১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

দুদকে মানুষের আস্থা কম: টিআইবি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৮ ২০১৬, ০৩:৩৭ | 645 বার পঠিত

26247_f5নয়া আলো ডেস্ক-আইনগতভাবে দুদক স্বাধীন থাকলেও এর কার্যকারিতা খুবই কম। তুলনামূলক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর দুদকের কঠোর ভূমিকা রয়েছে। তবে সরকারি দলের নেতাকর্মীর প্রতি কিছুটা সহনশীল। এক্ষেত্রে জনগণের আস্থার মানদণ্ডের বিচারে সর্বনিম্নে অবস্থান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সার্বিকভাবে দুদকের অবস্থান মধ্যম স্তরে রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ উদ্যোগ: বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সালের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি চালানো হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসা ফলাফল অনুযায়ী, দুদক নিয়ে আশার সঞ্চার রয়েছে বলে উল্লেখ করে টিআইবি। তবে এই মুহূর্তে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা দুদকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে সংস্থাটি।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিক বিবেচনায় দুদক মধ্যম স্কোর পেয়েছে। ১০০-এর মধ্যে দুদকের স্কোর ৬১ দশমিক ২২ শতাংশ। ৫০টি নির্দেশকের ওপর গবেষণা করে এই স্কোরটি নির্ণয় করা হয়েছে বলে জানায় টিআইবি। এর মধ্যে ২১টি নির্দেশকে উচ্চ স্কোর পেয়েছে দুদক। ১৯টিতে মধ্যম এবং নয়টিতে নিম্ন স্কোর পেয়েছে সংস্থাটি। জনগণের ধারণা সূচকে দুদক সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে। এই সূচকে দুদকের স্কোর ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর সর্বোচ্চ পেয়েছে ‘আইনি স্বাধীনতা ও অবস্থান’ সূচকে। এই সূচকে স্কোর ৭৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা রয়েছে। জনগণের আস্থায় না যাওয়ার অন্যতম কারণ এটি। অভিযোগ দায়ের করার ক্ষেত্রেও প্রবেশ্যতা সহজ নয়। এছাড়া কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দুদকের জন্য বরাদ্দ দেয়া বাজেটেও রয়েছে অপ্রতুলতা। বাজেটের এই স্বল্পতার কারণে দুদক কার্যকর হতে পারছে না। পর্যবেক্ষক, জবাবদিহি বা তদারকির ক্ষেত্রেও দুর্বলতা রয়েছে সংস্থাটির।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের গ্লাসটা অর্ধেক পূর্ণ। আমরা এটাকে অর্ধেক শূন্য বলতে পারি না। এখানে আশার সঞ্চার করার সুযোগ রয়েছে। তবে ২৮টি সূচকে আমরা মধ্যম এবং নিম্নে অবস্থান করছি। এখানে আবার উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি করলে আইনের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেয়া সম্ভব। এই বার্তাটি মানুষের কাছে এখনো পৌঁছায়নি। মানুষের ধারণা অনুযায়ী, দুদক আস্থার জায়গাটা অর্জন করতে পারেনি। দুদকের আইনি কাঠামোটা খুবই ভালো। কিন্তু যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।
এক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিবেদনের কিছু সুপারিশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেট আরো বৃদ্ধি করার দিকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুদককে অনেক বেশি শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ব্যবস্থা করতে হবে ভালো প্রশিক্ষণেরও। এছাড়া কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মামলা তদন্তের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। কারণ, যারা দুর্নীতি করেন, তারা অনেক বেশি স্মার্ট। এছাড়া দুদকের কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরির জন্যও সুপারিশ করেন তিনি। পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন আছে বলেও মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে দুদক ভালো স্কোর পেয়েছে, সেগুলো ধরে রাখা দুদকের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ। এমন কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করা যাবে না, যাতে এখন যে স্বাধীনতা রয়েছে, সেটা খর্ব হয়। আবার এমন আইন সংশোধন করতে হবে, যেটা এই স্বাধীনতাকে আরো সমৃদ্ধ করে। তিনি বলেন, কোনো দেশেই এককভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কমিশন। দুদক কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তার সঙ্গে সম্পূরক অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হয়। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, জাতীয় সংসদসহ সব প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না, যদি আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দুদকের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজ না করে। দুদক কতখানি কার্যকর হতে পেরেছে, সেটি নির্ভর করে বিচারিক প্রক্রিয়া কতখানি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে, তার ওপর।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, এ প্রতিবেদনটি কিছুটা নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিলো। এখানে প্রচণ্ড নেতিবাচক অবস্থান নেই। কিছু কিছু ইতিবাচক দিক ও নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা থেকে আমাদের সামনে তাকানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। আজকাল আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে যে অবস্থা দেখা যায়, সে তুলনায় দুদক অনেক বেশি আশাবাদী করে তুলেছে আমাদের। তারপরও কিছু উদ্বেগের বিষয় কিন্তু রয়েছে। একদিকে আমরা বলছি, অভিযোগ এলে তা তদন্তে দুদকের সদিচ্ছা রয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ নিয়ে আসার ক্ষেত্র প্রবেশ্যতা সহজ নয়। তাহলে অভিযোগ আসবে কিভাবে।  তিনি বলেন, জনগণের আস্থার জায়গায় দুদক সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আমরা দেখছি অনেককেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারপর একটা পর্যায়ে দেখা গেছে, তাদের কিছুই হচ্ছে না। এই কারণেই তো জনগণের মধ্যে বিশ্বাসটা আসছে না। এটা কিন্তু সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। মানুষের মধ্যে একটা মরিয়া ভাব চলে আসে। পুলিশকেও পিটিয়ে ফেলছে মানুষ। মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। কখনো কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকে সমর্থন দিচ্ছে। পিটিয়ে মেরে ফেলার একটা সংস্কৃতি চালু হয়ে যাচ্ছে। যে যার ওপর রাগ হচ্ছে, তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। দুর্নীতি দমনের সঙ্গে এটার কিন্তু একটা সরাসরি যোগ আছে। সমাজে যদি দুর্নীতি প্রতিরোধ না হয়, দুর্নীতি দমন যদি আইনি প্রক্রিয়ায় না হয়, তখন মানুষের জীবনযাত্রায় একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেজন্য দুর্নীতি দমন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির গবেষক সালাউদ্দিন আমিনুজ্জামান ও ড. সুমাইয়া খায়েরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4659679আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 3এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET