৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

ধর্ষক শনাক্তে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষা করবে সিআইডি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ১৮ ২০১৬, ০১:০৫ | 664 বার পঠিত

tonu_20078-450x300 কুমিল্লা প্রতিনিধি- ডিএনএ রিপোর্টে সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রমাণ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সিআইডি। তারা এখন ধর্ষক শনাক্তে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএনএ প্রতিবেদনে মোট চার জনের প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একটি তনুর রক্তের। বাকি তিনটি প্রোফাইল আলাদা তিনজনের। পরীক্ষায় এই তিন জনের শুক্রাণুর আলামত পাওয়া গেছে। এখন এই ধর্ষকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে সিআইডি। তারা সন্দেহভাজনদের তালিকা করে নমুনা সংগ্রহের কাজে হাত দিয়েছেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তনুর শরীর থেকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে।
কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে গত ২০শে মার্চ রাতে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। এর আগে তদন্তকারী সংস্থা ডিবি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গত ৩০শে মার্চ মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে পুনরায় তনুর লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয় এবং ডিএনএ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিআইডি জানায়, ডিএনএ পরীক্ষায় ৪ জনের প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একটি তনুর এবং অন্যগুলো ৩ ব্যক্তির। হত্যার আগে ঘাতকরা তনুকে ধর্ষণ করেছিল। ওই ৩ ব্যক্তির প্রোফাইলের সূত্র ধরে মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর থেকে সিআইডি এ পর্যন্ত যাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে প্রাপ্ত নমুনা ম্যাচ করতে টপ প্রায়োরিটি দিয়ে তাদের বাছাই কাজ শুরু করেছে। সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিকদের জানান, ছোট্ট একটি বাছাই তালিকা নিয়ে আদালতের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে এবং তনুর ডিএনএ থেকে প্রাপ্ত নমুনার সঙ্গে ম্যাচ করে ঘাতকদের শনাক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এ কাজটি করতে খুব বেশিদিন সময় নেব না। আমরা জাতিকে একটি সুসংবাদ দেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই ভালো সংবাদ দিতে পারবো। এদিকে তনুর প্রথম সুরতহাল ও দ্বিতীয় সুরতহাল রিপোর্টে গরমিল এবং প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যার কারণ উল্লেখ না থাকা ও ধর্ষণের আলামত না পাওয়াসহ ৪৯ দিনেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় মামলার তদন্তে অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে সিআইডিকে।  সিআইডি সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং আদালতের নিকট আবেদন করে ডিএনএ প্রতিবেদন চেয়েছিল। এখন তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সরবরাহ করতে সমস্যা থাকার কথা নয়। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে প্রথম ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ডা. শারমিন সুলতানার কাছে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও সিআইডি’র ডিএনএ প্রতিবেদনে পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত ১০ই মে কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে সপ্তমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়ে তনুর ক্ষুব্ধ বাবা ইয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহী জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। ওই দিন তনুর পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি ঢাকার সিনিয়র বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্‌হার আকন্দের নেতৃত্বে একটি দল। তনুর মা ও বাবা গতকাল মঙ্গলবারও কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এসময় তনুর মা আনোয়ারা বেগম সিআইডি’র ডিএনএ রিপোর্টের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার বাসার সামনে আমার মেয়েকে মারলো। কিন্তু এতোদিন হয়ে গেল এখনও তাদের ধরা গেল না। আমার মেয়েকে যারা ধর্ষণ করে হত্যা করেছে তাদের কঠিন শাস্তি চাই। ডিএনএ পরীক্ষা নিয়ে সিআইডির প্রতিবেদনের বিষয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, আমি চাই তনু হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, সে যে-ই হোক তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হোক।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4409126আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET