১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

নড়াইলে টিআর প্রকল্পের কাংক্ষিত সেবা কাজির গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : আগস্ট ০২ ২০১৬, ০০:০৩ | 650 বার পঠিত

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি- নড়াইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে অল্প খরচে দায়সারা কাজ করে বাকি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের টাকার বিপরীতে উপজেলার পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের চোরখালি গ্রামের চারটি পরিবারকে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল দেয়া হলেও তা কাক্সিক্ষত মানের হয়নি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই চার পরিবারে টিআর থেকে ২৯ হাজার ২০০ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী ইডকল অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সৌরবিদ্যুতের উপকরণাদি সরবরাহ করার কথা থাকলেও পিআইও অফিস কমদামি ও নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ করেছে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট দফতর এ অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ওই চারটি পরিবারের দুইটিকে ৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ দিয়েছে। জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নড়াইল-২ আসনের এমপি শেখ হাফিজুর রহমান পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের চোরখালি গ্রামের স্বপন ব্যানার্জি, সমীর কুমার বিশ্বাস, প্রদীপ ম-ল ও কওসার শেখের নামে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য টিআর প্রকল্প থেকে ২৯ হাজার ২০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেন। বরাদ্দের এ টাকা দিয়ে পিআইও অফিস গ্রিন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় বাজার থেকে নিম্নমানের সৌরবিদ্যুতের উপকরণাদি সরবরাহ করেছে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ৫০ ওয়াট প্যানেলের সঙ্গে ৫০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি দেয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি সৌর সিস্টেমের সঙ্গে ৪০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি দেয়া হয়েছে। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা। প্রকল্পের সুবিধাভোগী স্বপন কুমার ব্যানার্জি ও কওসার শেখ বলেন, আমাদের সৌরবিদ্যুতের যে প্যানেল দেয়া হয়েছে তাতে বেশি সময় আলো জ্বলে না। আবেদন করার সময় পিআইও অফিস আমাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে খরচ বাবদ নিয়েছে। সৌরবিদ্যুুতের প্যানেল স্থাপনের সময় ওই অফিস ৫ হাজার টাকা করে আমাদের দুইজনকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। একই প্রকল্পের সুবিধাভোগী সমীর কুমার বিশ্বাস ও প্রদীপ ম-ল বলেন, আমাদের যে উপকরণ দেয়ার কথা তা দেয়া হয়নি। আমরা কোনো টাকাও পাইনি। এমপির প্রতিনিধি সমীর (কার্তিক) আমাদের কাছ থেকে ভোটার আইডিকার্ড নিয়ে টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। প্রকল্পের সুবিধাভোগী চার পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২৮ হাজার ৭০০ টাকা মূল্যের সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি ৫ হাজার টাকা করে প্রদানে কোনো অনিয়ম হয়নি। নগদ ৫ হাজার টাকা ও সৌর প্যানেল স্থাপনের খরচ ২৮ হাজার ৭০০ টাকাসহ মোট খরচ হয়েছে ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা। বরাদ্দ ২৯ হাজার ২০০ টাকার বিপরীতে ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা কেন বা কোথা থেকে খরচ করলেন প্রশ্ন করলে তিনি তাৎক্ষণিক নগদ টাকা দেয়ার কথা অস্বীকার করেন। সোলার প্যানেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি জানতে চাইলে প্রথমে পিআইও সোলারেন ফাউন্ডেশনের নাম বলেন। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমরা গ্রিন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি কোম্পানি থেকে এ উপকরণ সরবরাহ করেছি। গ্রিন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের লোহাগড়া ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আজাদ বলেন, সঠিক কথা বললে সমস্যা হতে পারে। তাই কিছু বলা যাবে না। সোলার সিস্টেম বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি সিস্টেম ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। গ্রিন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের অধীনে লোহাগড়ায় কোনো ব্রাঞ্চ আছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আমিনুল হক বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে একটা প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত জায়গায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারে না। আমরা মোট ৮৬টি ব্রাঞ্চ পরিচালনা করছি। তার মধ্যে নড়াইল জেলায় কোনো ব্রাঞ্চ নেই। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হাফিজুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে নগদ টাকা দেয়ার কোনো নিয়ম নেই।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4524499আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET