৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

নড়াইলে এফসিডিআই মৎস্য চাষ প্রকল্পে পুকুর চুরি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জলাঞ্জলি

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০১ ২০১৬, ২০:৩০ | 645 বার পঠিত

BD_Narail_District_locator_map.svgউজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরূদ্ধে এফসিডিআই (বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প এলাকায় এবং অন্যান্য জলাশয়ে সমন্বিত মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-চতৃর্থ পর্যায়) মৎস্য চাষ প্রকল্পে ঘুষ.দুর্নীতি,অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হরিপদ মন্ডল’র ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে এ প্রকল্পের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জলাঞ্জলি যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এফসিডিআই (চতুর্থ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে পুনঃ খননকৃত ৮টি প্রকল্পে মাছ ছাড়া ও পুনঃ খনন কাজে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

৮টি প্রকল্পের মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ২টি, লোহাগড়া উপজেলায় ২টি এবং কালিয়া উপজেলায় রয়েছে ৪টি প্রকল্প। কালিয়া উপজেলার ৪টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে টাকিমারা বদ্ধখাল জলমহল পুনঃ খনন, পাটেশ্বরী-তালতলা বদ্ধ খাল পুনঃ খনন, পাটেশ্বরী বরোপিট পুনঃ খনন ও পেড়লী উত্তরপাড়া বরোপিট পুনঃ খনন। লোহাগড়া উপজেলার প্রকল্প ২টি হলো-ইতনা ইউনিয়নের মালেকের বাড়ি হতে জলিল মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত ওয়াপদার বরোপিট পুনঃখনন ও শালনগর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস হতে আপিল গেট পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরোপিট পুনঃ খনন। সদর উপজেলার প্রকল্প ২টি হলো- বাসগ্রাম ইউনিয়নের কালী নদী খাল জলমহল পুনঃখনন ও শাহাবাদ ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি খাস পুকুর পুনঃখনন। জেলার মোট এই ৮টি প্রকল্পে মাছ ছাড়া, মাছের খাদ্য ক্রয় ও চুন দেয়া বাবদ ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পেলেও তিনি নিজের পছন্দের ১৪ নং পাচগ্রাম ইউনিয়নের টাকিমারা বদ্ধখাল পুনঃ খনন প্রকল্পের উপ-দলনেতা মোঃ রেজাউল ইসলাম খসুরু মোল্যার সহিত যোগসাজশে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকার মাছ ও খাবার বাবদ ব্যয় করিয়া বাকি সমুদয় টাকা লোপাট করেছেন। কোন প্রকল্পে নামমাত্র মাছ ছেড়েছেন,আবার কোন প্রকল্পে মাছ ছাড়েননি বলে জোর অভিযোগ।

প্রকল্প সমুহে জাল বিতরনের জন্য বরাদ্দকৃত ১লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও তিনি কোন প্রকল্পের সুফলভোগিদের নিকট কোন জাল হস্তান্তর করেননি। জেলার ৮টি প্রকল্পে পুনঃ খনন কাজে বরাদ্দকৃত ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রত্যেক প্রকল্প হতে শতকরা ৮ ভাগ টাকা তিনি একাই ঘুষ হিসেবে গ্রহন করেছেন। তাছাড়া প্রত্যেক প্রকল্পের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকতা শতকরা ৪
ভাগ করে টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি পরস্পর যোগসাজশেই হয়েছেবলেজানান প্রকল্পের দলনেতারা।কালিয়া উপজেলার পেড়লী উত্তরপাড়া বরোপিট পুনঃ খনন প্রকল্পের দলনেতা সালেহা পারভিন ও পাটেশ্বরী-তালতলা বদ্ধ খাল পুনঃ খনন প্রকল্পের দলনেতা মনামিয়া এবং এ উপজেলার অপর ২টি প্রকল্পের দলনেতারা জানান, মাছ ছাড়ার সময় প্রত্যেক প্রকল্পের দলনেতা, উপ-দলনেতা ও সুফলভোগিদের নিয়ে প্রকাশ্যে মাছ ছাড়ার কথা থাকলেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তা করেন নি। জুন মাস চলে গেলেও মাছ ছাড়া হচ্ছে না কেন? তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট দলনেতারা অফিসে যোগাযোগ করলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন ১ জুলাই মাছ ছাড়া হয়েছে। মাছ ছাড়ার সময় তার দাপ্তরিক দু’জন কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারি পরিচালক এনামুল হক ও ক্ষেত্র সহকারি ছায়া রায় উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কেউই উপস্থিত ছিলেন না।

এমনকি এ ব্যাপারে তারা কোন ভালো তথ্যও দিতে পারেন নি। বিধায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সুফলভোগিরা মাছ ছাড়ার বিষয়ে পরিস্কার ধারনা পেয়ে গেছেন।তাঁর অফিসের এক কর্মচারী জানান, তিনি কাউকে না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে অতি গোপনে গত ১ জুলাই নাম মাত্র মাছ ছেড়েছেন। একইভাবে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি লোহাগড়ার দু’টি প্রকল্পে নামকা ওয়াস্তে মাছ ছেড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন লোহাগড়ার শালনগর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস হতে আপিল গেট পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরোপিট পুনঃ খনন প্রকল্পের দলনেতা নাজমুল ইসলাম ও অন্যান্যরা। সদরের বাসগ্রাম ইউনিয়নের কালী নদী খাল জলমহল পুনঃখনন প্রকল্পে কোন মাছই ছাড়েননি বলে অভিযোগ করে জানান বাসগ্রামের এ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আব্দুল হান্নান। সদরের নয়নপুর সরকারি খাস পুকুর পুনঃ খনন প্রকল্পে ২ কেজি মাছও ছাড়া হয়নি। সে কারনে সুফলভোগিরা নিজেদের টাকায় বেশ কিছু মাছ ছেড়েছেন বলে জানান। মাছ ছাড়ার নাটক করে তিনি ৮টি প্রকল্পে এ বাবদ বরাদ্দকৃত সিংহভাগ টাকাই আত্মসাৎ করেছেন বলে সুফলভোগিদের অভিযোগ।

ফলে মৎস্য চাষের সহিত জড়িত সুফল ভোগিগন সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হওয়ার কথা থাকলেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সহ অসাধু কর্মকর্তাবৃন্দের ঘুষ দুর্নীতির কারনে সে উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে।ক্ষতিগ্রস্থ প্রকল্পের দলনেতা, উপ-দলনেতা ও সুফলভোগিরা যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতি পরায়ন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হরিপদ মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে তথ্য দিতে না চাইলেও পরে তথ্য দিতে গিয়ে সদরের বাসগ্রাম ইউনিয়নের কালী নদী খাল জলমহল পুনঃখনন প্রকল্পে মাছ না ছাড়ার কথা ও প্রকল্প সমুহে জাল বিতরন না করার স্বিকার করে বলেন, ব্যস্ততার জন্য জুনে মাছ ছাড়া য়ায়নি। জুলাই মাসে মাছ ছাড়া হয়েছে। বাকি প্রকল্পেও মাছ ছাড়া হবে। ৮ পারসেন্ট ঘুষ গ্রহনের কথা অস্বিকার করে বলেন, এ অভিযোগটি সত্য না।এসব প্রকল্পে ভুল ত্রুটি হলেও তিনি নড়াইলে অনেক ভাল কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4516672আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 11এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET