২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বাংলার অগ্রগতি
  • নাঙ্গলকোটে সম্পত্তির লোভেই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয় স্কুল ছাত্র সিফাতকে

নাঙ্গলকোটে সম্পত্তির লোভেই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয় স্কুল ছাত্র সিফাতকে

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১৫ ২০১৬, ১৩:৪৫ | 676 বার পঠিত

nangalkot-comilla-pic-15-10সাইফুল ইসলাম-
নাঙ্গলকোটে স্কুল ছাত্র শাহাদাত হোসেন সিফাতকে (১৬) অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মাথা এবং দেহ দ্বি-খন্ডিতভাবে কেটে নৃশংশভাবে হত্যার ঘটনায় তার মা হাছিনা বেগমের বুক ফাটা আর্তনাদ গত শুক্রবারও যেন থামছেই না। ছেলের জন্য আর্তনাদ করতে-করতে বার-বার মুর্ছা যাচ্ছেন। আত্মীয়স্বজনরা শান্তনা দিয়েও তাকে থামিয়ে রাখতে পারছেন না। গত ৯অক্টোবর রবিবার রাত আনুমানিক ৮টায় কৈরাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সিপনের চা দোকানে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়ে সিফাত নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ৪দিন পর গত ১৩অক্টোবর বৃহষ্পতিবার সকালে কৈরাশ গ্রামের মাহবুবুল হক বিএসসির পুকুর থেকে প্রথমে সিফাতের মাথা এবং পুকুর থেকে ৫০গজ দুরে মাষ্টার শফিকুর রহমানের ধান ক্ষেতের আইল থেকে দেহ উদ্ধার করা হয়। শিফাতের মা হাছিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন-সম্পত্তিই আমার ছেলের জীবনে কাল হলো। সম্পত্তিই আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। হাছিনা বেগম বলেন, দেবর জাহাঙ্গীর আলম সম্পত্তির জন্য প্রকাশ্যে আমার ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করার হুমকি দেয়ার প্রায় দু‘মাস পর আমার ছেলের গলাকাটা দ্বি-খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হলো। তিনি দেবর জাহাঙ্গীর আলম, তার সহযোগী চাচাতো ভাই হারুনুর রশিদ এবং ননদের স্বামী উপজেলার বিঞ্চপুর গ্রামের ইউছুফকে সিফাত হত্যার জন্য দায়ী করে তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন।
শাহাদাত হোসেন সিফাতের লাশ ময়নাতদন্তের পর গত শুক্রবার দুপুর ৩টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সিফাত উপজেলার জোড্ডা ইউনিয়নের কৈরাশ পূর্বপাড়া গ্রামের নুরুল আমিনের দ্বিতীয় ছেলে। তার বড় ভাই শাফায়েত হোসেন শাহেদ। সিফাত জোড্ডা বাজার পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। সিফাতকে হত্যার ঘটনায় তার মা হাছিনা বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সিফাতের মাথা এবং দেহ উদ্ধারের পর থেকে তার চাচা জাহাঙ্গীর আলম সহ তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
সরেজমিনে শাহাদাত হোসেন সিফাতের মা হাছিনা বেগম, এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার জোড্ডা ইউনিয়নের কৈরাশ গ্রামের মফিজুর রহমানের ৫ছেলের মধ্যে নুরুল আমিন সবার বড়। দীর্ঘ ১৬বছর প্রবাস জীবনের পর গত তিন বছর পূর্বে নুরুল আমিন ওমান থেকে দেশে আসেন। ওমানে থাকাকালীন চার ভাইকে বিভিন্ন বিদেশে পাঠান। দেশে ফিরে এসে নুরুল আমিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। বিদেশে থাকাকালীন নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী হাছিনা বেগম নিজেদের নামে এলাকার বিভিন্ন লোকজন থেকে কিছু সম্পত্তি ক্রয় করেন। এতে নুরুল আমিনের উপর ভাইদের হিংসাত্বক মনোভাব সৃষ্টি হয়। এতে করে নুরুল আমিনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম তার পিতা মফিজুর রহমানকে ফুসলিয়ে নুরুল আমিনকে বঞ্চিত করে অন্য চার ভাইয়ের নামে পৈত্তিক সম্পত্তি কবলা করে নেন। এর মধ্যে আবার জাহাঙ্গীর আলমের নুরুল আমিনের ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম তার সহযোগী চাচাতো ভাই হারুনুর রশিদ এবং ভগ্নিপতি ইউছুফ যড়যন্ত্রমূলকভাবে নুরুল আমিনের বিভিন্ন দাগের ক্রয়কৃত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে নেন। এনিয়ে গত প্রায় তিন বছর থেকে জাহাঙ্গীর আলম তার সহযোগীদের নিয়ে এবং তার অপর ভাইদের মাধ্যমে নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী হাছিনা বেগমকে শারিরীক নির্যাতন করে আসছিলেন। কিন্তু নুরুল আমিন এবং হাছিনা বেগম কোন উপায়ন্তর না দেখে জাহাঙ্গীর আলম এবং তার সহযোগীদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে গত রোজার সময় বর্ষাকালে কৈরাশ পূর্বপাড়ায় এসে নিজস্ব সম্পত্তিতে নতুন বাড়ি করেন। পরে জাহাঙ্গীর আলমের দখলকৃত সম্পত্তি নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠক বসলে নুরুল আমিন কিছু সম্পত্তি জাহাঙ্গীর আলম থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আরো ৭শতাংশ সম্পত্তি জাহাঙ্গীর আলম নিজের দখলে রেখে অন্যজনের নিকট বন্ধক দেন। নুরুল আমিন কোনভাবে জাহাঙ্গীর আলম থেকে এ সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারছিলেন না। গত প্রায় দুই মাস পূর্বে জাহাঙ্গীর আলম নুরুল আমিনের ছেলে শাহাদাত হোসেন সিফাত এবং শাফায়েত হোসেন শাহেদকে প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁর দখলকৃত ৭শতাংশ সম্পত্তির আইলে গেলে তাদের মাথা কেটে নেয়ার হুমকি দেন।
শাহাদাত হোসেন সিফাতের মা হাছিনা বেগম বলেন-গত ৯অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় সিফাত কৈরাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শিপনের চা দোকানে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য গিয়ে দু‘বার ঘরে ফিরে আসেন। সে আমার নিকট স্কুলের পরীক্ষার ফি‘র জন্য টাকা দিতে বলেন। পরে সে তার কবুতরকে খাবার দিয়ে তাঁর স্কুল ব্যাগে কাগজ-কলম রেখে সাদা প্যান্ট এবং টিশার্ট পরে খেলা দেখার জন্য আবার বের হয়ে যান। রাত ৩টায় তার বাবা নুরুল আমিন ঘুম থেকে জেগে উঠে বলেন সিফাততো ঘরে আসে নাই। হাছিনা বেগম ধারণা করছেন, সিফাত তার বন্ধু রবিউল, তুহিন এবং পারভেজের ঘরে থাকতে পারে বলে শুয়ে পড়েন। কিন্তু ১০অক্টোবর সোমবার সকাল থেকে বাড়ির আর্শ্বে-পার্শ্বে এবং বন্ধুদের বাড়িতে খুঁজে সিফাতকে খুঁজে পান নাই। পরে গত চারদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খুঁজেও সিফাতকে পান নাই। এর মধ্যে সিফাতের বন্ধুরা ফেজ বুকের মাধ্যমে সিফাতের নিখোঁজের খবর প্রচার করে।
গত ১৩অক্টোবর বৃহষ্পতিবার সকালে কৈরাশ গ্রামের মাহবুবুল হক বিএসসির পুকুরে একটি মানুষের মাথা ভাসতে দেখে বাড়ির মহিলারা চিৎকার করতে থাকেন। এর কিছু দুরে এলাকাবাসী মাষ্টার শফিকুর রহমানের ধান ক্ষেতের আইলে মাথা বিহীন একটি দেহ দেখতে পান। এসময় লাশের মাথা এবং দেহে পচন ধরে। এখবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সিফাতের মামাতো ভাই বিলাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুরে ভাসমান মাথাকে সিফাতের মাথা বলে চিহিৃত করেন এবং ক্ষেতের আইলে পাওয়া মাথাবিহীন দেহও সিফাতের বলে চিহিৃত করেন। এসময় সিফাতের পিঠে এবং হাতে একাধিক চুরিকাঘাতের চিহৃ দেখতে পাওয়া যায় বলে তারা জানান। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ মাথা এবং দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সিফাতের মামাতো ভাই বিলাস সহ এলাকার তার বন্ধুরা বলেন সিফাত খুব ভালো ছেলে ছিল। সে সবার সাথে ভালো ব্যাবহার করতো। নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন-শিফাতের মা হাছিনা বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4728492আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET