১৮ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতল ৮ লক্ষাধিক মানুষের আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসক ৮জন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : অক্টোবর ৩১ ২০১৬, ১৪:২২ | 682 বার পঠিত

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি –
নড়াইলের ৮ লক্ষাধিক জনগনের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে আট জন চিকিৎসক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতলের কার্যক্রম, জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা মারাতœক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য কিছু সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসলে রুগিদের ডাক্তার অভাবে পাঠানো হচ্ছে পার্শ্ববর্তী জেলা যশোহর, খুলনা, মাগুরা অথবা রাজধানী ঢাকায়। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রুগিদের দূর্ভোগ হচ্ছে মারাতœক ভাবে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্যর ভিতিতে জানা যায় হাসপাতালের বিভিন্ন রোগীদের মাঝে খোজ খবর নিয়ে জানা যায়, হাসপাতলে মোট বেড রয়েছে ১০০টি। রুগির ভিড়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১শ জন রোগী বেড আভাবে নিচে ভর্তি থাকে যারা নিচে থাকে তারা কেউ খাবার পায়না। প্রতিদিন হাসপাতলে সাত থেকে আট শত রুগি আউটডোরে চিকিৎসা নেন। তবে একজন রোগীকে কোন ডাক্তাই ২ মিনিটের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা দিতে পারেন না, কারন ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময়ের মধ্যে আউটডোরে একজন ডাক্তারকে প্রতিদিন ২ শতাধিক রোগী দেখতে হয়। সবার জন্য মৌলিক এই সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধ পরিকর হলেও ৮ লক্ষাধিক লোকের জন্য নড়াইলে নেই স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চয়তা । জেলার একমাত্র আধুনিক সদর হাসপাতাল টি ২০০৭ সালে ১০০ বেডে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হলেও আজো তা চলছে ৫০ শয্যারও ঘাটতি লোকবল দিয়ে । অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন, হলেও অন্যদিকগুলোর কোনই উন্নয়ন হয়নি । হাসপাতালের ভিতরে একটি চমৎকার শহীদ মিনার তৈরী হলেও বাইরের লোকদের জন্য তৈরী করা বাথরুমটির খোঁজ নেয়না কেউ । ভিতরের বাথরুমের গন্ধে রোগীরা বেডে থাকতে না পেরে সবসময় ওয়ার্ডে জানালা দরজা বন্ধ করে রাখে রোগীরা। হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনায় ভরা চারিদিক, ড্রেন গুলোতে মশার চাষ হচ্ছে নিয়মিত। আবাসিক মেডিকেল অফিসার এর তথ্য অনুযায়ী ১’শ শয্যার হাসাপাতালে বিশেষজ্ঞ সহ চিকিৎসক থাকার কথা অন্ততঃ ৩৯ জন সেখানে আছেন মাত্র ৮ জন, তা ও আবার নিয়মিত নন । কোন কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সপ্তাহে ২ দিন মাত্র রোগী দেখেন । এছাড়া ৭৮ জন নার্সের মধ্যে আছে ৫৫ জন, আর টেকনিশিয়ান অ্যাসিসট্যান্ট সহ ৪র্থ শ্রেনীর অন্তত ২০৮ জন কর্মচারীর স্থলে আছে মাত্র ৯২ জন । প্রতিদিন হাজার হাজার লোক জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসলে লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে চিকিৎসা নিতে হয় হতভাগ্য রোগীদের । ৩/৪ ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে ও চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যাওয়া রোগীর সংখ্যা কম নয় । অধিকাংশ ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ থাকে বেশীরভাগ সময়ে । আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বেশীর ভাগ রোগীকে স্থানান্তর করে দেয়া হয় যশোর অথবা খুলনার হাসপাতালে । অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের প্যাথলজিতে কাজ করেন মাত্র ১ জন । পরিচিত রোগী ছাড়া কেউই সেবা পায়না হাসপাতালের প্যাথলজীতে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েও বাইরে থেকে পরীক্ষা করে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশী অথচ পরীক্ষা করার জন্য প্রযোজনীয় সকল যন্ত্রপাতি রয়েছে হাসপাতালে। প্যাথলজী আবার বেলা ১২ টার পরে বন্ধ করে দেয়া হয় । অভিযোগ আছে এই হাসপাতালের টেকনিশিয়ানরাই বাইরের প্যাথলজী গুলোতে কাজ করেন। হাসপাতালের আধুনিক যন্ত্রপাতির প্যাথলজী বেলা ১২টার পরে বন্ধ হয়ে গেলে ও ডাক্তার, রোগী আর হাসপালের টেকনিক্যাল কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জমজমাট বিভিন্ন বেসরকারী প্যাথলজী সেন্টারগুলো । রোগীদের অর্থ বাগিয়ে নিয়ে নিজেদের স্বার্থটাই কেবল দেখছেন এসব প্যাথলজীতে কাজ করা সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানরা ।১০০ শয্যার মধ্যে কিছু বেড খালি রাখা হয় ,অসাধু কর্মচারীরা সুযোগ বুঝে দুর থেকে আসা রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেডে জায়গা করে দেন তাদের । প্রতিদিন অন্তত শ’খানেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে । হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি হওয়া এ সকল রোগীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই । স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর হলেও সরকারী দলের ছত্রছায়ায় কিছু ডাক্তার নিজেদের স্বার্থে নার্স ও কর্মচারীদের ব্যবহার করে নিজেদের গন্ডি তৈরী করে অসহায় রোগীদের ডাক্তাদের নিজস্ব ক্লিনিকে টেনে নিচ্ছেন আর জমি বেচে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা, আরএভাবে সর্বশান্ত হচ্ছে গরীব মানুষেরা। সচেতন মানুষ মনে করেন ডাক্তারদের সেবা দেবার মানসিকতা গড়ে না উঠলে ,রাজনৈতিক স্বার্থে চিকিৎসকদের ব্যবহার বন্ধ না হলে কোনদিন ও সাধারন মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা সহজ হবে না। নড়াইলের সচেতন মানুষ দাবী দ্রূত এই হাসপাতলের প্রয়োজনিয় জনবল নিয়োগ দিয়ে নড়াইলের প্রয় ৯ লক্ষ জনগনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হোক ।হাসপাতলের বিভিন্ন অনিয়মের কথা অস্বিকার করে আবাসিক মেডিকেল অফিসার মুন্সি আসাদুজ্জামান দিপু জানান, দীর্ঘ দিন সময় আমরা জনবল সংকটে সাধারন রোগীদের কাংখিত সেবা দিতে পারছিনা। প্রতিদিন একজন ডাক্তার কে অপারেশন থিয়েটর (ওটি) থেকে শুরু করে আউটডোর, জরুরী বিভাগসহ সব জায়গাতেই সেবা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক চেয়ে আমরা বার বার উপর মহলকে লিখিত ভাবে জানালেও তার কোন সুরাহা হয়নি।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4578684আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET