৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

না বলা কথা-আল রায়হান রানা

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৩ ২০১৬, ০৪:৫৯ | 816 বার পঠিত

না বলা কথা (১ম অংশ)13884396_1759283334314324_1141205063_n

আল রায়হান রানা

সন্ধ্যা প্রায়। চারদিকস্থ আধারে

লুকানোর চিরন্তন চেষ্টায়।

নির্জন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছোট্ট খুকি

আকাশ দেশে থাকিয়ে আছে।

কি যেন খুঁজে ফিরছে তারাদের মেলায়!

মলিন মুখে নেই একফোঁটা হাসি।

কি জানি এমন ভাবনা নিয়ে ব্যস্ত সে।

পিছন থেকে বাবা এসে ঝড়িয়ে ধরে খুকুমণিকে বলতে লাগলো

মা তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো আর আমি সারা বাড়ি তোমায় খুঁজে মরি।

খুকুমণির কোন উত্তর নাপেয়ে বাবা মেয়ের মুখের দিকে তাকাতেই অবাক।

মা তুমি কাঁদছো?

মেয়ে:  না বাবা আমার চোখে আজ পানি নেই। দুচোখে চর পড়েছে।

বাবাঃ মা তুমি এভাবে বলছো কেন ? কি হয়েছে বলো ?

মেয়েঃ বাবা তুমি বলেছিলে আম্মু নাকি দুর আকাশে তারা। আমাকে খুব ভালোবাসে তাই প্রতি রাতে আমায় দেখতে আসে।

আমি কেন আম্মুকে দেখতে পাই না বাবা ?

বাবাঃ আচ্ছা মা এখন যদি তোমার আম্মু তোমার কাছে ফিরে আসে তুমি তাকে ফিরে যেতে দিবে ?

মেয়েঃ না বাবা কখনোই না।

বাবাঃ তোমার আম্মু জানে তুমি আম্মুকে খুব ভালোবাসো। যদি তুমি তাকে দেখার পর কাছে পেতে চাও তাই তোমায় দেখা দেয় না।

মেয়েঃ আচ্ছা বাবা আমু তারার দেশে কি করে ? তারা হলো কেন আম্মু ?

এমন কি কাজ যে আমার কাছে আসতে পারবে না ?

বাবাঃ জানো মা যখন পৃথিবী আধারে ঢেকে যায় তখন তারা হয়ে তোমার আম্মু ধরণীতে আলো ছড়ায়। পৃথিবীর রূপ আরো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলে।

আর তারা মানে একটি প্রদীপ যা দিয়ে রাতের ঘন আধারেও তোমায় খুঁজে পায়। আর তোমার আম্মু তার সাথে যারা প্রদীপ নিয়ে স্বজনদের খুঁজে ফিরে তাদের সাহায্য করে।

যেন তোমার মতো করে মিষ্টি মামনিকে হারাতে নাহয়। মা বলো এত ব্যস্ততায় কি আম্মু আশা ঠিক ?

মেয়েঃ ঠিক না তবুও বাবা আমার জন্য কি আম্মুর মমতা নেই ? জানো বাবা কাল রাতে আমি একটি দেখেছিলাম।

বাবাঃ কি স্বপ্ন মা আমাকে শুনাবে না ?

মেয়েঃ বাবা আমি অচেনা একটি দেশে ঠিকানাহীন পথে হারিয়ে গিয়েছিলাম। যেখানে কোন মানুষের গন্ধ নেই। চারদিক তুষারাবৃত বড়বড় গাছপালা ঘিরেছে। ভয়ে আমি কাঁদতে শুরু করলাম।

হঠাৎ একজন সাদা পোশাক পরা মহিলা আমার সামনে এসে বসে। আমার হাতটি ধরে জিজ্ঞাস করে,”মামনি তুমি কাঁদছ কেন ?

তোমার কি হয়েছে ?

আমি প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম। দেখলাম মহিলার মুখে খুবই মিষ্টি হাসি। আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি শুনে সে হাসতে লাগলো।

আমাকে বুকে জড়িয়ে বললো “মামনি এখানে কেউ হারায় না। এটা পরপার তারার দেশ। এসো তোমাকে আজ পুরো জগত ঘুরে দেখবো।

“”তারপর উনি আমাকে বড় বড় তারার মেলা দেখালেন,বহু স্থান ঘুরালেন আর সব শেষে আমায় নিয়ে তার কুটিরে গেলেন।

কত সুন্দর করে সাজানো কক্ষ তার। বাবা জানো সেখানে গিয়ে দেখি তার গৃহের প্রতিটি দেয়ালে বড় করে আমার ছবি লাগানো।

ছবিগুলো ফুল দিয়ে সাজানো আর সামনে প্রদীপ জালিয়ে রেখেছে।

আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম “আচ্ছা আন্টি তোমার ঘরে আমার ছবি এত সুন্দর করে সাজানো কেন ?

উনি মুখ মলিন করে আমায় বলতে লাগলো “মামনি এটা তোমার ছবি মনে হয় বটে তবে এই ছবিটি আমার লক্ষী ছোট্ট খুকুমণির।

খুকুমণি  আমার কাছ থেকে অনেক দুরে থাকে। তাকে আমি সারা দিনরাত ভাবি।

খুব ভালোবাসি তাই তার ছবি আমি সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছি।”আমি বললাম আচ্ছা আন্টি তোমার মেয়ে কোথায় থাকে ?

তুমি তাকে তোমার কাছে নিয়ে আসতে পারো না ? আন্টি আমায় বলে”মামনি আমার মেয়ে ভবের দেশে থাকে তার বাবার কাছে।

এখানে একা একা সে কি করবে বলো ? সেখানে তার বাবার সাথে খুবই ভালো আছে।

আমি চাইনা সে আমার কাছে এসে নিজের স্বাধীনতা ও খুশি হারিয়ে ফেলুক।এখানে তার কোন খেলার সাথী নেই অথচ ভবে তার অনেক খেলার সাথী আছে।

“আমি জানতে চাইলাম উনার মেয়ের কথা কি মনে পড়ে না?

কষ্ট হয় না তারে ছাড়া থাকতে?উনি আমার দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থেকে কেঁদে ফেললেন।

আমাকে কুলে নিয়ে প্রশ্ন করেন যে “তোমার কে কে আছে শুনি? “আমি বললাম আমি আমার আব্বু।

উনি বলেন কেন তোমার আম্মু নেই? আমি বললাম না নেই। আমি খুব ছোট যখন আমার আম্মু তারার দেশে চলে এসেছে।

আম্মু প্রতি রাতে আমায় দেখে প্রদীপ জালিয়ে অথচ দেখা করে না।আন্টি বলেন”তুমি কি তোমার আম্মুকে দেখোনি?তার কথা মনে পড়ে না? জানো আব্বু কেন যে তখন আমার চোখে পানি এসে যায় আন্টির কথা শুনে।

 আমি আমার আম্মুকে দেখিনি জানিনা আম্মু দেখতে কেমন?

আব্বু আমার খুব ইচ্ছে করে আম্মুকে কাছে পেতে,তার হাতে ভাত খেতে,স্নেহ ভালোবাসা পেতে,আমার বান্ধবীদের আম্মুরা তাদের কত আদর করে।

 স্কুলে নিয়ে যায়, পার্কে নিয়ে যায়, খেলা করে আরো কত কি। আমার কি মন চায় না বাবা আম্মুকে আম্মু বলে ডাকতে?

আম্মুর কুলে মাথা রেখে ঘুমোতে।বাবা ও বাবা আমি তার কাছে হেলার পাত্রী বাবা। কেন আম্মু আসে না?আমায় ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় না?বাবা ও বাবা আম্মু কি আর কোন দিন আমায় খুকুমণি বলে ডাক দিবে না?

ছোট্ট মেয়েটির মুখের কথা শুনে বাবা একদম নিস্তব্ধ। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

নিজের অজান্তে চোখের কোণে পানি জমে যায় তার।মেয়েকে কি বলবে সে কোন উত্তর নেই আজ এই সব প্রশ্নের।

মামনি তোমাকে সব বলবো আগে বলো তুমি তোমার তারার দেশের আন্টিকে কি বলেছিলে?বাবার মুখে অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন শুনে মেয়েটি আবারো বলতে শুরু করলো”আমি আন্টিকে বলেছিলাম আমার আম্মু নেই।

যেহেতু আমার বাবা আমাকে মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি তাইলে আমার বাবাই আমার আম্মু।আর আম্মুকে খুব মনে।জানি না আম্মু দেখতে কেমন!আচ্ছা আন্টি তুমি আমার একটি কাজ করে দিবে?আন্টি বললো হে দিবো।বলো কি কাজ?আমি বললাম আন্টি আমার আম্মু নাকি তারার দেশে থাকে।তুমিও এখানেই থাকো।

আমার আম্মুকে খুঁজে দিবে?বাবা বলেন আম্মু নাকি তারাদের সাহায্য করে।তুমি পারবে না আম্মুকে বের করতে?আন্টি কেন যে আমার কথা শুনে নিরবে কাঁদতে থাকে।আমি আরো বলেছি যদি আম্মুর দেখা পায় যেন আমার এই কথাগুলো তাকে বলে – আমি আম্মুকে খুব ভালোবাসি,তাকে ছাড়া আমি আর থাকতে পারি না।আমার কি কোন ভুল হয়েছে?আমিতো ছোট আমার ভুল যেন আম্মু ক্ষমা করে দেয়।

আন্টি আমাকে কি ভেবে যেন বুকে জড়িয়ে বললো মামনি তোমাকে তোমার আম্মু খুব ভালোবাসে।সেও তোমাকে ছাড়া থাকতে পারে না হয়তো আল্লাহ চান তিনি তোমার থেকে দুরে থাকুক।আর মামনি মনে রেখো দুরে থাকা মানে এই নয় আম্মু তোমাকে ভালোবাসে না।এর মানে এই সে তোমাকে হারাতে চায় না।যেন প্রতিটা সময় তোমার সে চোখে চোখে রাখতে পারে তাই তারার দেশে এসেছে।তোমার কথা আমার খুব মনে পড়বে। তোমার বাবা খুব ভালো।আমি জানি সে তোমায় মায়ের অভাব বুঝতে দিবে না।”আর কিছু কথা কি যেন বলেছিলো মনে নেই।আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো।

আচ্ছা বাবা আম্মু দেখতে কেমন ছিলো?বাবা আম্মু কি ভাবে হারালো?

বাবাঃ মামনি এটা অনেক বড় কাহিনী। পড়ে একদিন বলবো।

মেয়ে : না বাবা।তুমি এখন বলো বলতে হবেই। বাবাঃ তোমার মামনি খুব বড় ঘরের মেয়েছিলো।তোমার নানুভাই ছিলো জমিদার। উনার অনেক সম্পত্তি ছিলো।আর তোমার দাদুভাই ছিলো সামান্য সরকারি চাকুরীজীবি।এটাই বড় দোষ ছিলো মা কেন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিলাম।

মেয়ে: বাবা আম্মুকে তুমি কোথায় দেখেছিলে বলো না।আম্মু কেন তারার দেশে গেলো বলো না বাবা……..

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4657885আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET