২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • নড়াইলে ধর্মের নামে জিআর প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

নড়াইলে ধর্মের নামে জিআর প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১২ ২০১৬, ১১:১৮ | 641 বার পঠিত

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি-
নড়াইলের জিআর প্রকল্প থেকে ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞের আহার্যের জন্য বরাদ্দকৃত ৩,৩৯১ মেট্রিক টন চাল যার মূল্য প্রায় নয় কোটি উননব্বই লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত আটানব্বই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে এসব অর্থ লোপাটের ঘটনা ফাঁস হওয়ায় এলাকার জনগনের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্যর ভিতিতে জানা জায় সূত্র মতে, জেলা প্রশাসক নড়াইলের ত্রাণ শাখার পত্র নং ৬০২ তারিখ ২৯,০৬,২০১৬ইং এর ৩৮৫টি প্রকল্পের অনুকূলে ১,০৮০ মে: টন, জেলা প্রশাসক নড়াইলের ত্রাণ শাখার পত্র নং ৬০৩, তারিখ ২৯-০৬-২০১৬ইং এর ৪৭৫টি প্রকল্পের অনুকূলে ১,৪২৫ মে: টন, জেলা প্রশাসক নড়াইলের ত্রাণ শাখার পত্র নং ৬০৪ তারিখ ২৯-০৬-২০১৬ইং এর ১০০টি প্রকল্পের অনুকূলে ৩০০ মে: টন, জেলা প্রশাসক নড়াইলের ত্রাণ শাখার পত্র নং ৬০৭, তারিখ ২৯-৬-২০১৬ইং এর ২৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে ৫৩৬ মে: টন, জেলা প্রশাসক নড়াইলের ত্রাণ শাখার পত্র নং ৬১৬, তারিখ ২৯-০৬-২০১৬ইং এর ২৫টি প্রকল্পের অনুকূলে ৫০ মে: টন সর্বমোট ৩,৩৯১ মে: টন চাল যার অর্থমূল্য (সরকারী হিসাবে) ৯,৮৯,৪২,৫৯৮- (নয় কোটি উননব্বই লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত আটানব্বই) টাকা আত্মসাৎ করেছে ৪/৫ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের দেবী গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র আশিকুর রহমান বলেন, নলদী গোডাউন বিলি আদেশ মারফত জানতে পেরেছি আমাদের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নে জিআর প্রকল্পের অধীনে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞ মিলে মোট ১’শ ২২টা প্রকল্পে ২৯৮ মে: টন বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করা হয়েছে। আমি আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানাদির খোজ খবর রাখি। কিন্তু উল্লেখিত প্রকল্প গুলি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এই ধরনের কোন ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞ উল্লেখিত স্থানে অনুষ্ঠিতই হয়নি, আহার্য প্রদানের কোন প্রশ্নই ওঠে না। নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় লোকজন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে শতভাগ নিশ্চিত যে প্রকল্পগুলো অস্তীত্বহীন, প্রকল্পে উল্লেখিত স্থানসমূহের অধিকাংশে ওয়াজ মাহফিল বা নামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হওয়ার বাস্তবতা নেই। কিছু ্র প্রকল্পের নামের মধ্যেই অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রকল্পে উল্লেখ আছে, রায়গ্রাম মিত্র বাড়ির দূর্গা মন্দিরের সামনে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল এবং এর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বাসুদেব কুমার পাল। দূর্গা মন্দিরের সামনে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়া যেমনি অবাস্তব তেমনি এর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিন্দু সস্প্রদায়ের লোক হওয়ারও নজির নেই আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়। অনুরূপ ভাবে, গন্ডব ধনী বাড়ির জামে মসজিদের সামনে নামযজ্ঞানুষ্ঠান নামীয় প্রকল্পে জামে মসজিদের সামনে যেমন নামযজ্ঞ হবে না তেমনি অবাক ব্যাপার এই যে, ঐ গ্রামে একজনও হিন্দু সস্প্রদায়ের লোকের বসতি নেই। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ১৩ জন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলে জানা গেছে, এর মধ্যে ৫ জনের কাছেই প্রথম শুনলেন তিনি কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, বাকি ৮ জন দু’চারদিন আগে বিষয়টি শুনেছেন। তারা কোন চাল উত্তোলন করেন নাই, কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আহার্যের যোগান দেন নাই বা কোন অফিসিয়াল কাগজে স্বাক্ষর করেন নাই। ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: জিয়াউর রহমান জানান, প্রকল্পে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে আমার ওয়ার্ডে কোন ওয়াজ মাহফিল বা নামযজ্ঞ হয়নি। আমার ওয়ার্ডে কাঞ্চনপুর গ্রামে একটি মন্দির আছে। এই একই মন্দিরের বিভিন্ন রকম নাম যেমন কাঞ্চনপুর রামকৃষ্ণ মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, কাঞ্চনপুর বিশ্ব রায়ের বাড়ির মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, কাঞ্চনপুর শ্মশানের সামনে নামযজ্ঞ, কাঞ্চনপুর শ্মশানের কালী মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, কাঞ্চনপুর নাটমন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, কাঞ্চনপুর শিবমন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, কাঞ্চনপুর আশ্রমে নামযজ্ঞ ও কাঞ্চনপুর বিশ্ব হরির মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ উল্লেখ করে একই স্থানে ৮ বারসহ ওই গ্রামে ১২ বার নামযজ্ঞ দেখানো হয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, প্রভাস সরকার, বিকাশ কুমারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তারা প্রকল্পের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এই গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে তারা বলেন, এই মন্দিরের সামনে বছরে এক বার নামযজ্ঞ হয় এবং তা সর্ব সাধারণের স্বেচ্ছাদানের উপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হয়। একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য শরিফুজ্জামান বোরাক বলেন, আমার ওয়ার্ডে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে অনেক জিআর প্রকল্পের কথা শুনেছি। কিন্তু জুন থেকে বর্তমান পর্যন্ত উল্লেখিত স্থানগুলোতে কোন ওয়াজ মাহফিল বা নামযজ্ঞ হয়নি। কলাগাছি মসজিদের সামনে মাঠে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল নামীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো: আজগার মোল্যা বলেন, আমি কিছুই জানি না। আমার নামে জাল স্বাক্ষর দিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। আমি মামলা করব, থানায় মামলা না নিলে আমি কোর্টে মামলা করব। নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুল হক রোম বলেন, এই অর্থ লোপাটের সাথে লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু, লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপজেলার দেবী গ্রামের বেলায়েত খোন্দকারের ছেলে খোন্দকার সাহেব আলী ও নোয়াগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম কালু জড়িত। লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিবৃন্দের স্বাক্ষর সত্যায়িত করেছেন অথচ তারা বলছেন এই স্বাক্ষর তাদের না’ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জুনের ২৯/৩০ তারিখ এই দুই দিনে সব কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুল হয়ে থাকতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে লুটপাটের সাথে জড়িত থাকার সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। লোহাগড়া ইউএনও সেলিম রেজা বলেন, ‘জুন মাসের শেষ তিন দিন তড়িঘড়ি করে সব স্বাক্ষর করতে হয়েছে, যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়নি, ভুল ভ্রান্তি হতে পারে’। জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, ‘আমার প্রতিনিধি হিসাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও এগুলো তদারকি করেন। কিছু অভিযোগ এসেছে আমার কাছে, বিষয়টি নিয়ে আমি এডিসি জেনারেলকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তদনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4662374আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 14এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET