খুলনার ডুমুরিয়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ প্রচেষ্টার অভিযোগে জিয়ালতলা মহামায়া আশ্রমের ধর্মগুরু নারায়ন রায় (৫৮) কে আটক করেছে পুলিশ। আটক নারায়ন রায় আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবান বন্দীতে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুদ রানা। এব্যাপারে ভিকটিমের বাবা ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাধু বাবা নারায়নের সাথে ভিকটিমের বাবা কদমতলা গ্রামের পরিতোষ কুমার মন্ডলের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকদিন আগে ভিকটিমের চাচি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্যে নারায়নকে সেই বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং তিনি সেই বাড়িতে রাত যাপন করেন। রাত যাপনের সুযোগে গভীর রাতে নারায়ন ১৫বছর বয়সী ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় কিশোরীর পরিবারের অন্য সদস্যরা টের পেয়ে গেলে নারায়ন সেখান থেকে চলে যায়, তবে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্যে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে থাকেন।
কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরীর বাবা পরিতোষ কুমার মন্ডল বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ বুধবার সকালে নারায়ন গোস্বামীর বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়। আটক নারায়ন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দীতে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এব্যাপারে ভিকটিমের বাবা পরিতোষ মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নারায়নের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, নারায়ন উপজেলার জিয়ালতলা গ্রামের মৃত হরিপদ রায়ের ছেলে। তিনি পল্লীশ্রী কলেজে টাইপিষ্ট পদে কর্মরত থাকলেও কলেজে যান না বলে জানা গেছে। অত্যান্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া নারায়ন জিয়ালতলায় আশ্রম গড়ে তোলার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। জিয়ালতলা গ্রামের এই আশ্রমে প্রতি মঙ্গলবার বার বসে। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে সনাতন ধর্মাবলম্বী সব বয়সের নারী-পুরুষ জড়ো হয়। ভক্তদের কাছে নারায়ন বাবা বলে পরিচিত, তিনি সারা সপ্তাহ ভক্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রণামী গ্রহন করেন, আর মঙ্গলবারে ভক্তরা এসে বাবার পায়ে প্রণাম করে প্রসাদ নিয়ে সকালে ফিরে যায়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) মোঃ খায়রুল আনাম বলেন, মামলার পরে ভিকটিমের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর আজ (বুধবার) সকালে নারায়নের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর পুলিশের কাছে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে, এরপর কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতেও স্বীকার করেছে।
Please follow and like us:






