২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

নড়াইলে বিভিন্ন গ্রাম নারীরা সোনালি পাটের আঁশ ছাড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ০৩ ২০১৬, ১৩:৪১ | 645 বার পঠিত

UZZAL ROY PICউজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি-
পাটকে বলা হয় সোনালি আঁশ। সে সময় পাট বাংলাদেশে প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে সারা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা কম থাকায় ও দেশের অধিকাংশ পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাটের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে নড়াইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ মৌসুমে পাট চাষে মে অতী তে উঠছে কৃষকরা। জেলা উপজেলার ॥ আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় পাঠানো তহ্য ও ছবির ভিতিতে জানা জায় বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ নিতান্ত গরিব নারীরা সোনালি পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত কয়েক বছর আবহাওয়ার প্রতিকূলের কারণে এ অঞ্চলে পাট চাষ তেমন একটা ভাল হয়নি। এবার নতুন আশায় সোনালি আঁশখ্যাত পাট চাষে বাম্পার ফলন পেয়ে নারীরাও ঘরে বসে নেই। বিভিন্ন বয়সের নারীরা পাটের বোঝা বেঁধে পানিতে জাগ দেওয়া থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়ানো পর্যন্ত পুরুষের সঙ্গে সমান তালে জীবিকা নির্বাহ করছেন।দেখা হয় মধ্যবয়সী হালিমার সঙ্গে। কথা বলার মধ্যেই জেনে নিই তার ছোট্ট জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। এই ব্যপারে হালিমার আমাদের জানান, অল্প বয়সে বিয়ে হয় আমার। স্বামী ছিলেন পাশের গ্রামেরই এক কৃষকের ছেলে। পৈতৃক পেশাতেই ছিল আমার স্বামী আলী আহম্মদ। অভাবের তাড়নায় সামান্য কৃষিজমি বিক্রি করে বিদেশে যান তিনি। বর্তমানে আমার কোন খোঁজখবর নেয় না স্বামী। আমার চার ছেলে-মেয়ের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে এবং পড়াশোনার খরচ জোগাতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ নিজেকে নিয়োজিত করি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়িয়ে প্রতিদিন আয় করি ২৫০টাকা থেকে ৩০০টাকা। এ রোজগারের টাকা দিয়ে আমার সংসার ভালোভাবেই চলে যায়। শুধু গ্রামের কয়েকশ’ পরিবারের নারীরা পাটের আঁশ ছাড়িয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। এক সময় বন্যার করাল গ্রাসে তাদের ভিটেমাটি বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে নতুন করে জেগে ওঠা চরে তারা কোনোরকমে বসতবাড়ি তৈরি করে জীবনযাপন করছেন। প্রায় জেগে ওঠা চরেই নতুন করে পাট চাষ করে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝা-মাঝি সময়ে পাট কেটে ১০থেকে ১৫দিন পানির নিচে ডুবিয়ে রেখে নিখুঁত হাতে নারীরা পচা পাট থেকে আঁশ ও আলাদা করেন। পাট গাছের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই আঁশই সবচেয়ে মূল্যবান। প্রতি মণ পাট ৫০০থেকে ১হাজার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পাট চাষে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা বিরাট অবদান রাখলেও অধিকাংশ নারী শ্রমিক ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। নারীরা পুরুষের সমান কাজ করেও মজুরি পাচ্ছেন তাদের চেয়ে কম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়িয়ে একজন পুরুষ মজুরি পান ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা আর নারী শ্রমিক পান ২৫০থেকে ৩০০টাকা। তারপরও তারা থেমে নেই। নারীরা পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ভাগ্যোন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছেন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4643562আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 5এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET