১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আ.লীগকে ধরে রেখেছে : শেখ হাসিনা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২২ ২০১৬, ১৯:৩৫ | 632 বার পঠিত

163519_177নয়া আলো ডেস্ক- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে যাচ্ছিল, তখনই ভয়াবহ হামলা হয়। ওই দিন আমার পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হয়েছে। এভাবে বেঁচে থাকা যে কী কষ্টের, তা যাদের স্বজন হারিয়েছে, শুধু তারাই বুঝতে পারে। আওয়ামী লীগ ধরে রেখেছে এর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তারাই দলের প্রাণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমানুষের সমর্থনে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি। আওয়ামী লীগের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল। আমি দেখেছি মানুষের হাহাকার, আমি দেখেছি গৃহহারা মানুষের হাহাকার। স্বচক্ষে নিজে যেমন দেখেছি, আমি আমার পিতার কাছ থেকে শুনেছি শোষিত, বঞ্চিত মানুষের কথা।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে সম্মেলনে আগত দেশী-বিদেশী রাজনৈতিক নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ান।

এরপর ১০টা ১৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এরপর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদের উপস্থাপনায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

দুপুর একটা ২২ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শুরু করেন। দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠানকালীন সময় তৃণমূলের সব নেতার অবদানকে স্মরণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না। এ দেশের প্রতি ঘরেই জ্বলবে আলো। সরকার হতদরিদ্রের হার ১২ ভাগের নিচে নামিয়ে এনেছে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না।

তিনি বলেন, ২০৪১ সালে ৮ থেকে ১০ ভাগের ওপর প্রবৃদ্ধি নিয়ে যাবে সরকার। মাথাপিছু আয় এমনভাবে বাড়ানো হবে, যাতে বাংলাদেশের মানুষ দরিদ্র না থাকে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হবে। প্রতিটি মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কোনো ঘর অন্ধকারে থাকবে না, প্রতি ঘরে আলো জ্বালব। শত ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে।

‘আমরা চাই সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের নেয়া গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এভাবেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে চাই। প্রবৃদ্ধি আমরা ৭ দশমিক একভাগে উন্নীত করেছি। কিন্তু এখানেই আমি থেমে থাকতে চাই না।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশেকে আমরা বিশ্বের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ। সে কারণেই ঘোষণা দিয়েছি জিরো টলারেন্স টু টেররিজম। টেররিজমকে আমরা কখনো প্রশ্রয় দেব না। এরমধ্যে আমরা সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারবে না। প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবার জন্য আমাদের ভূখণ্ডকে আমরা কাউকে ব্যবহার করতে দেব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।

দক্ষিণ এশিয়া হবে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু বন্ধনের দেশ হিসেবে হবে ‘শান্তিপূর্ণ’ দেশ। তাই আমরা আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নেতা-কর্মীসহ সব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যত নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং সহযোগী নেতা-কর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান হলো, বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। আপনারা যারা আজকে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন, আপনার এলাকায় গিয়ে তালিকা বানান, কতজন দারিদ্র্য মানুষ আছে, গৃহহারা মানুষ আছে, কোন মানুষের ঘর বাড়ি নাই, ঠিকানা নাই। তাদের জন্য আমরা বিনামূল্যে ঘর তৈরি করে দেব। তারা জীবনে যাতে বেঁচে থাকতে পারে। আমরা তার ব্যবস্থা করে দেব। কারণ তারা আমাদের নাগরিক।
আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন। কাজেই জনগণের কল্যাণ করাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা যদি এই কাজ সঠিকভাবে করতে পারি, ইনশা আল্লাহ এই বাংলাদেশে কোনো দরিদ্র্য থাকবে না। দারিদ্র্যর হার ৯৭ ভাগ ছিল। ২২ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে এনেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগ থেকে ৮ হতে ১০ ভাগের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে যাব। এখন প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার। এই আয় এমনভাবে বৃদ্ধি করবো যাতে দেশের মানুষ আর কখনো দরিদ্র না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। দারিদ্রের হার শূন্যের কোটায় নামাব এবং ক্ষুধামুক্ত সমাজ গঠন করবো। প্রতিটি মানুষ শিক্ষিত হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টির জন্য ১৪৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ৫৫ লাখ মানুষ ভাতা পাচ্ছে। অনগ্রসর হিজড়া, বেদে, হরিজনদের ভাতা দেয়া হচ্ছে। চা শ্রমিকদের অনুদান দেয়া হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃষক যাতে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি মানুষও যাতে না খেয়ে কষ্ট পায়, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে শুধু ভাতা দিলেই চলবে না। ক্ষুদ্রঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয় চালু করা হয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয়, মোবাইল ফোন অথবা অনলাইনে তথ্য পেতে ৪৯৯টি কৃষি তথ্য যোগাযোগকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাঁচ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক করা হয়েছে। তারা বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা যেন ঋণ নিতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে গতিশীল করা। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। টেররিজমকে কখনোই আমরা প্রশ্রয় দিব না। বাংলাদেশের মাটি, এ দেশের ভূখণ্ড সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না।

ঐতিহ্যবাহী দলটির সম্মেলনকে ঘিরে আজ কয়েক দিন ধরেই এই উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীজুড়ে। নগরের বিভিন্ন জায়গায় রং–বেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। অনেক জায়গায় তৈরি করা হয়েছে ব্যানার। এ সম্মেলন উপলক্ষে পুরো নগরীতে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

সম্মেলন উপলক্ষে কানায় কানায় পরিপূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদচারণে মুখরিত।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4487653আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 5এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET