১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

নানা সংকটে খুলনার ৫০ ভাগ কমিউনিটি ক্লিনিক

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ০২ ২০১৬, ০১:৫৮ | 772 বার পঠিত

14169739_320911448300223_1710486502_nমেহেদী হাসান ,খুলনা থেকে-  খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৪নং সুরখালী ইউনিয়নে ‘গড়িয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের চারপাশ পানিতে ডোবা। বাইরে থেকে দেয়ালের প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। ছাদ দেবে ফুটো হয়ে গেছে। চারপাশ নোংরা আবর্জনায় ভরা।’ নেই বিদ্যুৎ-খাবার পানি এমনকি বাথরুমেরও ব্যবস্থা। বর্ষার সময় ছাদ থেকে পানি পড়ে। এভাবেই চলছে ওই কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবা। গত ৪-৫ মাস ধরে স্থানীয় ‘শতদল যুব সংঘ’ নামক একটি ক্লাব ঘরে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। ক্লাবটির চারপাশে বেড়া, উপরে টিন, নেই খাবার পানি ও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা। ঘরটিও খুব ছোট। কোন বয়স্ক রোগী আসলে গরমে এখানে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেবল বটিয়াঘাটায় নয়, খুলনার দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলায় রয়েছে নানা সংকট। এই ৩টি উপজেলায় স্থাপিত ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিকেই নেই বিদ্যুৎ, খাবার পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। কয়েকটি উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নদীর ভাঙনে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় ক্লাবঘর ও নদীর পাড়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে খুলনার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো রোগীদের কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। সমস্যায় ভরপুর এ ক্লিনিকগুলো। জোড়াতালি দিয়ে চলছে গরীবদের জন্য তৈরি হওয়া এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা, জবাবদিহিতার অভাব ও মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনার বতর্মান সিভিল সার্জন ডাঃ এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। বিষয়টি শুনলাম। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মিটিংয়ে বসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাব। ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আমি নিজেই পরিদর্শন করবো। তিনি বলেন, এইসব ক্লিনিকগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে চলছে। তাই বেতনটা কখনও কখনও অনিয়মিত হতে পারে।
দিঘলিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আতিয়ার রহমান শেখ জানান, উপজেলার কমিউনিটিগুলো জন্মলগ্ন থেকে মেরামত করা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা সেনহাটি ইউনিয়নে বাতিভিটা কমিউনিটি ক্লিনিক পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বতর্মানে সেখানে স্থানীয় একটি ক্লাবে চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম চলছে।ফলে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
দিঘলিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আফজাল হোসেন জানান, দিঘলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ‘দেয়াড়া কহিনুর কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও নিয়মিত না খোলার অভিযোগ রয়েছে। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা যেখানে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে সেখানে স্বাস্থ্য সেবা কি আশা করা যায়। দিঘলিয়ার সুগন্ধি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাদিয়া আফরিনা সুমা বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে বাথরুম, খাবার পানি ও বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। আমরা মেয়ে মানুষ কি অবস্থায় আছি তা বলে বোঝাতে পারবো না। নিয়মিত বেতন পরিশোধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয় তিনি অস্বীকার করেন। প্রতিদিন গড়ে তার এখানে ৩০ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র মতে, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কার্যকর করার জন্য মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর কাজের সমন্বয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। জেলার প্রায় সকল উপজেলার জনসাধারণের অভিমত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর সঙ্গে ইউনিয়নে ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও সমন্বয় খুবই দুর্বল। ক্লিনিকগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বা ভূমিকা তেমন চোখে পড়ে না।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের সূত্রমতে, জেলায় চালুকৃত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ১৯৭টি, আর প্রস্তাবিত ক্লিনিকের সংখ্যা ছিল ২২৫টি, আর স্থান নির্ধারণ আছে ২১১টি। বর্তমানে ফান্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকায় এ বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশু জন্মের পরবর্তী এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ পান করানো, ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান চালু রাখা, ৬ মাস থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের সম্পূরক খাদ্য ও নরম জাতীয় খাবার খাওয়ানো, শিশুকে খাওয়ানোর পূর্বে মায়ের হাত ভালো করে ধুয়ে নেওয়া, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত প্রতি ৬ মাস অন্তর শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো, আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারসহ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করেন।
সূত্র মতে, খুলনার দিঘলিয়া, রূপসা ও বটিয়াঘাটা এই তিন উপজেলায় ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু থাকলেও তার ৫০ ভাগের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ নেই, ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে, মেঝের অবস্থাও নাজুক। এর মধ্যে দিঘলিয়া উপজেলার ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৩টির নাজুক অবস্থা। এর মধ্যে সেনহাটি ইউনিয়নের বাতিভিটা কমিউনিটি ক্লিনিকটি ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জুঙ্গসিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, বামনডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক, আমবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, রাধামাধবপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, গাজীপাড়া চন্দনীমহল কমিউনিটি ক্লিনিক, সুগন্ধি কমিউনিটি ক্লিনিক, দক্ষিণ চন্দনীমহল কমিউনিটি ক্লিনিক, মধ্য চন্দনীমহল কমিউনিটি ক্লিনিক, বিদ্যাবাগিশপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, দেয়াড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, ফরমাইশখানা কমিউনিটি ক্লিনিক, আড়ুয়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও পানিগাতি কমিউনিটি ক্লিনিকে বাথরুম, ছাদ ও ফ্লোর একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা। রূপসা উপজেলার ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিদ্যুৎ, বাথরুম, টিউবওয়েল অকেজো, মেঝে ও দেয়াল ফাটল ধরে বসে গেছে। ক্লিনিকগুলো হচ্ছে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নে চন্দনশ্রী কমিউনিটি ক্লিনিক, টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নে দক্ষিণ খাজাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক, মৈশাঘুনি কমিউনিটি ক্লিনিক, নৈহাটি ইউনিয়নে রামনগর কমিউনিটি ক্লিনিক, জাবুসা কমিউনিটি ক্লিনিক, রহিমনগর কমিউনিটি ক্লিনিক, নিকলাপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, বাগমারা কমিউনিটি ক্লিনিক, ঘাটভোগ ইউনিয়নে আলাইপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, দক্ষিণ বামনডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক, পাথরঘাটা কমিউনিটি ক্লিনিক, আইচগাতী ইউনিয়নে যুগীহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকি ও দুর্জনীমহল কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে গড়িয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক, বুনারাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক, রায়পুর কমিউনিটি ক্লিনিক ও সুন্দরমহল কমিউনিটি ক্লিনিক খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানান ৪নং সুরখালী ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাকে বলে তা ওই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গেলে মানুষ বুঝতে পারবে। এর মধ্যে গড়িয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের গড়িয়াডঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের (সিএইচসিপি) শান্তনা গোলদান জানান, ২০১২ সালে তিনি যোগদান করার পর ওই ক্লিনিকটি করুণ দশা দেখছেন। রিপোর্ট করে কোন লাভ হয় না। মেরামতও করা হয় না। এখন অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ছোট্ট একটি ক্লাবঘরে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আগের ৩০ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো এখন ২৬ প্রকার ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।
ফুলতলা কমিউনিটির ক্লিনিকের সিএইচসিপি মানষ টিকাদার বলেন, ৩০ প্রকার ওষুধের পরিবর্তে ২৬ প্রকার ওষুধ গত মাস থেকে দেওয়া শুরু করেছে। যার মধ্যে ৪টি ওষুধের মধ্যে ২টি ওষুধের রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, ভিটামিন এ ক্যাপসুল। তারা প্রতি ৪ মাস অন্তর দুই কার্টন ওষুধ পায়। যা সাধারণ রোগীদের চাহিদা তুলনায় কম। অনেক সময় ওষুধ না থাকলে করার কিছু থাকে না, রোগীদের বেশি কথা শুনতে হয়।
রূপসা উপজেলায় মাস্টার অমর বিশ্বাস কমিউনিটি ক্লিনিক দেখা গেছে বন্ধ। গত ১৭ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খোলে ১০টার দিকে আবার বন্ধ করে দেয় ১২টার মধ্যে। কোন দিন ১-২টার দিকেও বন্ধ করে। কিন্তু অফিসের নিয়মানুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সাধারণ রোগীদের সেবা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপিরা তা মানছেন না।
আলাইপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোঃ আঃ জলিল জানান, তার ক্লিনিকের ছাদ থেকে পানি চুঁয়ে পড়ে। ফ্লোর ফেটে মাটি বেরিয়ে আসছে। নেই টিউবওয়েল। বিদ্যুৎ বিলও আমাদেরই পরিশোধ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে বতর্মান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ফান্ড তৈরির জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সেই মোতাবেক কমিটির সাথে আলোচনা করে রোগীদের কাছ থেকে গত ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২ টাকা হারে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হচ্ছে। রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ উদয় বরন মণ্ডল জানান, বতর্মানে তার উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেহাল অবস্থা। কয়েক বছর ধরে ছাদ থেকে পানি পড়ে। সংস্কার না হাওয়ায় কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর উদ্যোগ নেয়। আর সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ১৯৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসব ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। তার ৫০ ভাগও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সেবাদানকারীদের অনুপস্থিতির কারণে অধিকাংশ ক্লিনিক বিধিমত কাজ করছে না। আর জবাবদিহিতার কোনো বালাই নেই। সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু থাকার কথা। কিন্তু কোন কোন ক্লিনিকে বেলা ১টার পর ছাড়া সেবাদানকারীদের দেখা মেলে না। এগুলো যাদের দেখার দায়িত্ব তাদেরও নেই যথাযথ মনিটরিং। বর্তমান সিভিল সার্জন ডাঃ এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর খুলনা অঞ্চলের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সম্পর্কে প্রাক্কলন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যেসব কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা খুব খারাপ তার তালিকা নিয়ে ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শিগগির প্রাক্কলন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর সবুর জানান, তার ইউনিয়নের ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের জন্য অর্থ দিতে হয়। ওই টাকা তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ক্লিনিকে সার্ভিস চার্জের কথা বলে। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, তার এলাকায়ও দুই টাকা করে কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, “ক্লিনিকগুলোতে প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের সেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীদের মধ্যে যারা ক্লিনিকে আসেন, তারাও সময় মানেন না। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর সঙ্গে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও সমন্বয় খুবই দুর্বল।”
ক্লিনিকগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণ বা ভূমিকা চোখে পড়ে না। স্থানীয় মানুষের দান করা জমিতে কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেছে সরকার। অনেক উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে ক্লিনিকে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ধানের জমিতে, নদী ও খালের পাড়ে, নিচু জমিতে ক্লিনিক হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিচু জমিতে ও যাতায়াতের অযোগ্য জায়গায় বহু ক্লিনিক তৈরি হয়েছে। এ কারণে এগুলো সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কার্যকর করার জন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর কাজের সমন্বয়ের কথা বলা হলেও ওই তিন উপজেলায় তা দেখা যায়নি।

 

 

 

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4751412আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET