২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

ডুমুরিয়ায় ইট ভাটার ঠাসায় সঙ্কীর্ণ হয়ে বিলুপ্তর পথে প্রবাহমান হরি নদী

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, চুকনগর.খুলনা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : আগস্ট ১৭ ২০২১, ১২:৩৭ | 674 বার পঠিত

ভূ-খন্ডে এক সময় চার সহ¯্র নদ-নদী বয়ে যেত। বর্তমানে নদীর সংখ্যা এবং বহু নদীর অবস্থান বিলুপ্ত প্রায়। নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদী মাতৃকতা বিশেষণ হারিয়ে যেতে বসেছে মূলত নদী দখলের ফলে। আর এই নদী দখল কৃষির উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের সুজলা সুফলা রূপ ক্রমাগত হারিয়ে যেতে বসেছে নদী দখল ও দূষণের ফলে। এমন রূপরেখা এখন খুলনা ডুমুরিয়ায় দেখা মিলছে। ভদ্রা-হামকুড়া নদীর মতো বিলুপ্তর পথে এক সময়কার প্রবল খর¯্রােতা হরি নদী।
পাল¬া দিয়ে খর্ণিয়া এলাকার কতিপয় ইট ভাটা মালিক হরি নদী দখলে মেতে উঠেছে। নদীর চর দখল করে ক্রমান্বয় তারা ভাটার জায়গা প্রসারিত করছে। নদীর বুকে বাঁধ দেওয়ার কারণে ¯্রােতের গতিপথে ব্যাপক বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দ্রুত পলি ভরাট হয়ে এক সময়কার প্রবল খর¯্রােতা হরিনদী ক্রমাগত সঙ্কীর্ণ হয়ে প্রবহমানতা হারাচ্ছে। নদীর বুকে এমন অত্যাচার চলতে থাকলে আগামী দুই এক বছরের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে হরিনদী। এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, হরি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর ও খুলনা জেলার একটি নদী। এ নদী যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়ন এলাকায় প্রবহমান মুক্তেশ^রী টেকা নদী হতে উৎপত্তি। নদীর জলধারা খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে হাপরখালী নদীতে নিপতিত হয়েছে। ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই নদী সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জোয়ার ভাটার প্রভাবে প্রভাবিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ নদী তার যৌবন হারাতে বসেছে। আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে খর্ণিয়া এলাকার কিছু ইটভাটা ব্যবসায়ী নদীর চর দখলে মেতে উঠেছে। খর্ণিয়া বাজার সংলগ্ন খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে জাহান ব্রীকসের এরমধ্যে অন্যতম। নদীর প্রায় সিংহভাগ দখল করে নিয়েছে ওই ইটভাটায়। প্রায় এক যুগ ধরে চলছে এই দখল। নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে সেখানে পুকুর সৃষ্টি করে পলি ভরাট করছে। আর সেই পলি কেটে তা দিয়ে ইট প্রস্তুত করছে। খর্ণিয়া ব্রীজের উপর দাঁড়ালে চোখে পড়বে নদীর বুকে অসংখ্য মানবসৃষ্ট পুকুর। শুধু জাহান ব্রীকস নয়, এমন অভিযোগের তীর রয়েছে কেবি ব্রীকসের বিরুদ্ধেও। তারাও নদীর চর দখলের প্রতিযোগিতায় কমতি নেই। ভদ্রা ও হরি নদীর ৪ কিলোমিটারের মধ্যে ১৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর অধিকাংশ ইটভাটা নদীর জায়গা দখল করে বসে আছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হরী নদী এক সময় ব্যাপক গভীর এবং অনেক চওড়া ছিল। এখন তা তিন ভাগের এক ভাগ আছে, আর দুই ভাগ মারা গেছে। ইট ভাটা মালিকরা দখল করার কারণেই মুলত নদীর এ অবস্থা হয়েছে। নদীতে পলি জমাট হচ্ছে আর ইট ভাটার দখলে চলে যাচ্ছে। নদী ভরাটের কারণে আমাদের সিংগার বিল, বিলখুকসি, ভায়নার বিলে জলাবদ্ধা দেখা দিয়েছে।
যেভাবে ভাটা মালিকরা নদী দখল শুরু করেছে, তাতে আগামী দুই এক বছরের মধ্যে হরি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। নদীর গতিপথে বাঁধা সৃষ্টির কারণে খর্ণিয়া-শোলগাতিয়া-ভদ্রদিয়া সড়কসহ বাজারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ নদী খননের দাবী করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে জাহান ব্রীকসের স্বত্বাধিকারী শাহাজান জমাদ্দারের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, এটা নিয়ে আমাদের একটা টেকনিক্যাল কমিটি হয়েছে। যশোরের ভবদহ এবং খুলনার ডুমুরিয়া নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। এটা অনুমোদন হওয়ার অপেক্ষা শুধু। দুই জেলার সমন্বিতভাবেই করা লাগবে। নদী কাটলে আবার যাতে ভরে না যায় সেই রকম পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছি। ওখানে বড় একটা স্ট্রাকচার করে পলি আটকানো একটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি হচ্ছে আমাদের। নদীর অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে তিনি বলেন, খর্ণিয়া এলাকায় নদীর চর দখলীয় ইটের ভাটাগুলোর একটা লিস্ট করে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং এটার বিরুদ্ধে অচীরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4723716আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET