৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের কারণেই এত প্রাণহানি: এরশাদ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ০৬ ২০১৬, ০৪:০১ | 689 বার পঠিত

jatio_party_(3)_11997_1462469887 নয়া আলো-

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হওয়ার কারণেই এত প্রাণহানি ঘটছে। সংঘর্ষ এখন গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামে ভাই ভাইয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আজ নির্বাচনের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন নির্বাচন আমরা চাইনি। এ নির্বাচন কেন দলীয়ভাবে হচ্ছে, তা বুজতে পারছি না।
বৃহস্পতিবার পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এরশাদ এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও বক্তৃতা করেন। পরে তারা একে অপরের উদ্দেশে কবিতা আবৃতি করে শোনান।
অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, এখন রাষ্ট্রদূতদের কথা প্রধানমন্ত্রীর কথার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। এটা উচিত না। কোনো দেশে এটা হয় না। কারও সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন নেই। আগে এক সময় সাহায্য দরকার ছিল। এখন আর দরকার নেই। আমাদের সমস্যা আমরা নিজেরাই সমাধান করব। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। যুদ্ধ করে এ দেশ অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন মুক্তমনা বলে একটা কথা বলা হয়। আমি বাংলার ছাত্র। এই মুক্তমনা জিনিসটা আসলে কি, তা আমি বুঝি না।
সভায় রওশন এরশাদের উপস্থিতি নিয়ে এরশাদ বলেন, উনি আসাতে দল প্রাণবন্ত হয়নি, নেতাকর্মীরা খুশি হয়নি? দলে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এটা আমি স্বীকার করি। সব বিভেদ ভুলে গিয়ে আমরা এখন এক হয়েছি। যেহেতু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই, তাই পার্টিও শক্তিশালী হয়েছে। এখন আর বাইরে কেউ নেই। আমরা সবাই এক।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, আমার স্ত্রী বলেছেন, আমরা আর কারও সঙ্গে যেতে চাই না। নিজেরাই শক্তিশালী হব। কারণ, দুর্বলদের কেউ টানে না। উনি (রওশন) বলেছেন, যারা দল ছেড়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে। কয়েকজন ছাড়া বাকি কারও ব্যাপারে আমার আপত্তি নেই। একজনকে ফিরিয়ে এনেছি। তার কাছে ক্ষমাও চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা হরতাল ও আগুন দেয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা ভালোবাসা দিয়ে জনগণের মন জয় করতে চাই। অতীতেও জাতীয় পার্টি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালীন ভালোবাসা ও উন্নয়ন দিয়ে জনগণকে উন্নত সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছে।
এরশাদ বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের আগামী ১৪ মে জাতীয় পার্টির ৮ম জাতীয় সম্মেলন সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, মহাসচিব (হাওলাদার) চাল-গমের বিষয়ে কথা বলেছেন। উনার এ কথাটা ঠিক না। আমরা এদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত। চাল-গম আমাদের জন্য নয়। এসময় দলের সবাইকে আর্থিক সহযোগিতা করতে মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রওশন এরশাদ মহাসচিবকে উদ্দেশ করে বলেন, চেয়ারম্যান এবং কো-চেয়ারম্যানকেও (জিএম কাদের) সাহায্য করতে হবে আপনার।
তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের এ পর্যন্ত আমরা কিছু দিতে পারিনি। দূর-দূরান্তের নেতারা আমাদের নাগাল পায় না। অতীতে পার্টি নিয়ে অনেক বেশি বিভক্তি হয়েছে। যা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, এটা আমার নির্দেশ।
দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, জাতীয় সম্মেলনে প্রমাণ করব জাতীয় পার্টিই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি বলেন, জাতীয় সম্মেলনে জাতীয় পার্টির জন্য এক সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূর্য উদয় হবে। তিনি সবাইকে সম্মেলন সফল করার জন্য সর্বাত্মকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম হাবিব দুলাল, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, গোলাম কিবরিয়া টিপু, আলহাজ সাহিদুর রহমান ট্যাপা, অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, ফখরুল ইমাম এমপি, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, এসএম আবদুল মান্নান, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট মহাসিন রশীদ, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সোলায়মান আলম শেঠ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আনম শাহজাহান, রিন্টু আনোয়ার, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক খান, মো. নুরুল আমিন শানু, আনোয়ার চৌধুরী জীবন, আলহাজ আবদুস সাত্তার মিয়া, অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এমপি, নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি, মাহবুবুর রহমান বাচ্চুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।
একে অপরকে কবিতা শোনালেন এরশাদ-রওশন :
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার স্ত্রী রওশন এরশাদকে ‘আলোর মিছিল’ আখ্যায়িত করে তাকে একটি কবিতা শুনিয়েছেন। জবাবে স্বামী এরশাদকেও কবিতা শুনিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ও দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা চলাকালে এরশাদ ও রওশন একে অপরকে কবিতা শোনান। সভায় রওশন এরশাদ বক্তব্য দিয়ে উঠে যাচ্ছিলেন। এমন সময় স্ত্রীর হাত ধরে এরশাদ বললেন, ‘কোথায় যাচ্ছ? আমি তোমার জন্য একটি কবিতা লিখেছি। কবিতাটা শোন।’
এরপরই তিনি রওশনকে ‘আলোর মৌমাছি’ নামে নিজের লেখা কবিতাটি পড়ে শোনান।
কবিতা শেষে এরশাদ বলেন, ‘রওশন আমার আলোর মিছিল।’
স্বামীর কবিতা শুনে রওশন এরশাদ বলেন, ‘তিনি (এরশাদ) যেহেতু আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন। আমিও তাকে একটি কবিতা শোনাব।’
এরপরই রওশন এরশাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতাটি পড়ে শোনান।
এসময় উপস্থিত দলের নেতাকর্মীরা তাদের করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান।
এর আগে ১ মে শ্রমিক সমাবেশে শ্রমিকদের কবিতা শুনিয়েছিলেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। বক্তব্যের মাঝে তিনি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘মেথর’ কবিতার প্রথম চার লাইন আবৃত্তি করে শোনান। ওই সমাবেশে এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমার হৃদয় আজ আনন্দে ভরপুর। উনি (রওশন এরশাদ) আসাতে আমি খুব খুশি।’

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4658963আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 13এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET