কথা স্বীকার করেছেন। পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, নরনিয়া স্লুইস গেটে একটি সেচ পাম্প দিয়ে পানি সেচ হচ্ছে। এটা একটি মহাসাগর হতে এক বালতি পানি তোলার মত গল্প এবং হাস্যকর। তাছাড়া নদী যে স্থান থেকে ভরাট হয়ে গেছে, সেখানে স্কেভেটর না লাগিয়ে যেখানে নদী গভীর আছে সেই স্থান থেকে মাটি খনন করা হচ্ছে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি বলেন, আপার ভদ্রা নদীতে দু’টি ভাসমান স্কেভটর কাজ করছে। একটা নরনিয়া স্লুইস গেটের সামনে থেকে, অপরটা নিমতলা মন্দির এলাকায় কাজ করছে। তবে আপার ভদ্রা নদীর উপর নির্মিত মহাদেব পাল নামে এক ব্যক্তির গরুর খামারসহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
Please follow and like us:










