থমকে দাঁড়িয়েছে বৃদ্ধা আসমা বেগমের জীবন গাড়ী, ছাগল পালন করেই ৪০বছর জীবন যাপন করে আসছিলেন লালমনিরহাট জেলা হাতিবান্ধা উপজেলার আছমা বেগম, বয়স প্রায় ৬৫ হাতীবান্ধার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবী গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডে বাড়ি।
২৫ বছর বয়সের মধ্যে দুবার বিয়ে হলেও সন্তান না হওয়ার কারনে দুইবারেই সংসার ভেঙ্গে যায় তার। এরপর আর সংসার গড়েনি আসমা। প্রতিজ্ঞা করেন আর জীবনে বিয়ে করবেন না। তাই দিনমজুর ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন আছমা। এরপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে জমানো টাকায় সেসময় দুইটা ছাগল কিনে পালন করতে থাকেন। আর এই দুইটা ছাগল থেকেই পরবর্তিতে ১৫-২০ টা ছাগল পর্যন্ত হয়েছিল আছমার। এই ছাগল লালন পালন করেই চলতেছিল আছমার সংগ্রামী জীবন। পাড়াপড়শি সকলেই জানায় আছমা তার ছাগলগুলোকে নিজের সন্তানের মতো করে লালন পালন করতো। প্রত্যেকটা ছাগলকে সে আলাদা আলাদা নামে ডাকলেই সাড়া দিতো, তার নির্দেশনা মানতো। কিন্তু অভাব অনটনে সঙ্গে যুদ্ধ করে মাঝে মধ্যেই অনেক ছাগল বিক্রি করতে করতে কমতে থাকে আছমার ছাগল।
বছরখানেক পূর্বে যেন আকাশ ভেঙ্গে পরার মতো বিপদ আসে আছমার। অজানা এক রোগে ১০ টি ছাগল পর্যায়ক্রমে মরে যায় অসহায় আছমার। আর এর কিছুদিন পর স্ট্রোক করেন এই বৃদ্ধা। শুরু হয় জীবনের উপর কালবৈশাখী ঝড়। দীর্ঘদিন রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসা করে এখন নিঃস্ব আছমা।
বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল দিনমজুর ভাইয়ের বাড়িতে অন্যের সাহায্য করা একটা টিনের ঘরে জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোনমতে থাকতে পারলেও কিভাবে সামনের দিনগুলো কাটবে তা জানেনা এই বৃদ্ধা। এখন মাত্র দুটি ছোট ছাগল আছে তার। ঘরের চৌকির একপাশেই ছাগলের থাকার জায়গা এবং আরেকদিকে ভাইয়ের পালন করা একটা গরু থাকে। এখনো তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হলেও টাকার অভাবে মাঝেমধ্যে ওষুধ কিনতেও পারেনা। আছমা আরো জানান “স্ট্রোক করার পর থেকে আর তেমন কাজকর্ম করতে পারিনা, হাত পা অবস হয়ে যায়, মাথা ঘুরে পড়ে যাই। এখন ছাগলও নেই যে চলবো, বাকি দিনগুলো কিভাবে চলবো জানিনা। “
(সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের তাকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছি। যোগাযোগ- 01773851102-তার ভাই)
Please follow and like us:









