ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিলো ২০০৫ সালের জুন মাসে। সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘ সময়কাল যাবত নতুন কমিটি গঠিত না হওয়ায় স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের মাঝে না ক্ষোভের দেখা মিলে। এরই প্রেক্ষিতে আগামী ১১ মার্চ ছাগলনাইয়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করতে কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল আসবে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানাগেছে। ঐ দিন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দলের উপস্থিতে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠনের লক্ষে সকলের মতামত জানতে চাইবে নেতৃবৃন্দ।
দীর্ঘ সময় পর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠনের সিন্ধান্তের আভাসে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উল্লাস দেখা দিলেও রয়েছে নানান শঙ্কা । তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন বিভিন্ন গ্রুপিংয়ে বিভক্ত থাকায় উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা স্থান পাবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, দলীয় নীতিনির্ধারকদের একক মহলের একক জনকে পছন্দ থাকায় মতবিনিময় সভায় হট্টগোল সহ সংঘাতের সম্ভবনা রয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকদের মাঝে সমন্বয়হীনতার দরুন মতবিনিময় সভায় অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে বলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের শঙ্কা।
নেতাকর্মীদের মাঝে সমন্বয়হীনতা নেই দাবী করে ছাগলনাইয়া পৌর যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। এখানে সংঘাতের কিছুই নেই।
উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মজুমদার আজাদ জানান, সকলের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হবে। ১১ মার্চ মতবিনিময় করে জেলা কমিটি আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দিবে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক পৌর মেয়র আলমগীর বিএ এ বিষয়ে বলেন, আমাদের মাঝে অনৈক্যের দেখা মিলেনি। আশা করি শান্তিপূর্ণ ভাবে মতবিনিময় সভা হবে।
এদিকে ১১ মার্চ ছাগলনাইয়ায় যুবদলের মতবিনিময় সভার বিষয়ে জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নুর আহাম্মদ মজুমদার বলেন, বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এ বিষয়ে আমি পরস্পর জেনেছি তবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় কেউ আমাকে অবহিত করেনি। উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠন সম্পর্কে নুর আহাম্মদ মজুমদার জানান, একটি পক্ষ তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠনের প্রচেষ্টা করছে বলে জেনেছি। যোগ্য ও ত্যাগী নেতারা যদি এ কমিটিতে স্থান না পায় তবে মতবিনিময় সভায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে ১১ মার্চ যুবদলের মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির ৭ সদস্যের মধ্যে যারা ছাগলনাইয়ায় আসবেন তাদের মধ্যে নোয়াখালী যুবদলের সহ সভাপতি মনজুরুল আজিম সুমন প্রতিবেদককে জানান, ছাগলনাইয়ায় দীর্ঘ দিন কমিটি না থাকাতে গ্রুপিং থাকতে পারে। তবে আমরা কারো প্ররোচনায় আহবায়ক কমিটি করবোনা। নেতাকর্মীদের কথা শুনব এবং সকলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করব।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তীর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বের মাঝে কিছুটা জড়তা রয়েছে। তবে ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনে আমরা হাই কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী পদ প্রত্যাশীদের সিভি চেয়েছি । যোগ্যতার ভিত্তিতে আমরা কমিটি গঠন করব।
বহু বছর পর উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনে যদি ত্যাগী ও যোগ্যতা সম্পূর্ণ নেতাকর্মীরা স্থান না পায় এবং যারা দিনে বিএনপি রাতে আ’লীগ এমন ব্যক্তিরা যদি এ কমিটিতে স্থান পায় তাহলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এ কমিটি মানবেনা এবং এমন ঘটনা পরিলক্ষিত হলে মতবিনিময় সভায় সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।









