২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • ধ্বংসের পথে ঝিনাইদহের নীল কুঠি, হেরিটেজ ভবন হিসাবে টিকিয়ে রাখার দাবি




ধ্বংসের পথে ঝিনাইদহের নীল কুঠি, হেরিটেজ ভবন হিসাবে টিকিয়ে রাখার দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৪ ২০১৮, ০০:২৬ | 930 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ-  ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর নীলকুঠি কৃষক পীড়নের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। জেলার বিজুলিয়া,শৈলকুপা ,জোড়াদহ,মধুপুর,বর্জরাপুর প্রভৃতি স্থানে একদা নীলকুঠি ছিল। একমাত্র খালিশপুর ছাড়া অন্য নীলকুঠিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে খালিশপুর কুঠিও ধ্বংসের দ্ধারপ্রান্তে। হেরিটেজ ভবন হিসাবে টিকিয়ে রাখার দাবি উঠেছে অনেক দিন থেকে।
জানা যায়,এদেশের শাসক ক্ষমতায় ইংরেজরা গেড়ে বসলে বিলেত থেকে দলে দলে সাহেবরা আসতে শুরু করে। তখন নীলের ব্যবসা ছিল লাভজনক। তারা অন্যান্য এলাকার মতো ততকালীন ঝিনাইদহ এলাকায় এসে কুঠি স্থাপন করে। জোর করে কৃষকদের দিয়ে নীল চাষ করাতে বাধ্য করে। তাদেরই এক নীলকর সাহেব কপোতাক্ষ তীরে খালিশপুর ৩১ বিঘা জমির উপর কুঠি স্থাপন করেন। শুরু করে নীল চাষ। দোতলা এ কুঠির চারিদিকে গড়ে তোলা হয় আম, লিচুর বাগান। কালের সাক্ষী হিসেবে কয়েকটি আম লিচুর গাছ এখনো বেঁচে আছে। কুঠিয়াল সাহেবদের অত্যাচারে কৃষকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। তারা বিদ্রোী হয়ে ওঠে। শৈকুপার ষষ্ঠিবরের জমিদার বসন্ত মিত্র কৃষকদের পক্ষনেন। ৩০ গ্রামের কৃষক অত্যাচারী ডাম্বেল সাহেবের বিজুলিয়া নীল কুঠি আক্রমন করে। সাহেব স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে প্রান বাঁচান। নীলবিদ্রোহ জোরদার হলে সাহেবদের অত্যাচারের মাত্রাও বেড়ে যায়। কৃত্রিম নীল আবিস্কার হলে নীল ব্যবসায়ে ভাটা পড়ে। কুঠিয়াল সাহেবগন পাততাড়ি গুটাতে থাকে।
শুধু সাহেবরা নয়, এদেশের কয়েক জন অত্যাচারী জমিদারও নীল চাষ শুরু করে। নীল চাষ উঠে গেলে খালিশপুর কুঠি ফেলে চলে যায় নীলকর সাহেব। এক সময় স্থানীয় কোন জমিদার এর মালিক হন। জমিদার দেশ ত্যাগ করলে কুঠি ও আশপাশের জমি সরকারের মালিকানায় আসে। দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় কুঠিটি আজ ধ্বংসের পথে। শুধু অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। দরজা জানালা লোপাট হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন কুঠি সংস্কার করার দাবি জানিয়ে আসছে। নতুন প্রজন্মের কাছে নীল চাষ ও নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের কাহিনি জানার জন্য খালিশপুর কুঠিটি টিকিয়ে রাখা দরকার বলে স্থানীয়দের দাবি। এ জন্য এলাকাবাসী আন্দোলনও করেছে। আশ্বাস মিলেছে কুঠি সংস্কারের । কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে কুঠির জায়গায় ইকোপার্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসক। পাশে স্থাপন করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্বৃতি যাদুঘর ও লাইব্রেরী এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সরকারী কলেজ।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জানান, খালিশপুরের নীলকুঠি সংস্কারের জন্য প্রতœতত্ব বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছেন, পর্যটনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এখানে একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET