২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

নড়াইলে কুমার পরিবার বাপ,দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশা জড়িয়ে পড়ছে!

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২১ ২০১৬, ০৫:৫২ | 654 বার পঠিত

mrit-209161উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি-
নড়াইলে বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছরে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি মৃৎ শিল্পের। প্রয়োজনীয় অর্থভাবে নড়াইলে কুমার পরিবার গুলোর নেই কোন আধুনিক মেশিন ও সরঞ্জাম। কুমার সম্প্রদায়ের হাঁড়ী-পাতিল ও কলশী সহ মৃৎ শিল্প তৈরী করতে প্রধান উপকরণ হচ্ছে এটেল মাটি, জ্বালানী কাঠ, শুকনো ঘাস ও খড়।এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ভিত্তিতে জানা যায় বিভিন্ন নড়াইলে জেলায় পালপাড়া নাম ধারণ করে মৃৎশিল্পের সাথে জড়িয়ে ছিল কিছু হিন্দু পরিবার। তারা এলাকায় কুমার বা পাল নামেও অধিক পরিচিত। অভাব অনটনের মধ্যে ও হাতে গোনা কয়েক জন বাপ-দাদার পেশা আকড়ে ধরে আছে। তাদের অবস্থা অনেকেরই শোচনীয়। কিছু মৃৎশিল্পী এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, কেউ তাদের খোঁজ-খবর নেয় না, কেউ জানতে চায় না, তাদের সুখ-দুখের খবর। তারা জানায়, হাড়ি-পাতিল ও অন্য সব জিনিস পত্র তৈরি করতে কাঁচা মাল এঁটেল মাটি আমাদের গ্রামের পার্শ্ব দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন নদী থেকে সংগ্রহ করা যেত। বর্তমানে নদী ভরাটের কারণে নদী থেকে আর মাটি তোলা হয় না।তাই পাশের গ্রাম থেকে টাকার বিনিময়ে মাটি কিনে আবার ভ্যান যোগে আনতে হয়। হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মাটির জিনিস তৈরী করে রোদে শুকিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে ব্যবহার যোগ্য করে সেগুলো জেলা-উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে, হাট বাজারে বিক্রি করা হয় একসময় মাটির তৈরি ও বহুমাত্রিক ব্যবহারের এ শিল্পটির প্রায় সকল মহলেই কদর ছিল। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ শিল্পের মালামাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও সরবরাহ করা হত। গরিব থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্ত, পরিবারগুলোর মধ্যে এর কদর ও ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মত। সূর্য উঠার সাথে সাথে কুমাররা মাটি দিয়ে তৈরি পাতিলের বোঝাই ভার নিয়ে দলে দলে ছুটে চলত প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায়। পাতিল, গামলা, কুপি বাতি,থালা, যাতা, দুধের পাত্র, ভাপাপিঠা তৈরির কাজে ব্যবহৃত খাঁজ, গরুর খাবার পাত্র, কুলকি, ধান-চাল রাখার বড় পাত্র, কড়াই, কুয়ার পাট, মাটির ব্যাংক, শিশুদের জন্য রকমারি নকশার পুতুল, খেলনা ও মাটির তৈরি পশু-পাখি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত এবং পণ্যের বিনিময়ে ধান সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় ধান বোঝাই ভার নিয়ে ফিরে আসতো বাড়িতে। ওইসব ধান বিক্রি করে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনত। কিন্তু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগীতার অভাবে আজ এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। কয়েকজন মৃৎশিল্পী স্ংবাদিকদের কাছে বলেন, সরকার থেকে স্বল্পশর্তে ঋণ পেলে তাঁরা হয়তোবা এ পেশা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে দাবি করেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4654392আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 0এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET